আলমডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ
আলমডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আহসান কবির বকুলের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে এবং তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তানজিনকে তুচ্ছ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক আহসান কবির বকুল মারধর করেন। এতে শিক্ষার্থী শারীরিক ও মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয় বলে পরিবারের দাবি। বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরে তানজিন বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তারা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন।
শিক্ষার্থীর বাবা রফিক বলেন, "আমার সন্তানকে কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই মারধর করা হয়েছে। একজন শিক্ষক কখনো এভাবে একজন কোমলমতি শিশুর সঙ্গে আচরণ করতে পারেন না। কিছুদিন পূর্বে ওর মা মারা গেছে
আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।"
এদিকে কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, সহকারী শিক্ষক আহসান কবির বকুল বিদ্যালয়ের অদূরে ব্যক্তিগত কোচিং পরিচালনা করে আসছেন দীর্ঘ বছর ধরে। সেই কোচিং'র ক্যান্টিন থেকে শিক্ষার্থীদের খাবার কিনতে উৎসাহিত বা বাধ্য করেন বলেও তাদের অভিযোগ। এসব বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে তারা দাবি করেন।
অভিভাবকদের মতে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তাই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা শারীরিক নির্যাতন ও অন্যান্য অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। শিক্ষা অফিসের নাকের ডগায় বছরের পর বছর একজন সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছেন। এটা কীভাবে সম্ভব? কী কারণে শিক্ষা কর্মকর্তারা নিশ্চুপ?
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক আহসান কবির বকুল মুঠোফোনে বলেন, "এ বিষয়ে বিস্তারিত ফেসবুকে দেওয়া আছে, সেখান থেকে দেখে নেন।"
আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলা উদ্দিন বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি এবং সরেজমিনে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে মারধরের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষী প্রমাণিত হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অভিভাবকদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও লোকমান হোসেন প্রাইভেট হাসপাতালে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা : দুইটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
১০ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
১০ ঘন্টা আগে
দামুড়হুদায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ.লীগ নেতা মামুন গ্রেপ্তার
১৩ ঘন্টা আগে