যুগ্ন সচিব আবু হেনা মোস্তাফা কামাল ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মাজেদুর রহমানের তৎপরতায় : আলমডাঙ্গা পৌরসভার ১৭ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প সচলের উদ্যোগ
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
যুগ্ন সচিব আবু হেনা মোস্তাফা কামাল ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মাজেদুর রহমানের তৎপরতায় : আলমডাঙ্গা পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্প সচলের উদ্যোগ
প্রায় ১৭ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার আগেই টেন্ডার জটিলতায় আটকে যায়। দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা সেই প্রকল্প এবার সচলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আলমডাঙ্গার কৃতী সন্তান যুগ্ম সচিব আবু হেনা মোস্তাফা কামালের সক্রিয় তৎপরতায় টেন্ডারসংক্রান্ত আইনি জটিলতার সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে। এ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন আলমডাঙ্গার আরেক কৃতী সন্তান অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মাজেদুর রহমান।
পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের সড়ক ও অবকাঠামোগত দুর্ভোগ লাঘবে নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগেই ঠিকাদারি জটিলতায় থেমে যাওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগী হন আবু হেনা মোস্তাফা কামাল। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি তিনি আইনি জটিলতার সমাধানেও সরাসরি উদ্যোগ নেন।
এরই ধারাবাহিকতায় তিনি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মাজেদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সম্প্রতি প্রকল্পের টেন্ডারসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তিনি মাজেদুর রহমানের দপ্তরে গিয়ে আলোচনা করেন। প্রকল্পের নথিপত্র পর্যালোচনা করে মাজেদুর রহমান প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ দেন এবং জটিলতা দ্রুত নিরসনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তাঁর এই উদ্যোগকে স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
যেভাবে আটকে যায় প্রকল্প
আলমডাঙ্গা পৌরসভার নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (আইইউজিআইপি) তৃতীয় ধাপে প্রায় ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। দরপত্রে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। সর্বনিম্ন দরদাতা DCL & MT (JV)-এর প্রস্তাব ছিল ১৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩৮ হাজার ৬০০ টাকা। গত ১৯ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (NOA) দেওয়া হয়।
কিন্তু চুক্তি সম্পাদনের আগে নির্ধারিত ৬৮ লাখ ৯৬ হাজার ৯৩০ টাকা পারফরম্যান্স সিকিউরিটি জমা দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। পরে সময় বাড়ানোর আবেদন এবং আইনগত প্রতিকার চেয়ে ‘নোটিশ ফর ডিমান্ডিং জাস্টিস’ দেওয়ার কারণে প্রকল্পটির পরবর্তী কার্যক্রমও থেমে যায়।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ওই আইনগত নোটিশের ভিত্তিতে উচ্চ আদালতে কোনো রিট হয়নি। ফলে আগের দরপত্র বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বানে আইনগত বাধা নেই বলে মত দিয়েছেন প্রকল্পসংক্রান্ত আইনি পরামর্শক মাজেদুর রহমান। আইইউজিআইপি প্রকল্পের পরিচালকও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এবার পুনঃদরপত্র
পৌর কর্তৃপক্ষ এখন আগের দরপত্র বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর নগর সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্তের পর পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পৌরসভার সচিব রাকিবুল ইসলাম বলেন, সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত পারফরম্যান্স সিকিউরিটি জমা না দেওয়ায় চুক্তি করা সম্ভব হয়নি। পরে আইনগত নোটিশের কারণে কার্যক্রম আটকে যায়। এখন আগের দরপত্র বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বারের প্রস্তুতি চলছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৮ হাজার ৯৫৯ মিটার সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন, ড্রেন ও ক্রস-ড্রেন নির্মাণ এবং ২৭৮টি স্ট্রিটলাইট স্থাপনের কাজ হবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের সড়ক ও ড্রেনেজ সমস্যার পাশাপাশি সড়ক আলোকায়নের ঘাটতিও কমবে।
আবু হেনা মোস্তাফা কামালের এই উদ্যোগে দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে প্রকল্পটি আবার বাস্তবায়নের পথে ফিরছে। আর আইনি দিকটি দ্রুত পরিষ্কার করতে মাজেদুর রহমানের সহযোগিতা প্রকল্পটির অগ্রগতিতে নতুন গতি তৈরি করেছে। এখন পৌরবাসীর প্রত্যাশা—পুনঃদরপত্রের আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করে যেন বাস্তব কাজও শুরু হয়।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও লোকমান হোসেন প্রাইভেট হাসপাতালে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা : দুইটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
১৫ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
১৫ ঘন্টা আগে
দামুড়হুদায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ.লীগ নেতা মামুন গ্রেপ্তার
১৮ ঘন্টা আগে