সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন | লুলা ও বলসোনারো শিবিরের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের পূর্বাভাস
ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে আজ রোববার রায় দিচ্ছেন দেশটির কোটি ভোটার। লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম এই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রটি কি রক্ষণশীলতার পথে হাঁটবে, নাকি নিজের জন্য ভিন্ন কোনো পথ বেছে নেবে—তা ঠিক হবে এই নির্বাচনের মাধ্যমে। এবারের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য মোট ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নিয়ম অনুযায়ী, আজকের ভোটে কোনো প্রার্থী যদি এককভাবে ৫০ শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হন, তবে নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়াবে। পরবর্তী ধাপের সেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৫ অক্টোবর।
নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন জনমত জরিপের পূর্বাভাস বলছে, প্রথম দফার ভোটে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারেন। তবে প্রথম দফাতেই সরাসরি জয় নিশ্চিত করার মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাঁর ঝোড়িতে নাও পড়তে পারে।
লড়াই দ্বিতীয় দফায় গড়ালে চতুর্থ মেয়াদের প্রত্যাশায় থাকা লুলার মুখোমুখি হতে পারেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে তথা সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। ২০২২ সালের নির্বাচনের ফলাফল বদলে দেওয়ার লক্ষ্যে অভ্যুত্থানচেষ্টার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছর কট্টর ডানপন্থী জইর বলসোনারোকে সাজা দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন বিশ্বজুড়ে থাকা তাঁর সমমনা রক্ষণশীলরা, যাদের মধ্যে অন্যতম মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই সাজাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছিলেন।
এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় লুলা বরাবরই বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নতুন করে শুল্ক আরোপের আশঙ্কার বিষয়ে সতর্ক করে এসেছেন। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদে ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর একাধিক শুল্ক আরোপের কারণে দুদেশের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্পের সঙ্গে লুলার এই বৈরী সম্পর্কের বিপরীতে বলসোনারো পরিবার সবসময়ই হোয়াইট হাউস সফর করে মার্কিন প্রশাসনের আস্থাভাজন হতে সচেষ্ট ছিল।
ব্রাজিলীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান 'থিংক পলিসি'-র সহপ্রতিষ্ঠাতা লিওনার্দো বারেতোর মতে, লুলা বিশ্বাস করেন বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব থেকে ব্রাজিলকে স্বাধীন রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, বলসোনারো পরিবার নির্বাচনী ময়দানে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ও সম্পর্ককে প্রভাবক হিসেবে ব্যবহার করেছে।