প্রিন্সেস টিনা খানু
চুয়াডাঙ্গা থেকে রূপালি পর্দার শিখরে: প্রিন্সেস টিনা খানের বর্ণাঢ্য ও ট্র্যাজিক জীবন
সাফল্যের চূড়ায় থাকা অবস্থায় জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার গল্প রুপালি পর্দায় অনেক দেখা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে এমন এক বাস্তব ও বিষাদময় নাম ‘প্রিন্সেস টিনা খান’। চুয়াডাঙ্গার সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে এসে নিজ যোগ্যতায় ঢাকাই সিনেমার রাজমুকুট পরেছিলেন তিনি। কেবল অভিনেত্রী হিসেবেই নয়, একজন সাহসী প্রযোজক হিসেবেও তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এমন এক সময়ে, যখন নারীদের চলচ্চিত্র নির্মাণ বা প্রযোজনায় আসা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। গত ২০ জানুয়ারি ছিল এই অভিনেত্রীর জন্মদিন।
টিনা খানের জন্ম চুয়াডাঙ্গা শহরে। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল ফিরোজা খানম। রক্ষণশীল পরিবেশ ও মফস্বল শহর থেকে এসে রূপালি জগতে নিজের নাম লেখানো সহজ ছিল না। ছোটবেলা থেকেই তাঁর নাচের প্রতি ছিল দারুণ ঝোঁক। মঞ্চের যাত্রাপালা ও নৃত্যনাট্যে তাঁর সাবলীল পদচারণা তাঁকে দ্রুত পরিচিতি এনে দেয়। ‘প্রিন্সেস’ উপাধিটি মূলত তাঁর নৃত্যশিল্পী হিসেবে অসাধারণ দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ নামের আগে জুড়ে গিয়েছিল।
সত্তরের দশকের শেষভাগে তিনি চলচ্চিত্রে পা রাখেন। তাঁর অভিনয় প্রতিভা ও শরীরী সৌন্দর্য দ্রুত নির্মাতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তৎকালীন বাণিজ্যিক ধারার সিনেমায় তিনি ছিলেন অপরিহার্য। তবে তিনি শুধু বাণিজ্যিক ঘরানায় আটকে থাকেননি। ১৯৮৫ সালে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘শুভদা’ চলচ্চিত্রে ললনা চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের কাছে পাঠ্য হয়ে আছে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাসের সেই বিষণ্ণ ও লড়াকু ললনা চরিত্রে তিনি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলেন।
টিনা খান কেবল একজন গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী ছিলেন না, তাঁর ভেতরে ছিল সৃজনশীল এক সত্তা। তিনি নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে ‘শুভদা’ চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন। সিনেমাটি ওই বছর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ ১১টি বিভাগে পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েছিল। একজন নারী হিসেবে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ক্ল্যাসিক সাহিত্যের ওপর ভিত্তি করে সিনেমা বানানোর ঝুঁকি নিয়ে তিনি সফল হয়েছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে— ‘মধু মালতী’, ‘রজনীগন্ধা’, ‘প্রিন্সেস টিনা খান’ ও ‘শুভদা’।
১৯৮৯ সাল ছিল টিনা খানের জীবনের শেষ বছর। সেই বছরের শুরুতে শুটিংয়ের কাজ সেরে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের কোনো এক স্থানে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারালে ঘটনাস্থলেই এই প্রতিভাময়ী অভিনেত্রীর মৃত্যু হয়। তাঁর এই অকাল প্রয়াণ কেবল তাঁর পরিবার বা চুয়াডাঙ্গাবাসীকে নয়, পুরো দেশকেই স্তব্ধ করে দিয়েছিল। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল অত্যন্ত কম, যখন তাঁর ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ সময়টি কেবল শুরু হয়েছিল।
চুয়াডাঙ্গার বড় বাজার এলাকায় তাঁর নামে একসময় অনেক আলোচনা হতো। আজও চুয়াডাঙ্গার প্রবীণ সিনেমা প্রেমীরা গর্বের সাথে টিনা খানের নাম স্মরণ করেন। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, মফস্বল শহর থেকে এসেও জাতীয় পর্যায়ে মেধার স্বাক্ষর রাখা সম্ভব। চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের মতে, টিনা খান বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র হয়তো আরও অনেক ক্ল্যাসিক কাজ পেত।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় চাপাতি ও লোহার চেইনসহ সোহেল রানা রাব্বি গ্রেফতার
৯ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গা বাজারে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত: ৫ ব্যবসায়ীকে ২২ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান
৯ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের মাদকবিরোধী কঠোর অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী হুসাইনসহ আটক ৪ : ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও অর্থদন্ড
৯ ঘন্টা আগে