আলমডাঙ্গায় সরকারি সার পাচারচেষ্টা: ডিলারের ছেলেকে জরিমানা, ডিলারশিপ বাতিলের সুপারিশের নির্দেশ
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গায় সরকারি সার পাচারচেষ্টা: ডিলারের ছেলেকে জরিমানা, ডিলারশিপ বাতিলের সুপারিশের নির্দেশ
কৃষকের জন্য বরাদ্দ সরকারি সার গোপনে পাচারের অভিযোগে আলমডাঙ্গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এক সার ডিলারের ছেলেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিলারের লাইসেন্স বা ডিলারশিপ বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীনুর আক্তার এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
সরকারি সার নিয়ে অনিয়মের ঘটনায় ডিলারশিপ বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপের উদ্যোগ এলাকাবাসীর কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
সোমবার রাতে আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদী ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার আনিসুর রহমান জোয়ার্দ্দারের প্রতিষ্ঠান জোয়ার্দ্দার ট্রেডার্স থেকে সার পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ডিলারের ছেলে সাদ্দাম হোসেনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে জরিমানার টাকা পরিশোধ করায় তিনি মুক্তি পান।
জানা গেছে, বাড়াদী ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্র মুন্সিগঞ্জ রাধাকান্তপুর বাজারের সোনাতনপুর মোড়ে অবস্থিত। অভিযোগ রয়েছে, জোয়ার্দ্দার ট্রেডার্সের সারগুদাম থেকে গাংনী ইউনিয়নের নিমতলা গ্রামের এক খুচরা সার ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে গোপনে ২ বস্তা ডিএপি ও ২ বস্তা ইউরিয়া সার পাঠানো হচ্ছিল। অন্য সারের আড়ালে ব্যাটারিচালিত একটি গাড়িতে করে সারগুলো নেওয়া হচ্ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
পথিমধ্যে নতিডাঙ্গা গ্রামে কৃষকরা গাড়িতে সার বহন করতে দেখে সন্দেহ করেন। পরে তারা গাড়িটি আটক করে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিসে খবর দেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীনুর আক্তার। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ডিলারের ছেলে সাদ্দাম হোসেনকে জরিমানা করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ, আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাইল এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান।
আটক করা সার জব্দ করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, জব্দ সার কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে এবং বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার বলেন, সরকারি সার নিয়ে অনিয়ম, কারসাজি কিংবা পাচারের কোনো সুযোগ নেই। কৃষকের প্রাপ্য সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ডিলারের ডিলারশিপ বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকের অধিকার রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে। সরকারি সার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
এদিকে, শুধু জরিমানা করেই দায় শেষ না করে ডিলারশিপ বাতিলের সুপারিশের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। কৃষকদের ভাষ্য, সরকারি সার নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও ডিলারশিপ বাতিলের উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়। তাই কৃষকের স্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের এই দৃঢ় অবস্থান এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
সুনামগঞ্জ থেকে হেলিকপ্টারে করে বিয়ে করতে আসলেন চুয়াডাঙ্গায়
৩ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় প্রবাসী ব্যবসায়ী মেয়র প্রার্থী হাসিবুল হক লিপুর উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডাস্টবিন স্থাপন
৪ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় ফুটপাত ও ব্রিজ দখলমুক্ত করতে অভিযান; আনন্দধামের ঝুঁকিপূর্ণ দোকান সরানোর নির্দেশ
১৭ ঘন্টা আগে