সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
কোটি কোটি টাকার প্রকল্প থাকলেও আবহাওয়া সতর্কবার্তা থেকে বঞ্চিত দেশের প্রান্তিক কৃষকরা
কৃষকদের কাছে সময়মতো আবহাওয়ার সঠিক তথ্য ও সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নানা উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে এর কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খোদ কৃষকরাই। আবহাওয়ার আগাম তথ্য না পাওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত তাদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে 'ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি' প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস’। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের জন্য এই দিবসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। চরম বৈরী আবহাওয়ার ফলে কখনো খরার তাপে ফসল পুড়ছে, আবার কখনো আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে চাষীদের কষ্টার্জিত ফসল। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের এই যুগে ঝুঁকিমুক্ত কৃষি বাস্তবায়নে ২০১৬ সালে ‘কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ’ নামে একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। একই সাথে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকেও পানি সংক্রান্ত বিশেষ বার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়।
তবে বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসব আধুনিক উদ্যোগ কেবল ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপের মতো ডিজিটাল মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। মাঠপর্যায়ের প্রান্তিক চাষীদের সিংহভাগই কৃষি আবহাওয়া সেবার মোবাইল অ্যাপ কিংবা রেডিও বার্তা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। ফলে সঠিক সময়ে সতর্কবার্তা না পেয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা।
সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার কৃষক মোরশেদ মিয়া আক্ষেপ করে জানান, আগাম বন্যার পূর্বসংকেত না পাওয়ায় এবার তার প্রায় ৫০ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। একই উপজেলার অপর কৃষক সবুজ আহমেদ বলেন, সঠিক সময়ে দুর্যোগের খবর বা নির্দেশনা না পেলে আফসোস করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকে না। অন্যদিকে চারঘাটের কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, কখন নদী-নালার পানি বাড়বে কিংবা কত দিন খরা থাকবে তা বুঝতে না পেরে প্রতি বছরই ফসলের ব্যাপক ক্ষতি গুনতে হয়।
বিশেষজ্ঞ ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আবহাওয়া বার্তার এই তথ্যগত ঘাটতি বা অব্যবস্থাপনা দ্রুত দূর করা প্রয়োজন। কৃষি খাতকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করার পাশাপাশি আবহাওয়া ও দুর্যোগ সম্পর্কিত সেবাগুলো যেন সহজে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের হাতে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ ও তা ব্যবহারের জন্য প্রান্তিক কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া জরুরি।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
কৃত্রিম সংকট রোধ ও ডিলারদের মজুত- বিক্রির হিসাব যাচাই সরেজমিনে পরিদর্শন; চুয়াডাঙ্গায় মাঠে নামছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব
১ দিন আগে
আলমডাঙ্গায় কৃষি প্রণোদনার উপকরণ হিসেবে পেঁয়াজ চাষিদের মাঝে পেঁয়াজ সংরক্ষনের জন্য এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ
৩ সপ্তাহ আগে
কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা
৩ সপ্তাহ আগে