সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
জ্যারেড কুশনারের বিলাসবহুল জীবন ও ১০০ কোটি ডলারের অজানা রহস্য | ভ্যানিটি ফেয়ারের অনুসন্ধানে নতুন মোড়
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও তাঁর স্ত্রী ইভাঙ্কা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই জনমনে কৌতূহল জাগিয়েছে। বিলিয়নিয়ারদের সুরক্ষিত দ্বীপে বিলাসবহুল বাড়ি, ভূমধ্যসাগরের নীল জলরাশির উপর ইয়টে ভ্রমণ, অভিজাত ক্লাবের সদস্যপদ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের জগতে তাঁদের আনাগোনা—সবকিছুই এক গ্ল্যামারাস জীবনযাত্রার প্রতিচ্ছবি। কিন্তু এই চাকচিক্যের আড়ালে এবার নতুন আর্থিক প্রশ্ন তুলে এনেছে ভ্যানিটি ফেয়ারের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
ফ্লোরিডার সমুদ্রতীরবর্তী সুবিশাল বাসস্থান থেকে শুরু করে ইতালি ও সিসিলির মতো জায়গায় ইয়টে অবকাশযাপন পর্যন্ত, জ্যারেড কুশনার ও ইভাঙ্কা ট্রাম্পের জীবনযাত্রা যেন কোনো আন্তর্জাতিক বিলাসবহুল ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ থেকে উঠে আসা। কুশনার একজন সফল রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী, প্রভাবশালী বিনিয়োগকারী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ে তাঁর অন্যতম জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। অন্যদিকে, ইভাঙ্কা একসময় ফ্যাশন ব্যবসা ও লাইফস্টাইল জগতে পরিচিত মুখ ছিলেন।
২০২৬ সালের আগস্টে এই দম্পতিকে ইতালির সিসিলি দ্বীপের তাওরমিনায় ছুটি কাটাতে দেখা যায়। ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসা জানিয়েছিল, তাঁরা একটি ব্যক্তিগত ইয়টে করে সেখানে পৌঁছেছিলেন। ইভাঙ্কা তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রোফাইলে পরিবারের সমুদ্রভ্রমণ, ঐতিহাসিক শহরের পথ ধরে হাঁটা এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেন, যা তাঁদের বিলাসী জীবনযাত্রাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
বিলিয়নিয়ারদের সুরক্ষিত আবাসস্থলে ঠিকানা
কুশনার ও ইভাঙ্কার জীবনযাত্রার অন্যতম আলোচিত দিক হলো ফ্লোরিডার ইন্ডিয়ান ক্রিক দ্বীপের তাঁদের বাসস্থান। 'বিলিয়নিয়ার্স বাঙ্কার' নামে পরিচিত এই অত্যন্ত সুরক্ষিত আবাসিক এলাকাটি ধনকুবেরদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ২০২০ সালে এই বাড়িটি তাঁরা প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারে কিনেছিলেন। ফোর্বস ম্যাগাজিনের ২০২৫ সালের অনুমান অনুযায়ী, এর বর্তমান বাজারমূল্য অন্তত ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। তবে এটি কেবল আনুমানিক বাজারমূল্য, বিক্রয়মূল্য নয় এবং বন্ধকসহ অন্যান্য দায় এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
ইন্ডিয়ান ক্রিক শুধু বাড়ির আকার বা দামের জন্য বিখ্যাত নয়। এর নিরাপত্তাবেষ্টিত প্রবেশপথ, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পরিসর, নিজস্ব গলফ ক্লাব এবং আশেপাশে অন্যান্য ধনকুবেরদের বসবাস—সব মিলিয়ে এটি এমন এক অভিজাত জগৎ যেখানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে বিলাসিতার অংশ হিসেবে দেখা হয়। ২০২৬ সালের অক্টোবরে পেজ সিক্স একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায় যে, কুশনার ও ইভাঙ্কা এই দ্বীপের অত্যন্ত অভিজাত ইন্ডিয়ান ক্রিক কান্ট্রি ক্লাবের সদস্যপদ পেয়েছেন। এই ক্লাবের সদস্যপদ পাওয়া বেশ কঠিন এবং সামাজিক যোগাযোগ ও পরিচিতি এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফ্যাশন, রুচি এবং ব্যক্তিগত শৈলী
ইভাঙ্কার ফ্যাশন জগতের সঙ্গে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তাঁর নিজস্ব পোশাক, জুতা এবং গয়নার ব্র্যান্ড ছিল, যা ২০১৮ সালে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি মূলত একজন ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য এবং সাবেক সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত।
জ্যারেড কুশনারের ব্যক্তিগত স্টাইল তুলনামূলকভাবে সংযত—সাধারণত তিনি স্যুট, শার্ট এবং আনুষ্ঠানিক পোশাকেই নিজেকে উপস্থাপন করেন। তাঁদের বর্তমান গাড়ির সংখ্যা, প্রতিটি গাড়ির ব্র্যান্ড বা ব্যক্তিগত বিমানের মালিকানা নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ্যে নেই। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবি বা পুরনো প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গাড়ির সংখ্যা বা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের তালিকা তৈরি করা সমীচীন হবে না।
বিলাসের আড়ালে ব্যবসার বিস্তৃত জগৎ
কুশনারের সম্পদের মূল ভিত্তি তাঁর পারিবারিক রিয়েল এস্টেট ব্যবসা 'কুশনার অ্যান্ড কোম্পানিজ'-এর সঙ্গে যুক্ত। পরবর্তীতে তিনি অ্যাফিনিটি পার্টনার্স নামে একটি সফল বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। ফোর্বস ম্যাগাজিনের ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলারের সামান্য বেশি অনুমান করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে তাঁর ফ্লোরিডার বাড়ি, পারিবারিক ব্যবসায় মালিকানার অংশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহের বিষয়ও উঠে আসে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা দরকার: একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের সংগৃহীত অর্থ, তার ব্যবস্থাপনাধীন সম্পদ এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতার ব্যক্তিগত সম্পদ এক বিষয় নয়। কুশনারের প্রকৃত সম্পদ বুঝতে হলে তাঁর রিয়েল এস্টেট, বিনিয়োগ এবং ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব পৃথকভাবে বিশ্লেষণ করা আবশ্যক।
ভ্যানিটি ফেয়ারের চাঞ্চল্যকর নতুন অনুসন্ধান
এই বিলাসবহুল জীবনযাত্রার বর্ণনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভ্যানিটি ফেয়ারের ২২ অক্টোবর ২০২৬-এর একটি প্রতিবেদন। সাংবাদিক ম্যাথু কোলের আসন্ন বই 'প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস' থেকে নেওয়া এই লেখাটিতে চাঞ্চল্যকর কিছু অভিযোগ উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ডাচ গোয়েন্দারা কুশনারের ফোনে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন এবং মধ্যপ্রাচ্য-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, প্রায় ৭৫ কোটি ডলার সমমূল্যের একটি অ্যাকাউন্টে কুশনারের লেনদেনের অনুমতি ছিল। এছাড়াও, প্রায় ১০০ কোটি ডলারের আরেকটি অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদনটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে না যে এই অর্থ কুশনারের ব্যক্তিগত সম্পদ ছিল, অথবা এটি তাঁর বাড়ি, গাড়ি বা অবকাশযাপনের মতো ব্যক্তিগত বিলাসে ব্যয় হয়েছে। কুশনার এবং তাঁর আইনজীবীরা অবশ্য এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জ্যারেড কুশনারের জীবন তাই একদিকে বিলাসবহুল বাড়ি, ইয়ট ভ্রমণ, অভিজাত সামাজিক পরিসর এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের গল্প। অন্যদিকে, তাঁর ব্যবসা ও রাজনৈতিক যোগাযোগের সম্পর্ক ঘিরে নতুন প্রশ্নও সামনে এনেছে। তাঁর জীবনযাপনের দৃশ্যমান চাকচিক্য এক বিষয়, আর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উত্থাপিত অর্থের উৎস ও গন্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এই দুইয়ের মধ্যে সঠিক যোগসূত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য ও নথি জরুরি।
ছবি: ইন্সটাগ্রাম
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
রিয়াদের বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ২৪; বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ
১ সপ্তাহ আগে
মেহেরপুরের রংমহল সীমান্তে পুশইন ঠেকালো বিজিবি, ৬ জনকে ফেরত নিল বিএসএফ
১ সপ্তাহ আগে
দিল্লিতে ২৪ ঘণ্টা মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিত
১ সপ্তাহ আগে