নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনায় আলমডাঙ্গার বিভিন্ন গ্রামে অপ্রীতিকর ঘটনা : প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
জাতীয় নির্বাচন নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনায় আলমডাঙ্গার বিভিন্ন গ্রামে অপ্রীতিকর ঘটনা : প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণা হওয়ার পর আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। তবে দ্রুত ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাত এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার কয়েকটি এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। কোথাও দোকান ভাঙচুর, কোথাও বাড়িতে হামলার অভিযোগ, আবার কোথাও দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, উপজেলার নতিডাঙ্গা গ্রামে গভীর রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়। একই সময় রাজু, ইমাদুল ও সোলেমান নামের তিন ব্যবসায়ীর দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে আসমানখালি বাজারে দুটি দোকান ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামির কয়েকজন কর্মীর বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও বিচ্ছিন্নভাবে অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা পান্না আক্তার ঘটনাস্থলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএসএম শাহনেওয়াজ মেহেদী ও সেনাবাহিনীর একটি টিম পাঠান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
কুমারী ইউনিয়নের পার দুর্গাপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের দুই সমর্থকের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপি সমর্থক শহিদুল ইসলামের ছেলে আসিফ এবং জামায়াত সমর্থক রশীদের ছেলে এম রহমান আহত হন। আহত দুজনকে উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে তাদের পরিবার জানিয়েছে।
এছাড়াও গত ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বড়বোয়ালিয়া গ্রামে জামায়াতে ইসলামির একটি বিজয় মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মহিলা দলের নেত্রী মাহফুজা ইয়াসমিন জলির বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
মাহিলা দলের নেত্রী মাহফুজা ইয়াসমিন জলি অভিযোগ করে বলেন, “সদর আলীর ছেলে রুবেল ও জহুরুল ইসলামের ছেলে আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে মিছিলটি যাওয়ার সময় আমার বাড়ি লক্ষ্য করে গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে তারা আমার বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে এবং ঘরের চাল ভাঙচুর করে।
ঘটনার পর ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।
সচেতন মহলের কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, “নির্বাচন শেষ হলেও সহিংসতা বন্ধ না হওয়া খুবই উদ্বেগজনক। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু প্রতিহিংসা ও ভাঙচুর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে এবং সব পক্ষকে সংযত আচরণ করতে হবে।
প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া সড়কের আলোচিত বৈদ্যনাথপুর মাঠে পণ্য ডেলিভারি ম্যানকে থামিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ: ডেলিভারি ম্যান রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ
৬ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গার কেশবপুরে সাবেক সেনা সদস্য ও বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা-লুটপাট, আটক ১
২১ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গার ডাউকি গ্রামে পান বোরজে অগ্নিকাণ্ড: ৫ কৃষকের স্বপ্ন পুড়ে ছাই, ক্ষতি প্রায় ২০ লাখ টাকা
২১ ঘন্টা আগে