সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
দলে শৃঙ্খলা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি | কার্যকর বাস্তবায়নে কঠোর আইনি পদক্ষেপের তাগিদ
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান দলের ভেতর শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ এবং চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলদারত্ব ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে দলীয় নেতাকর্মী, সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী—কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের চোখে সবাই সমান এবং সবাইকে নিজ নিজ কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। সরকারপ্রধানের এই দৃঢ় ঘোষণা দেশে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, যা একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ কামনাকারী সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
তবে বিশিষ্টজন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রধানমন্ত্রীর এই সতর্কবার্তাকে স্বাগত জানালেও এর মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদকের অভিমত অনুযায়ী, দখলদারি বা চাঁদাবাজি আমাদের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সুযোগসন্ধানী সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ। রাজনৈতিক পরিচয়ে পার পেয়ে যাওয়ার প্রবণতা গভীর শিকড় গেড়ে বসায় কেবল ওপরের উপসর্গ দেখে সমাধান সম্ভব নয়; বরং কলুষিত এই রাজনৈতিক চর্চার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে হবে। দলীয় কাঠামোর ভেতর এমন কঠোর নিয়ম চালু করতে হবে যাতে ব্যক্তিস্বার্থ ও অনৈতিকতার সুযোগ না থাকে।
অন্যদিকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি সতর্ক করে বলেছেন, শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরও দলের একটি অংশের মধ্যে তা মেনে চলার কার্যকর মানসিকতা এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। এ পরিস্থিতিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক পরামর্শ দিয়েছেন যে, কেবল দলীয় বা সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্ষমতা পরিবর্তনের পরপরই একটি পক্ষের মধ্যে যে 'আমাদের এলাকা নিয়ন্ত্রণের পালা' মনোভাব দেখা গেছে, তা সরকার ও দল উভয়ের জন্যই চরম বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক মনে করেন, সমাজ থেকে অপরাধ দূর করতে হলে আগে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের ঘর পরিচ্ছন্ন করতে হবে। ক্ষমতাসীন দল নিজের ভেতরে শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে না পারলে অপরাধীদের দমন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। একই সাথে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া জরুরি। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার যৌথ প্রয়োগের মাধ্যমেই কেবল প্রধানমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারি বাস্তবে রূপ নিতে পারে এবং একটি টেকসই ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন সম্ভব হবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
যুক্তরাজ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন
১৬ ঘন্টা আগে
নজিরবিহীন পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন বার্তা তারেক রহমানের
২ দিন আগে
আখতারুজ্জামান রঞ্জন ও সালমান মুক্তাদিরের ঘটনা বিশ্লেষণ
২ সপ্তাহ আগে