শীতবস্ত্র বিতরণ তীব্র শীতক্লিষ্ট দরিদ্রদের পাশে উষ্ণতার হাত।।আলমডাঙ্গায় ২৫০ কম্বল দিল “আমরা আলমডাঙ্গার সন্তান”
চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার কনকনে শীতে যখন আলমডাঙ্গার হতদরিদ্র মানুষের জীবন থমকে যাচ্ছে, ঠিক তখনই উষ্ণতার আলো নিয়ে পাশে দাঁড়াল ঢাকায় অবস্থানরত আলমডাঙ্গার সন্তানদের সংগঠন “আমরা আলমডাঙ্গার সন্তান”।
শনিবার, ১০ জানুয়ারি সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতার্ত মানুষের জন্য ২৫০টি কম্বল আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার-র হাতে হস্তান্তর করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এসব কম্বল শীতক্লিষ্ট দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে।
“আমরা আলমডাঙ্গার সন্তান” একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠন। নিজেদের শিকড়ের টানে, মানুষের কষ্ট ভাগ করে নিতে তারা এই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আবু রায়হান, শেখ আমিরুল ইসলাম লিন্টু, রফিকুল হুদা, ডা. মঞ্জুরুল ইসলাম বেলু, সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম রোকন, সাংবাদিক সোহেল হুদা, সাংবাদিক মুর্শিদ কলিন, সাংবাদিক শাহ আলম মন্টু, সাংবাদিক বশিরুল আলামসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
সংগঠনের অন্যতম সংগঠক ও গ্রুপ কো-অর্ডিনেটর আব্দুল্লাহ আল মামুন (সোহেল) মুঠোফোনে জানান, “এই তীব্র শীতে আলমডাঙ্গার শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমাদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদেরসহ সকল শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও সামাজিক উন্নয়নমূলক আরও নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়ার আশাবাদ রাখছি।
ঢাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও আলমডাঙ্গার সন্তান মীর আব্দুল মতিন চৌধুরী স্বপন (মোবাইলফোনে) বলেন, “আলমডাঙ্গা শুধু জন্মভূমি নয়, এটি আমাদের আবেগ, আমাদের পরিচয়। দূরে থাকলেও মানুষের কষ্ট আমাদের ছুঁয়ে যায়। শীতে একটি কম্বল যেমন শরীর গরম রাখে, তেমনি মানুষের মনে আশাও জাগায়। এই উদ্যোগ তারই একটি ছোট্ট প্রয়াস।”
‘সুইট এগ্রোভেট’-র স্বত্বাধিকারী মঞ্জুরুল হুদা বলেন, “সমাজ এগিয়ে যায় তখনই, যখন সামর্থবানরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। আমরা আলমডাঙ্গার সন্তান হিসেবে নিজেদের জায়গা থেকে যতটুকু পারি, ততটুকুই করার চেষ্টা করছি। এই ভালোবাসা আর দায়বদ্ধতার পথ আমরা থামাতে চাই না।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার বলেন, “আলমডাঙ্গা–চুয়াডাঙ্গা এলাকা বর্তমানে মাঝারি ও মৃদু শৈত্যপ্রবাহের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ভোগে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় কেবল সরকার নয়, সমাজের সামর্থবান মানুষ ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অবহেলা করে কোনো সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয়। ‘আমরা আলমডাঙ্গার সন্তান’ সংগঠনের এই মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
তিনি আরও বলেন, এমন উদ্যোগ সমাজে মানবিকতা জাগ্রত করে এবং ভবিষ্যতে আরও মানুষকে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করে। আলমডাঙ্গার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাওয়া কিছু মানুষ “আমরা আলমডাঙ্গার সন্তান” ব্যানারে একত্রিত হয়ে সুখে-দুঃখে আলমডাঙ্গার মানুষের পাশে থাকার যে অঙ্গীকার করেছেন—এই কম্বল বিতরণ কর্মসূচি তারই এক বাস্তব ও অনন্য উদাহরণ।"