সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
১৭ বছর ভিন্নমতের চিকিৎসকদের বঞ্চিত করা হয়েছিল | বর্তমান সরকারে আশাবাদী রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন যে, বিগত ১৭ বছর ধরে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে চিকিৎসকদের নানাভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে তাদের কর্মজীবনে পদোন্নতিসহ বিভিন্ন সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছেন।
তিনি বলেন, অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ছাত্রজীবনে হয়তো ছাত্রদল করেছেন অথবা তৎকালীন সরকারি দলের সমর্থক ছিলেন না। এই কারণে তাদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি অথবা চাকরি পেলেও পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছে। দিনের পর দিন তাদের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফেলে রাখা হয়েছিল। এই অবস্থা গত ১৭ বছর ধরে চলে আসছে।
শনিবার (১৮ জুলাই, ২০২৬) বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রিজভী এসব কথা বলেন।
রিজভী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন চিকিৎসক যদি ভালো হন এবং রোগীদের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ হন, তাহলে তাকে কেন বাদ দেওয়া হবে? তার যোগ্যতাকে কেন অবমূল্যায়ন করা হবে? এমন অজ্ঞতার কারণে দেশে ‘ব্রেন গেইন’ হচ্ছে না, বরং মেধার অপচয় হচ্ছে এবং দেশের সর্বনাশ হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিগত ১৭ বছরে এমনও দেখা গেছে যে, পরিবারের কোনো সদস্য অন্য দল করার কারণে অনেক মেধাবীর পদোন্নতি হয়নি। ডা. রফিক, ডা. লোহানী, ডা. জাহাঙ্গীর, ডা. শাকিলসহ আরও অনেক চিকিৎসককে তিনি চেনেন, যাদের প্রমোশনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, প্রকাশনা এবং অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তারা মেডিকেল অফিসার হিসেবেই থেকে গেছেন।
রিজভী বলেন, যদি ‘৫ই আগস্টের পরিবর্তন’ (সম্ভবত সরকার পরিবর্তন) না হতো, তাহলে এই চিকিৎসকদের কেউই সহকারী অধ্যাপক বা অধ্যাপক হতে পারতেন না, তাদের সেই পরিচয়ই আসত না। এমন পরিস্থিতিতে তাদের মতো ভালো ডাক্তাররা অধ্যাপক বা সহকারী অধ্যাপক হওয়ার জন্য যে পড়াশোনা ও গবেষণা করেছেন, তার কোনো মূল্যই থাকতো না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এভাবে বিভিন্ন খাতের মতো এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটিকেও, যা সরাসরি মানুষের জীবন-মরণ নিয়ে কাজ করে, নষ্ট করা হয়েছিল।
তিনি দেশের অতীত নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, নেতৃত্বে যদি সামগ্রিক বাংলাদেশের স্বার্থ না থাকে, তার হৃদয়ের মধ্যে যদি গোটা দেশ না থাকে, তাহলে তিনি কিসের নেতা? ১৭ বছর ধরে আমরা সেটাই দেখেছি। দেশের মধ্যে দেশ, ঘরের মধ্যে ঘর—এটাই তৈরি করা হয়েছিল, যার ফলে অনেক মেধাবী মানুষ হয়তো দেশ ছেড়ে স্থায়ী হয়ে গেছেন অথবা আজীবনের জন্য বঞ্চিত হয়েছেন, নিজের বিকাশ ঘটিয়ে জাতিকে সেবা করার সুযোগ হারিয়েছেন।
তবে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সেই পুরনো পরিস্থিতি আর নেই, সেই জায়গা থেকে অনেক উত্তরণ ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে; গত বছরের চেয়েও বাজেট বরাদ্দ বেশি করা হয়েছে। বিশেষ করে, ক্যান্সার, কিডনি, থ্যালাসেমিয়া এবং হৃদরোগের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসায় পূর্বের ২ লাখ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার ব্যয় কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে এবং তা প্রত্যাহার/হ্রাস করে এখন ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। তিনি এটিকে জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে অভিহিত করেন।