সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
৪৬ লাখ টাকা হারিয়েও ইতালি যাওয়া হলো না সোহেলের, লাটভিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
বৈধ উপায়ে ইতালি পৌঁছানোর স্বপ্ন বুকে নিয়ে দালালদের হাতে ৪৬ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন ঝিনাইদহের সোহেল রানা। কিন্তু স্বপ্নের গন্তব্যে পৌঁছানো তো দূরের কথা, দেশে ফিরেছে তাঁর মৃত্যুর খবর। ইতালি পাঠানোর নামে একাধিক দেশে ঘুরিয়ে নির্যাতন, পাসপোর্ট ছিনিয়ে নেওয়া এবং মুক্তিপণ আদায়ের পর শেষ পর্যন্ত লাটভিয়ার একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবার ও মামলার তথ্য সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর লাটভিয়ার সীমান্তরক্ষীরা বেলারুশ সংলগ্ন জঙ্গল থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় সোহেলকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ অক্টোবর সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জেসমিন সুলতানা ঝিনাইদহের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মানব পাচার, পৈশাচিক নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায় এবং হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল সোহেলকে প্রথমে কাতারে পাঠানো হয় এবং ৯০ দিনের মধ্যে ইতালি পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে কোনো কাজ না দিয়ে ফেলে রাখা হয়। পরবর্তীতে দেশে ফেরার টিকিট দেওয়া হলেও তাঁকেও ফেরত না পাঠিয়ে মিসর হয়ে ইতালি নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আরও টাকা দাবি করা হয়। ২০২৬ সালের ১৪ আগস্ট তাঁকে মিসরে পাঠায় চক্রটি। সেখান থেকে পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে বেলারুশ হয়ে অবৈধপথে লাটভিয়ায় ঢোকানো হয়। ২৫ আগস্ট নিহতের ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে পাচারকারীরা, যা পরিবারের সদস্যরা পরিশোধ করেন। এমনকি সোহেলের মৃত্যুর পর ৯ অক্টোবর ইতালি থেকে আরও সাড়ে চার লাখ টাকা দাবি করা হয়।
সোহেলের শ্যালক ইশতিয়াক আহমেদ জানান, পোল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তারা সোহেলের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। বর্তমানে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অন্যদিকে একই চক্রের শিকার অন্য এক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, ইতালি পাঠানোর কথা বলে এভাবে অন্তত ১২ জন যুবকে বিভিন্ন দেশে আটকে রাখা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম ও এলাকাবাসী জানান, এই এলাকা থেকে ইতালি ও মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে দালাল চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এবং একাধিক যুবক বিগত এক দশক ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।