১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

করোনা থামিয়ে দিয়েছে কাজের গতি : কেড়ে নিয়েছে মুখের হাসি

প্রতিনিধি :
শরিফুল ইসলাম রোকন
আপডেট :
জুলাই ২৫, ২০২০
76
বার খবরটি পড়া হয়েছে
শেয়ার :
| ছবি : 




বখতিয়ার হোসেন বকুল : কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহুর্তে সরব হয়ে উঠেছে কামারপল্লী। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের জন্য চলছে ডাসা, ছুরি পোড়ানোর হিড়িক। কেউ কেউ কিনছেন নতুন ছুরি, দা, বটিসহ চাপাতি। চাপাতি, দা, বটি, চাকু, ছুরিসহ কোরবানির নানা হাতিয়ার পোড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কামারপল্লীর কামাররা।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে তাদের ব্যস্ততা। সার্বক্ষণিক বাতাসে ভাসছে টুং টাং শব্দ। যেন দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের। তবে শেষ মুহুর্তে কাজের ব্যস্ততা বাড়লেও হাসি নেই তাদের মুখে। তারা বলেছেন করোনা থামিয়ে দিয়েছে কাজের গতি। কেড়ে নিয়েছে মুখের হাসি। উপজেলার বিভিন্ন কামারশালা সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়েছে।

২৪ জুলাই শুক্রবার বিকেলে যাওয়া হয় দামুড়হুদার ডুগডুগি বাজারস্থ কামারপল্লীতে। প্রথমেই যাওয়া হয় মন্টু কামারের দোকানে। কেমন আছেন দাদা ? জানতে চাইলে মন্টু কর্মকার মৃদু হেসে বললেন ভাই খুব একটা ভাল নেই। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কাজ নেই বললেই চলে। দুদিন ধরে কাজ আসতে শুরু করেছে। করোনার প্রভাবে এবার ঈদে খুব বেশী কোরবানী বেশী হবেনা বলেই মনে হচ্ছে। ফলে কাজও না হওয়ার সম্ভবনাই বেশী। আপনি রাস্তার ওই পারে যান। ওখানে সুনীল কর্মকারের দোকানে দা-বটি পোড়াতে কিছু লোকজন এসেছেন।


মন্টু কর্মকারের কথামতো যাওয়া হয় রাস্তার ওপারে। দেখা মিললো বেশকিছু লোকজনের। অনেকেই দা-বটি, ছুরি পোড়াতে এসেছেন কামারশালায়। একজন হাপর টানছেন। সুনীল কর্মকার জ্বলন্ত আগুন থেকে লোহা তুলে সমানতালে পেটাচ্ছেন আর শান্তি কর্মকার, দীপক কর্মকার এবং শ্যামল কর্মকার এরা কাজে বেশ ব্যস্ত। যেন কথা বলার সময় নেই কারও।

এরই এক ফঁাকে কথা হলো তাদের সাথে। তারাও মন্টু কামারের মতোই অভিন্ন ভাষায় বললেন দাদা, প্রায় দু’মাস কর্মহীন থাকার পর মাত্র কয়েকদিন হচ্ছে একটু কাজের চাপ বেড়েছে। একটি ডাসা পোড়াতে ৬০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়। এ ছাড়া ছুরি, দা, বটি, হোসো এগুলো ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কাজের ধরণ বুঝে নেয়া হয়। ৫ শ টাকা কেজি দরে
নতুন একটি ডাসা বা দা ৮ শ থেকে ৯ শ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয় বলেও জানান তারা।

এ ছাড়া ডুগডুগি বাজারের রয়েছে গোড়াচঁাদ কর্মকার, অর্জুণ কর্মকার এবং পঙ্কজ কর্মকারের দোকান। তারাও একই সুরে বললেন, ১০ দিন আগেও কাজই ছিলোনা। ঈদ উপলক্ষে অন্যান্য বছর যে পরিমান কাজ হয় তার ৪ ভাগের একভাগও নেই। কেউ কেউ দা, বটি, হেসো, কঁাচি, নিড়িণ পোড়াতে আসছেন।

এ দিকে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডের বিদ্যুৎ কামার বলেছেন, দাদা এবার কাজের কোন চাপই নেই। কোন রকম দিন পার করছি। তিনি আরও বলেছেন, করোনা থামিয়ে দিয়েছে কাজের গতি। কেড়ে নিয়েছে কর্মকারদের মুখের হাসি।

সর্বশেষ খবর
menu-circlecross-circle linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram