আলমডাঙ্গায় স্বেচ্ছাশ্রম বা ব্যক্তি উদ্যোগে সরকারি খাল খননের উদ্যোগ গ্রহণ সংক্রান্ত আলোচনা সভা
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গায় স্বেচ্ছাশ্রম বা ব্যক্তি উদ্যোগে সরকারি খাল খননের উদ্যোগ গ্রহণ সংক্রান্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
আলমডাঙ্গায় স্বেচ্ছাশ্রম বা ব্যক্তি উদ্যোগে সরকারি খাল খননের উদ্যোগ গ্রহণ সংক্রান্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বর্ষার পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকারি খাল খননে স্বেচ্ছাশ্রম ও ব্যক্তি উদ্যোগে জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনূর আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ, আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাঈল, উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উদয় রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মৌদুদ আলম খাঁ, জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজিম উদ্দিন, উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুস ছাত্তার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম হেলাল উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আক্তার হোসেন জোয়ার্দ্দার, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবিদুদ্দোজা কেবল, ইউপি চেয়ারম্যান তবারক হোসেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, মেহেরাজ হোসেন, আহসান হাবীব, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের সার্ভেয়ার মাজেদুল হক, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সভায় জানানো হয়, উপজেলা ভূমি অফিসের প্রাথমিক জরিপে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৪০টিরও বেশি সরকারি খাল খননের জন্য প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব সরকারি খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনূর আক্তার বলেন, সরকারি খালগুলো শুধু পানি প্রবাহের মাধ্যম নয়, এগুলো আমাদের কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনঃখনন করা গেলে কৃষকদের সেচ সুবিধা বাড়বে, জলাবদ্ধতা কমবে, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ হ্রাস পাবে এবং বর্ষার পানি সংরক্ষণ সহজ হবে। প্রশাসনের একার পক্ষে এ বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও ব্যক্তি উদ্যোগকে সম্পৃক্ত করেই এ কার্যক্রম সফল করতে হবে। খাল খননের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সেচের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, ফসল উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং কৃষি উৎপাদন আরও টেকসই হবে। কৃষকের স্বার্থে এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।
আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, বছরের পর বছর অবহেলায় অনেক সরকারি খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট দেখা দিচ্ছে। খালগুলো খনন করা হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলজ প্রাণীর আবাস সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকার সরকারি খাল চিহ্নিত করে স্থানীয় জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক খাল পুনঃখনন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি খাল পুনঃখনন কার্যক্রম সফল করতে জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় জনগণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও লোকমান হোসেন প্রাইভেট হাসপাতালে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা : দুইটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
১১ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
১১ ঘন্টা আগে
দামুড়হুদায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ.লীগ নেতা মামুন গ্রেপ্তার
১৪ ঘন্টা আগে