সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
ব্রুকের রেকর্ড গড়া দ্বিশতক ঢাকা পড়ল শ্রীলঙ্কার মহাকাব্যিক জয়োল্লাসে | রাওয়ালপিন্ডিতে রেকর্ডের মেলা
রাওয়ালপিন্ডিতে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ওয়ানডে ম্যাচটি ছিল স্রেফ এক ক্রিকেট যুদ্ধ নয়, বরং রেকর্ডের বই নতুন করে লেখার এক মহাকাব্যিক লড়াই। ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের ১১৪ বলে ২০২ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস সত্ত্বেও দিনশেষে শেষ হাসি হেসেছে শ্রীলঙ্কা। ৪৩০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে ওয়ানডে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে লঙ্কানরা। পুরো ম্যাচে দুই দল মিলে তোলে ৮৫৯ রান, যা ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ অ্যাগ্রিগেটের কীর্তি।
ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ৪৩০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জয়টি ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সেরা। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৪৩৫ রানের লক্ষ্য টপকে দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহাসিক জয়টি এখনও শীর্ষে রয়েছে। এই ম্যাচে আগে ব্যাট করে ইংল্যান্ড ৪২৯/৪ রান তোলে, যা পাকিস্তানের মাটিতে যেকোনো দলের সর্বোচ্চ ওয়ানডে সংগ্রহ। এর আগে ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাকিস্তানের ৩৭৫/৩ রান ছিল সেখানে সর্বোচ্চ।
অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক মাত্র ১১৪ বলে ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম দ্বিশতক হাঁকান। এর মাধ্যমে তিনি ভেঙে দেন শুভমান গিলের ১১৭ বলে গড়া দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির সাম্প্রতিক রেকর্ডটি। ব্রুকের ২০২ রানের ইনিংসটি ওয়ানডেতে যেকোনো ইংলিশ ব্যাটারের সর্বোচ্চ, যা ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বেন স্টোকসের করা ১৮২ রানকে ছাড়িয়ে যায়। এছাড়া আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে পরাজিত দলের ব্যাটার হিসেবে প্রথম দ্বিশতকের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও এখন ব্রুকের ঝুলিতে। আগে এই রেকর্ডটি ছিল জিম্বাবুয়ের চার্লস কভেন্ট্রির (২০০৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে অপরাজিত ১৯৪)।
পাকিস্তানের মাটিতে গ্যারি কারস্টেনের করা আগের সর্বোচ্চ ওয়ানডে ইনিংস (অপরাজিত ১৮৮) টপকে যান ব্রুক। বিশেষ বিষয় হলো, বর্তমান শ্রীলঙ্কার কোচ হিসেবে মাঠে উপস্থিত থেকে কারস্টেন নিজেই দেখলেন নিজের ২৮ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙার দৃশ্য। কোনো ওপেনিং পজিশনে না খেলে চার নম্বরে নেমে এটিই ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। এর আগে চার নম্বরে ভিভ রিচার্ডসের অপরাজিত ১৮৯ এবং ছয় নম্বরে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের অপরাজিত ২০১ রানের ইনিংস ছিল।
বীরেন্দর শেবাগ, রোহিত শর্মা ও শুভমান গিলের পর চতুর্থ অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরির ক্লাবে যুক্ত হলেন ব্রুক। পেসারদের বিপক্ষে তিনি মাত্র ৯০ বল খেলে তোলেন ১৭৪ রান, যা ওয়ানডেতে বল বাই বল হিসাব রাখা শুরুর পর পেসবোলিংয়ের বিপক্ষে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ। এর আগের রেকর্ডটি ছিল রোহিত শর্মার (১৬৬ রান)।
জবাব দিতে নেমে ইনিংসের ২৫ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ১৬৯/২। জয়ের জন্য শেষ ২৫ ওভারে লঙ্কানদের প্রয়োজন ছিল অবিশ্বাস্য ২৬১ রান। ওয়ানডে ইতিহাসে শেষ ২৫ ওভারে এত রান তাড়া করে জেতার কোনো নজির নেই। এর আগের রেকর্ডটি ছিল আয়ারল্যান্ডের, ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে শেষ ২৫ ওভারে তাদের দরকার ছিল ২১৫ রান।
এই ম্যাচে ইংলিশ পেসার স্যাম কারেন বল হাতে দেন ১০৩ রান, যা ওয়ানডেতে ইংলিশ বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে খরুচে বোলিংয়ের রেকর্ড। পুরো ম্যাচে দুই দলের মোট ৮ জন ব্যাটার ফিফটি বা তার বেশি রান করেন, যা ওয়ানডেতে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এছাড়া ম্যাচে মোট ৯৩টি চারের মার দেখা যায় (ইংল্যান্ড ৪৮, শ্রীলঙ্কা ৪৫), যা ২০০৬ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের ৮৭টি চারের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে ওয়ানডেতে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ বাউন্ডারির নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে।