সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ভুয়া ইউনানী চিকিৎসক পরিচয়ে প্রতারণা | ৪ জন আটক, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় নিজেদের অভিজ্ঞ ইউনানী চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ৪ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন জামালপুর জেলার সদর উপজেলার মুসলিমাবাদ এলাকার মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ ইসলাম, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ ইনসান এবং মোহাম্মদ আকিরুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটককৃত এই চার ব্যক্তি বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া ও মহল্লায় ঘুরে অস্থায়ীভাবে চেম্বার বসিয়েছিলেন। তারা বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষত নারী, প্রবীণ এবং দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ব্যক্তিদের স্থায়ীভাবে রোগমুক্তির আশ্বাস দিয়ে ইউনানী ওষুধ বিক্রি করছিলেন।
তাদের কার্যক্রম সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয়রা তাদের চিকিৎসক পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং চিকিৎসা পেশায় কাজ করার বৈধ নিবন্ধনের কাগজপত্র দেখতে চান। তবে আটককৃতরা কোনো স্বীকৃত মেডিকেল সনদ, নিবন্ধন কিংবা সরকারি অনুমোদনের প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন। এরপর স্থানীয় জনতা চারজনকে আটক করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করে।
উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক যাচাইয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আটককৃত ব্যক্তিরা কেউই স্বীকৃত চিকিৎসক নন। তাদের কারও শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণির বেশি নয় বলেও প্রাথমিকভাবে জানানো হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে ইউনানী ওষুধ বিক্রি করে আসছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ সম্পূর্ণ নিরাময়ের প্রলোভন দেখিয়ে সরল মানুষকে প্রতারিত করতো। ফলে অনেকেই আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি অনুমোদনহীন চিকিৎসা ও ওষুধ সেবনের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছিলেন।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহামুদুল হাসান জানান, আটক চারজনের শিক্ষাগত যোগ্যতা, চিকিৎসক পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।