আলমডাঙ্গায় বিএনপির সমাবেশে জনতার ঢল , পরিবর্তনের বার্তা শোনালেন শরীফুজ্জামান শরীফ.
জাতীয় নির্বাচন আলমডাঙ্গায় বিএনপির সমাবেশে জনতার ঢল : পরিবর্তনের বার্তা শোনালেন শরীফুজ্জামান শরীফ
পরিবর্তনের অঙ্গীকার আর আধুনিক আলমডাঙ্গা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আলমডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হলো বিএনপির বিশাল নির্বাচনী জনসভা।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আলমডাঙ্গা উপজেলার এ-টিম ফুটবল মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সভা শুরু হওয়ার আগে থেকে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে থাকেন। স্লোগান ও উল্লাসে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে। অল্প সময়ের মধ্যেই মাঠটি জনতার ঢলে ভরে যায়।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক শহিদুল কাওনাইন টিলু ওস্তাদ সভার সভাপতিত্ব করেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি বলেন, "দীর্ঘ ১৭টি বছর আপনারা আপনাদের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। বিশেষ করে গত আড়াই মাস ধরে আপনারা দিন-রাত যে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেছেন, তা আজ আমাদের বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। আপনাদের এই ত্যাগ আর শ্রম তখনই সার্থক হবে, যখন আমরা ভোটের মাঠে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারব।
"আমি আপনাদের কাছে বিনীত আহ্বান জানাই, আগামী ১২ তারিখ আপনারা দলে দলে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। মনে রাখবেন, আপনাদের দেওয়া প্রতিটি মূল্যবান ভোটই হলো গণতন্ত্রের চাবিকাঠি। আপনার একটি ভোট ব্যালট বাক্সে পৌঁছনোর মাধ্যমেই আমাদের দীর্ঘ লড়াই এবং হাজারো নেতাকর্মীর পরিশ্রম সার্থক হবে। ইনশাআল্লাহ, ধানের শীষের জয় হবেই।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য—একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা গড়ে তোলা।
আমরা আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করব যাতে আমাদের সন্তানরা বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।
চুয়াডাঙ্গার প্রতিটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত ও সুলভ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে।
আমাদের এই অঞ্চল কৃষিপ্রধান। তাই কৃষকদের সার, বীজ ও সেচ সুবিধা সহজলভ্য করাসহ ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
"আসুন, পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। সুন্দর আগামীর জন্য ধানের শীষে ভোট দিন।"
বিশেষ অতিথি, সিঙ্গাপুর প্রবাসী ব্যবসায়ী ও প্রার্থী শরীফের বড়ভাই সিআইপি আলহাজ্জ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, "চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা বিএনপির প্রতিটি কর্মীকে আমি স্যালুট জানাই। আপনারা নাওয়া-খাওয়া ভুলে ধানের শীষের পক্ষে যে গণজোয়ার তৈরি করেছেন, তার ঋণ শোধ করার সাধ্য আমার নেই। তবে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি—আর মাত্র চারটি দিন! এই চারটা দিন আপনারা ধৈর্য ধরুন, আপনাদের মেহনত আর একটু বাড়িয়ে দিন। আগামী ১৩ তারিখে ইনশাআল্লাহ একটি হাসিমুখের বিজয়ের মাধ্যমে আপনাদের সবটুকু কষ্ট ভুলে যাবেন।
আপনারা যদি আমার ছোট ভাই শরিফুজ্জামান শরীফকে আপনাদের মূল্যবান ভোটে এমপি নির্বাচিত করেন, তবে আমি কথা দিচ্ছি—বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে পিছিয়ে পড়া এই চুয়াডাঙ্গাকে তিনি ঢেলে সাজাবেন। চুয়াডাঙ্গা আর অবহেলিত থাকবে না। দেশের শ্রেষ্ঠ জেলাগুলোর একটি হিসেবে একে গড়ে তুলতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন, সজাগ থাকুন। ইনশাআল্লাহ, দেখা হবে বিজয়ের মিছিলে!"
সভাপতি শহিদুল কাওনাইন টিলু ওস্তাদ বলেন, আমাদের প্রত্যেক নেতাকর্মীর বাড়ির মা-বোনদের ধানের শীষে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে এই বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আপনাদের জীবনমান উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। ইনশাআল্লাহ, সরকার গঠন করলে আমরা মহিলাদের জন্য 'ফ্যামিলি কার্ড', কৃষকদের জন্য 'কৃষক কার্ড' এবং বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করব।
তিনি সতর্ক করে বলেন, "ধর্ম নিয়ে যারা ব্যবসা করে, তাদের কোনো প্রলোভন বা ফাঁদে পা দেবেন না। দেশের প্রকৃত উন্নয়ন ও নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে মা-বোনেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষে ভোট দিন।"
অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির জেলা আহবায়ক সিনিয়র বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ওয়াহেদুজ্জামান বুলা, বিএনপি সিনিয়র নেতা খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিরুল ইসলাম সেলিম, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের উপস্থাপনায় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন জোয়ার্দ্দার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রোকন, আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু, আলমডাঙ্গা পৌর সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওল্টু, শরীফুজ্জামান শরীফের ভাই সিঙ্গাপুর প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবাসায়ী আরিফুজ্জামান আরিফ, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব ইউপি চেয়ারম্যান তবারক হোসেন, ফ্রান্স বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আব্দুল্লাহ টিপু সুলতান, অস্স্ট্রলিয়া বিএনপির সহসভাপতি কামরুজ্জামান শামীম, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মাগরিবুর রহমান, বিএনপির সহসভাপতি সেকেন্দার আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সানোয়ার হোসেন লাড্ডু, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাজী মকবুল হোসেন, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মহাবুল হক খান, আসিফ আল নূর তামিম, মকলেছুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আজগর সাচ্চু, রাশেদুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান মিনাজ উদ্দিন, জেলা যুবদলের সভাপতি শরীফুজ্জামান সিজার, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মীর আসাদুজ্জামান উজ্জ্বল, সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম, পৌর যুবদলের আহবায়ক নাজিম উদ্দিন মোল্লা, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক জাহিদ হাসান শুভ, সদস্য সচিব আতিক হাসনাত রিংকু, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল ইমরান রাসেল, সদস্য সচিব মাহমুদুল হক তন্ময়সহ নির্বাচনী জনসভায় ইউনিয়ন, জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত জনতার মধ্যে নবীন থেকে প্রবীণ—সকলেই পরিবর্তনের বার্তায় উজ্জীবিত মনে হচ্ছিল।