আলমডাঙ্গার বাঁশবাড়িয়ায় ঋণের চাপে কৃষকের আত্মহত্যা: অবশেষে এতিম শিশুদের পাশে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন।
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গার বাঁশবাড়িয়ায় ঋণের চাপে কৃষকের আত্মহত্যা: অবশেষে এতিম শিশুদের পাশে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন
হাটবোয়ালিয়া প্রতিনিধি : ঋণের কিস্তি শোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করা আলমডাঙ্গার কৃষক ইকরামুল হক মোহনের (৩৫) অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারটির চরম মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র ফুটে উঠলে বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। এর পরই মঙ্গলবার দুপুরে ওই পরিবারটিকে খাদ্য সহায়তা ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।
উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের কাউসার আলির ছেলে মোহন প্রায় দেড় বছর আগে মেরুদণ্ডের হাড়ক্ষয় রোগে আক্রান্ত হন। ফলে ভারী কাজ বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন তিনি। অসুস্থতার মধ্যেও চিকিৎসা ব্যয় ও সংসারের খরচ চালাতে একাধিক স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হন তিনি। উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিস্তি পরিশোধ সম্ভব হচ্ছিল না। প্রতিবেশী ও স্বজনদের অভিযোগ, এনজিও কর্মীদের ধারাবাহিক চাপ ও ঋণের ভয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে গত ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
মোহনের আকস্মিক মৃত্যুর পর চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে তার তিন শিশু সন্তান ইমারুল হক (১৩), আসমা (৭) ও মরিয়ম (৩)। ভাঙাচোরা মাটির ঘর, ফুটো টিনের চাল দিয়ে পানি পড়া আর খাবারের অভাবে সন্তানদের কান্নাকাটি—সব মিলিয়ে পরিবারটির দিন কাটছিল অত্যন্ত মানবেতরভাবে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই দুঃখজনক পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা দৃষ্টিগোচর হয় আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনুর আক্তারের। ইউএনও’র নির্দেশে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বাঁশবাড়িয়া গ্রামে মোহনের বাড়িতে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে পৌঁছান উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সাজ্জাদ হোসেন এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের কার্য সহকারী সোহেল রানা।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায় পরিবারটিকে নগদ ২ হাজার টাকা, ২ বস্তা চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইউএনও শাহিনুর আক্তারের পক্ষ থেকে পরিবারটির পুনর্বাসন ও এতিম শিশুদের ভবিষ্যতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের এই দ্রুত উদ্যোগের ফলে পরিবারটি আপাতত খাদ্যাভাব থেকে রক্ষা পেয়েছে। আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনুর আক্তারের এমন মানবিক পদক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে স্থানীয়রা এনজিওগুলোর অনমনীয় ঋণ আদায় পদ্ধতির ওপর সরকারের নজরদারি বাড়ানো এবং এতিম শিশুদের স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবি জানান।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও লোকমান হোসেন প্রাইভেট হাসপাতালে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা : দুইটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
১৩ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
১৩ ঘন্টা আগে
দামুড়হুদায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ.লীগ নেতা মামুন গ্রেপ্তার
১৬ ঘন্টা আগে