সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
ইরানে পুনরায় সামরিক হামলার ইঙ্গিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের, সর্বাত্মক জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এর আগে তিনি ইরানে 'নরক' নামিয়ে এনেছিলেন এবং এবার পরিস্থিতি আরও কঠোর হতে পারে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন বা তেল আবিব আবারও আগ্রাসন চালালে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের ওপর সর্বাত্মক ধ্বংসাত্মক হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তেহরান।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান সংঘাতের সূচনা হয়, যা দ্রুত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলা কিছুটা কমলেও ইয়েমেনের হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের সংঘাত চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত সংবেদনশীল পথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে নিয়মিত হামলা ঘটছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি দেখা দেওয়ায় ট্রাম্প সাময়িকভাবে যুদ্ধ থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জনগণের ক্ষোভ এড়াতে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত এড়াচ্ছেন। তবে ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে পুনরায় আক্রমণ শুরু করতে পারে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। এ নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। অনেকে হয়তো আমার পদক্ষেপের সমালোচনা করছেন, তবে বহু দেশপ্রেমিক নাগরিক এটি সমর্থন করেন। পূর্ববর্তী মার্কিন নেতৃত্বের এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া উচিত ছিল। আমরা ইরানের বুকে নরক নামিয়েছিলাম, এবার আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারি।"
ইরানের চরম সতর্কবার্তা
নতুন করে আক্রমণ করা হলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ভয়াবহ পাল্টা আঘাতের সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসেন রেজাই জানান, হামলা হলে উপসাগরীয় সাতটি দেশের তেল স্থাপনা, তলদেশের ডেটা কেবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
ইরানি পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টা মেহেদি মোহাম্মাদি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ইরানে আক্রমণের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছেন। তবে এবার হামলা হলে ইরান তা অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে গ্রহণ করবে। তখন তেহরানের রণকৌশলে কোনো সীমারেখা থাকবে না, যা শত্রুপক্ষের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী হবে।
হরমুজ প্রণালিতে সাত তেলবাহী জাহাজে আগুন
উত্তেজনার মাঝেই হরমুজ প্রণালিতে এক রাতেই সাতটি তেলবাহী ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ইরানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনটি জাহাজ সামুদ্রিক মাইনের আঘাতে এবং বাকি চারটিতে সরাসরি আক্রমণ চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামুদ্রিক অবরোধের চেষ্টাকে সরাসরি যুদ্ধ হিসেবে ধরে নিয়ে চরম জবাব দেওয়া হবে।