আলমডাঙ্গায় প্রবাসীর বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেছেন দ্রুত বিচার আদালত
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গায় প্রবাসীর বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেছেন দ্রুত বিচার আদালত
আলমডাঙ্গায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এক্সেভেটর দিয়ে মালয়েশিয়া প্রবাসী রফিউদ্দীনের বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনায় স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেছেন দ্রুত বিচার আদালত। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর ৪/৫ ধারায় অপরাধ সংঘটনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
৯ আগস্ট রবিবার চুয়াডাঙ্গার দ্রুত বিচার আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী নাজনীন এ আদেশ দেন। মামলাটি মিস কেস নং-(দ্রুত বিচার) ০১/২৬ (আলমডাঙ্গা থানা) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এঘটনায় স্থানীয়সহ বিভিন্ন পত্রিকায় ‘চুয়াডাঙ্গায় দ্বিতীয় স্ত্রীর স্বজনদের বিরুদ্ধে প্রবাসীর বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ’ সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদটি আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের নজরে আসে। একই সঙ্গে ঘটনাটির ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও আদালতের নজরে আসে। এরপর ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ নির্দেশনায় বিষয়টি নিয়ে মিস কেসটি খোলা হয়। আদালতের আদেশ ও সংবাদে জানা যায়, গত ২ আগস্ট রবিবার সকাল ১০টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে একটি এক্সেভেটর দিয়ে মালয়েশিয়া প্রবাসী রফিউদ্দীনের বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়।
রফিউদ্দীন খেজুরতলা গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে। তিনি প্রথমে একই গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে ছনিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। বিদেশে অবস্থানকালে পারিবারিক নানা জটিলতায় তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি থানা পর্যায়ে সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এরপর দেশে ফিরে রফিউদ্দীন একই গ্রামের মুকুল হোসেনের মেয়ে রিমা খাতুনকে বিয়ে করেন।
অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ের প্রায় এক বছর পর তিনি আবারও প্রথম স্ত্রী ছনিয়া খাতুনকে সংসারে ফিরিয়ে নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় স্ত্রী রিমা খাতুনের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ও আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, এরই জেরে ২ আগস্ট সকালে রিমা খাতুনের বাবা মুকুল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা একটি এক্সেভেটর নিয়ে রফিউদ্দীনের বাড়িতে গিয়ে বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করে সংশ্লিষ্টদের আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত ছিল। আদালতের সার্বিক পর্যালোচনায় প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে, দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে সৃষ্ট ক্ষোভের কারণে তার বাবা মুকুল হোসেন ও পরিবারের সদস্যরা এক্সেভেটর দিয়ে রফিউদ্দীনের বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন। এতে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর ৪/৫ ধারার অপরাধ সংঘটনের প্রাথমিক সত্যতা রয়েছে। তবে ঘটনায় জড়িত সকলের নাম-ঠিকানা ও উপযুক্ত সাক্ষীদের পরিচয় স্পষ্ট না হওয়ায় আদালত বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।
এ জন্য ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল আসামির নাম-ঠিকানা, উপযুক্ত সাক্ষীদের নাম-ঠিকানা এবং অন্য কোনো ধারায় অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে তার বিবরণসহ বিস্তারিত তদন্ত করে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত স্থানীয় ‘দৈনিক মাথাভাঙ্গা’ পত্রিকায় প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট সংবাদের প্রিন্টেড কপি মামলার নথিতে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। এ ছাড়া আদালতের আদেশের অনুলিপিসহ ‘দৈনিক মাথাভাঙ্গা’ পত্রিকায় প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট সংবাদের কপি আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
সুনামগঞ্জ থেকে হেলিকপ্টারে করে বিয়ে করতে আসলেন চুয়াডাঙ্গায়
২ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় প্রবাসী ব্যবসায়ী মেয়র প্রার্থী হাসিবুল হক লিপুর উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডাস্টবিন স্থাপন
৩ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় ফুটপাত ও ব্রিজ দখলমুক্ত করতে অভিযান; আনন্দধামের ঝুঁকিপূর্ণ দোকান সরানোর নির্দেশ
১৬ ঘন্টা আগে