সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতন ও জবাবদিহির অভাব | ব্যাহত হচ্ছে ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশ
দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের একের পর এক ভয়াবহ অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্বীনি শিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে পাঠানো শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শিশুরা বাড়ি ফিরে আর মাদ্রাসায় যেতে না চাইলেও অভিভাবকেরা প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হন। ফলে শিশুদের ওপর চলা নিপীড়ন ঢাকা পড়ে যায় এবং তাদের ভবিষ্যৎ চরম হুমকির মুখে পড়ে।
মাদ্রাসায় ধারাবাহিক যৌন নিপীড়নের ঘটনাগুলো শিক্ষার পবিত্র পরিবেশকে মারাত্মকভাবে কলুষিত করছে। কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষকদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাখ্যা। গ্রেপ্তার হওয়ার পর অনেক অভিযুক্তই শয়তানের প্ররোচনাকে দায়ী করে নিজেদের অপরাধ হালকা করার চেষ্টা করেন, যা তাদের শিক্ষকতার যোগ্যতা নিয়েই বড় প্রশ্ন তোলে।
সাম্প্রতিক কয়েক বছরের কিছু দৃষ্টান্ত লক্ষ্য করলে এই ধরনের প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২১ সালের জুন মাসে চাঁদপুরের একটি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। আটকের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেন, শয়তানের প্ররোচনায় তিনি অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়েছিলেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক আবাসিক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার শিক্ষকও একইভাবে শয়তানকে দায়ী করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মার্চে গাজীপুরের শ্রীপুরে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক শিক্ষকও একই ধরনের অজুহাত দিয়ে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার আশ্বাস দেন।
অভিযুক্তদের এমন বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তারা নিজেদের অপরাধ ঢাকতে ধোয়া তুলসী পাতা সাজার অপচেষ্টা চালান। অথচ অপরাধী ধরা পড়ার পরেই কেবল কথিত অনুশোচনা প্রকাশ পায়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চলতি বছরের আগস্ট মাসে ডয়চে ভেলে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনেও বাংলাদেশের মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। অক্টোবর মাসেও এমন বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এই ধারাবাহিক অন্যায় ও নিপীড়ন বন্ধে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং ধর্মীয় অভিভাবকদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।