আলমডাঙ্গায় নির্বাচনি আচরণ বিধি রক্ষায় কঠোরহস্ত আলমডাঙ্গার নারী ইউএনও
জাতীয় নির্বাচন আলমডাঙ্গায় নির্বাচনি আচরণ বিধি রক্ষায় কঠোরহস্ত আলমডাঙ্গার নারী ইউএনও
রহমান মুকুল: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আলমডাঙ্গা উপজেলায় নির্বাচনি আচরণবিধি বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এই কার্যক্রমের নেতৃত্বে আছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পান্না আক্তার। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তিনি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাপূর্ণ রাখতে কাজ করছেন।
নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় ও নিয়মের বাইরে কোনো ধরনের প্রচারণা, মাইক ব্যবহার, পোস্টার টানানো কিংবা বিধিমালায় অননুমোদিত সভা–সমাবেশ আয়োজন নিষিদ্ধ। এসব নিয়ম বাস্তবায়নে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া লাগানো পোস্টার অপসারণ করা হয় এবং নির্ধারিত সময়ের বাইরে মাইক ব্যবহারের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কয়েকটি ঘটনায় আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
প্রশাসনসূত্র জানায়, এসব অভিযানে ইউএনও পান্না আক্তার নিজে উপস্থিত থেকে তদারকি করেন। কোন কোন ক্ষেত্রে সহকারী কমিশনারকে নির্দেশনা দিচ্ছেন। কোনো এলাকায় আচরণ বিধি লঙ্ঘনের খবর পেলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ঘটনাস্থলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে কেউ নিয়ম ভাঙার সাহস না পায়।
সম্প্রতি প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর পেশা নিয়ে জনসভায় কটূক্তি করায় এক নেতাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, নির্বাচন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। এখানে সবাইকে সমানভাবে আইন মানতে হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তার এই অবস্থানের কারণে আলমডাঙ্গায় প্রার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। অনেকেই এখন প্রচারণার বিষয়ে প্রশাসনের সাথে কথা বলছেন এবং নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এতে করে উপজেলার সার্বিক নির্বাচনি পরিবেশ তুলনামূলকভাবে শান্ত রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনি পরিবেশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে। হাটবাজার ও জনবহুল এলাকায় অতিরিক্ত মাইক ব্যবহার কিংবা বিশৃঙ্খল প্রচারণা কম দেখা যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
আলমডাঙ্গা শহরের ব্যবসায়ী সুমন বলেন, “প্রশাসন মাঠে থাকায় সবাই নিয়ম মানছে। এতে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে—এই বিশ্বাস তৈরি হয়েছে।”
নারী ইউএনও হিসেবে পান্না আক্তারের এই দায়িত্বশীল ভূমিকা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। তিনি একদিকে আইন প্রয়োগ করছেন, অন্যদিকে প্রার্থী ও কর্মীদের আচরণ বিধি সম্পর্কে সচেতন করছেন। ফলে প্রশাসনের কঠোরতার সঙ্গে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় দেখা যাচ্ছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আলমডাঙ্গায় প্রশাসনের এই তৎপরতা একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে ভোট হবে শান্তিপূর্ণ, নিয়ম ভেঙে নয়।
আর সেই নিয়ম রক্ষায় দায়িত্বশীলভাবে মাঠে রয়েছেন ইউএনও পান্না আক্তার ও উপজেলা প্রশাসন।
আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের শিক্ষক তাপস রশিদ বলেন, “যারা আচরণ বিধি ভঙ্গ করছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের সামলানো হচ্ছে। এতে জনগণও বুঝতে পেরেছে যে আইন কাজ করছে।
বেশ কিছু এলাকায় পোস্টার ও ব্যানার অনুমোদিত স্থানে না থাকায় তা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে এলাকার পথচারী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ স্বস্তিবোধ করছেন। তারা মনে করছেন, সুষ্ঠু ভোট ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের এই সতর্কতা জরুরি ছিল।
নির্বাচনে আচরণ বিধি কঠোরভাবে মানিয়ে নেয়া এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় আলমডাঙ্গায় এই অভিযান অনেকের কাছেই প্রশংসিত হচ্ছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় আচরণবিধি লঙ্ঘনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা
৭ ঘন্টা আগে
১০ গ্রামের মন্ডল প্রধানদের খানা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ডলী নিলেন আলমডাঙ্গা ডামোশ গ্রামের রেজাউল হক
৭ ঘন্টা আগেএরশাদপুর একাডেমির প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী হাসিনা খাতুনের ইন্তেকাল
১ দিন আগে