সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে আইন | নজিরবিহীন পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন বার্তা তারেক রহমানের
বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দলীয় পরিচয় ও প্রভাবকে ব্যবহার করে জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা বহুদিনের। প্রায়ই রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের নেতাদের অনিয়ম-অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উদাসীন থাকতে দেখা গেছে। তবে সেই দীর্ঘদিনের ধারা বদলে দিয়ে নিজের দলের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—দলীয় পরিচয় বা ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নয়, আইন ও জনস্বার্থই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।
এক মাসেরও কম সময়ে বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে গৃহীত এই সিদ্ধান্ত কেবল দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির জন্যও এক নতুন দিকনির্দেশনা। ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ’—প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এই নীতি বাস্তবে রূপ দিতে গেলে স্বজনপ্রীতি ও দলীয় পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে উঠতে হয়। তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কঠোর সিদ্ধান্তগুলো সেই নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তরুণ নেতা ইশরাক হোসেন বিএনপির রাজনীতিতে এক পরিচিত মুখ। প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সন্তান হিসেবে এবং রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তবে কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি বা ঐতিহ্যই যে কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখতে পারে না, সেটি ইশরাকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পুনর্নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে দলের নির্দেশে গত ১ অক্টোবর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। পরবর্তীতে গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ক্ষমতার এখতিয়ারবহির্ভূত পদক্ষেপে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ইশরাক হোসেনকেও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
রাষ্ট্র পরিচালনায় আইনগত সীমা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এবং আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো জনপ্রতিনিধি বা মন্ত্রী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মতো সরাসরি তল্লাশি, আটক বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ক্ষমতা রাখেন না। ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী উদ্যোগের লক্ষ্য ইতিবাচক হলেও, পদ্ধতিগতভাবে তা আইনসম্মত ছিল না। ফলে আবেগের চেয়ে আইনি শৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অনিয়ম ঢাকা দেওয়ার যে পুরোনো চর্চা ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে নিজ দলের বিরুদ্ধে এমন প্রশাসনিক অ্যাকশন জনগণের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এটি যদি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা না হয়ে নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয়, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা এবং রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
কার্যকর বাস্তবায়নে কঠোর আইনি পদক্ষেপের তাগিদ
২ দিন আগে
আখতারুজ্জামান রঞ্জন ও সালমান মুক্তাদিরের ঘটনা বিশ্লেষণ
২ সপ্তাহ আগে
আলমডাঙ্গায় নাশকতা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আইলহাঁস ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বাদল গ্রেফতার
২ সপ্তাহ আগে