আলমডাঙ্গার আনন্দধাম ব্রীজের দু’পাশে অবৈধ স্থাপনা; দৃষ্টির আড়ালে ওত পেতে থাকে বিপদ
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গার আনন্দধাম ব্রীজের দু’পাশে অবৈধ স্থাপনা; দৃষ্টির আড়ালে ওত পেতে থাকে বিপদ
জামজামির দিক থেকে একটি ট্রাক ধীরে ধীরে উঠছে আনন্দধাম ব্রীজের ঢাল বেয়ে। একই সময়ে সেতুর ওপাশ অর্থাৎ আনন্দধামের দিক থেকে আরেকটি বড় যানও এগিয়ে আসছে। কিন্তু দু’পাশের চালকের কেউই কাউকে দেখতে পাচ্ছেন না—ব্রীজের ওঠার মুখে দু'পাশে নি:ছিদ্র দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি অস্থায়ী দোকান দৃষ্টিরেখা আটকে রেখেছে। কয়েক সেকেন্ড পর যখন দুই যান মুখোমুখি, তখন নিরাপদে সরে যাওয়ার মতো জায়গাও থাকে না। প্রতিদিনই এভাবেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে পার হচ্ছে আলমডাঙ্গা-জামজামি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রীজটি।
আলমডাঙ্গা শহরের আনন্দধাম ও হাউসপুরের সংযোগস্থলে গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের ক্যানেলের ওপর নির্মিত আনন্দধাম সেতুতে প্রতিদিন এমন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে হাজারো মানুষ। আলমডাঙ্গা-জামজামি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর নির্মিত সেতুটির দু’পাশের কয়েকটি অস্থায়ী স্থাপনা যানবাহনের দৃষ্টিসীমা সংকুচিত করে ফেলেছে। স্থানীয়দের দাবি, স্থাপনাগুলো সরিয়ে দিলেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা অন্তত ৮০ শতাংশ কমে আসতে পারে।
ব্রীজটি সেচ ক্যানেলের ওপর নির্মিত হওয়ায় আনন্দধাম ও হাউসপুরের তুলনায় বেশ উঁচু। ফলে দু’দিকের সড়ক থেকে সেতুতে ওঠার সময় সামনের অংশ সরাসরি দেখা যায় না। বিশেষ করে আনন্দধামের দিক থেকে সেতুতে ওঠার মুখে বাম পাশে থাকা কয়েকটি অস্থায়ী দোকান আড়াল তৈরি করেছে। জামজামির দিক থেকেও একই পরিস্থিতি। হাউসপুর প্রান্তের বাম পাশে থাকা দোকানগুলোর কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা বড় যানবাহন আগেভাগে দেখতে পান না চালকেরা।
এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যান, মিনিবাস, ট্রাকসহ নানা ধরনের যান চলাচল করে। ছোট যানবাহনের পাশাপাশি বড় যান যখন একই সময়ে ব্রীজের দুই প্রান্তে ওঠে, তখন দৃষ্টিসীমার এই সংকট আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। চালকের সামনে বিপরীতমুখী যান দৃশ্যমান হওয়ার আগেই দূরত্ব কমে আসে; অথচ সেতুর ওপর পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগও সীমিত।
একজন সচেতন এলাকাবাসী বলেন, “এখানে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার জন্য বড় কোনো কারণ লাগে না। ব্রীজের দু’পাশের কয়েকটি দোকানই যথেষ্ট। এগুলো সরিয়ে দিলে চালক অনেক আগে থেকেই বিপরীত দিকের যান দেখতে পারবেন। দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেকটা কমে যাবে।”
ফুটপাত হারিয়ে সড়কেই শিশুরা
ব্রীজের ঝুঁকি পেরিয়ে আলমডাঙ্গা শহরের দিকে এলেও পথচারীদের নিরাপত্তা পুরোপুরি ফিরছে না। সড়কের পাশের ফুটপাতের একটি অংশ দখল করে গড়ে উঠেছে ক্ষুদ্র ব্যবসার নানা পশরা। ফলে পথচারীদের জন্য রাখা জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছে বিদ্যালয়গামী শিশুরা। ফুটপাত দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সুযোগ না থাকায় তাদের ব্যস্ত সড়কের পাশ দিয়ে, অনেক ক্ষেত্রে যানবাহনের ভিড়ের মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নারী ও বয়স্ক পথচারীরাও পড়ছেন একই দুর্ভোগে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দার ভাষায়, “শিশুরা প্রতিদিন স্কুলে যায়। তাদের নিরাপদে হাঁটার কথা ফুটপাতে। কিন্তু ফুটপাত যদি দোকানের দখলে থাকে, তাহলে তারা যাবে কোথা দিয়ে? দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগে থেকেই ফুটপাত ও ব্রীজের দৃষ্টিসীমা দখলমুক্ত করা জরুরি।”
স্থানীয়দের দাবি, আনন্দধাম ব্রীজের দুই প্রান্তে দৃষ্টিসীমা আটকে রাখা অস্থায়ী স্থাপনাগুলো অপসারণের পাশাপাশি সেতু থেকে আলমডাঙ্গা শহরমুখী সড়কের ফুটপাতও দখলমুক্ত করা প্রয়োজন। এতে ব্রীজের যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিশু, নারী ও বয়স্কদের পথচলাও হবে নির্বিঘ্ন।
জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হওয়ার পর কোনো প্রাণহানির অপেক্ষা না করে আগেই ঝুঁকির জায়গাগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এখন তাদের প্রত্যাশা—সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও লোকমান হোসেন প্রাইভেট হাসপাতালে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা : দুইটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
৯ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
৯ ঘন্টা আগে
দামুড়হুদায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ.লীগ নেতা মামুন গ্রেপ্তার
১২ ঘন্টা আগে