শ্বাসরোধে খুন আলমডাঙ্গায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মজনুর মরদেহ উদ্ধার
আলমডাঙ্গা উপজেলায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চরমপন্থি নেতা মজনুকে। উপজেলার রামদিয়া কায়েতপাড়া থেকে শীতাবিতার বিলগামী সড়কের পাশে একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় কৃষকেরা শীতাবিতার বিল এলাকায় মাঠে কাজ করতে গিয়ে রাস্তার পাশে ভুট্টাক্ষেতের মধ্যে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁরা আলমডাঙ্গা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, প্রথমে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। বেলা ১২টার দিকে দুই নারী মরদেহটি তাঁদের ভাই হতে পারে বলে দাবি করলেও নিশ্চিত ছিলেন না। পরে তিওরবিলা গ্রামের মৃত মন্টুর স্ত্রী সাহেদা খাতুন ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি তার ছেলে মজনুর বলে নিশ্চিত করেন।
নিহত মজনু তিওরবিলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চরমপন্থি নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা ও হরিনাকুন্ড থানায় হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে চারটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, ২০১২ সালে রায়সা গ্রামের কৃষক জামালকে অপহরণ করে চাঁদা আদায়ের পর হত্যার মামলার আসামিও ছিলেন তিনি।
ভুট্টাক্ষেতের মালিক রফিকুল ইসলাম জানান, সকাল ৮টার দিকে তিনি খবর পান তার জমির ভেতরে একটি লাশ পড়ে আছে। গিয়ে দেখেন, নিহত ব্যক্তির গলায় বেল্ট ও উলের মাফলারজাতীয় কাপড় পেঁচানো ছিল।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে শ্রীনগর মাঠের আবদার মাস্টারের জমি থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের ঘটনায়। পুলিশ জানায়, একই দিনে আলমডাঙ্গা উপজেলার শ্রীনগর মাঠ এলাকা থেকে একটি টিভিএস মোটরসাইকেল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মোটরসাইকেলটি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, “নিহতের গলায় বেল্ট পেঁচানো ছিল। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “পরিত্যক্ত মোটরসাইকেলসহ ঘটনাস্থলের আশপাশের সব আলামত আমরা সংগ্রহ করেছি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্তে পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।”
ওসি বানী ইসরাইল জানান, নিহত মজনু এলাকায় একজন পরিচিত সন্ত্রাসী ছিলেন। পূর্বশত্রুতা, আধিপত্য বিস্তার অথবা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব—সব দিক মাথায় রেখে তদন্ত চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ৯ জানুয়ারি সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাঈল, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর আলী পরিদর্শণ করেন। এছাড়া সিআইডি,পিবিআইসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনাস্থলে যান।
পারিবারিক সূত্র জানায়, মজনু পাশের হাকিমপুর গ্রামের খোশদেল আলীর মেয়ে হাজেরা খাতুনকে বিয়ে করেন। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের দুলাভাই লাটু বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।