যৌতুকের বলি আরেক গৃহবধূ! স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে বাবার বাড়িতে আত্মহত্যা, এলাকাজুড়ে ক্ষোভ
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
যৌতুকের বলি আরেক গৃহবধূ! স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে বাবার বাড়িতে আত্মহত্যা
যৌতুক নামক সামাজিক ব্যাধির ভয়াল থাবায় আবারও ঝরে গেল এক তরতাজা প্রাণ। স্বামীর লাগাতার নির্যাতন ও মোটরসাইকেলের জন্য যৌতুকের দাবির চাপ সহ্য করতে না পেরে বাবার বাড়িতে এসে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন সুমাইয়া আক্তার নীলা (২১) নামে এক গৃহবধূ। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের বাদেমাজু গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। আগামীকাল ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
জানা গেছে, বাদেমাজু গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক আহাদ আলীর মেয়ে সুমাইয়া আক্তার নীলার সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে কুষ্টিয়ার ইবি থানার নৃসিংহপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে কাজলের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নীলা বাদল স্মৃতি একাডেমির দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর মেয়ের সুখের আশায় আহাদ আলী জামাইকে নগদ ৫০ হাজার টাকা দেন। এছাড়া জামাইয়ের দাবিতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি মোবাইল ফোনও কিনে দেন। কিন্তু এতেও শেষ হয়নি দাবির তালিকা। পরবর্তীতে মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য নীলার ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে পরিবারের অভিযোগ।
নির্যাতনের কারণে একাধিকবার নীলা বাবার বাড়িতে ফিরে আসলেও স্বামী এসে তাকে আবার নিয়ে যেত। কয়েকদিন আগে আবারও নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, মোটরসাইকেল কিনে না দিলে স্বামী আর তাকে সংসারে নেবে না।
বুধবার সকালে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন নীলা। দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আহাদ আলী বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাঈল বলেন, বাদেমাজু গ্রামে একটি মেয়ে পিতার বাড়িতে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, যৌতুকের মতো অভিশাপ আজও সমাজ থেকে দূর হয়নি। একটি অসহায় পরিবারের মেয়েকে বিয়ের পরও বারবার টাকার জন্য নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা চাই, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
আরেক প্রবীণ গ্রামবাসী বলেন, যৌতুকের জন্য আর কোনো বাবার বুক যেন খালি না হয়, কোনো মায়ের কোল যেন সন্তানহারা না হয়। সমাজের সবাইকে যৌতুকের বিরুদ্ধে একযোগে দাঁড়াতে হবে। যৌতুক দাবি করা যেমন অপরাধ, তেমনি তা মেনে নেওয়াও সামাজিকভাবে নিরুৎসাহিত করতে হবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও লোকমান হোসেন প্রাইভেট হাসপাতালে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা : দুইটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
১১ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
১১ ঘন্টা আগে
দামুড়হুদায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ.লীগ নেতা মামুন গ্রেপ্তার
১৪ ঘন্টা আগে