১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ছত্রপাড়ার ক্ষিতীশ মজুমদারের ১৫২ বিঘা জমি নিয়ে দুপক্ষের রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষে আহত ৪

প্রতিনিধি :
শরিফুল ইসলাম রোকন
আপডেট :
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০
69
বার খবরটি পড়া হয়েছে
শেয়ার :
| ছবি : 

 আলমডাঙ্গার ছত্রপাড়ার ক্ষিতীশ মজুমদারের ১৫২ বিঘা জমি নিয়ে আবারও বিবাদমান দুপক্ষের ভেতর রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ হয়েছে। ছত্রপাড়ার মধু মেম্বর তার লোকজন নিয়ে বিবাদমান জমিতে তার চাষ করা কচু তুলতে গেলে প্রতিপক্ষ লাল খাঁ গ্রুপ ফালা, থ্রোকচ, রামদা ও তলোয়ার নিয়ে হামলা করে ৫ জনকে রক্তাক্ত জখম করে।

          জানা গেছে, আলমডাঙ্গার ছত্রপাড়ার ১৫২ বিঘা অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে গ্রামে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এক পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওয়ামীলীগ নেতা শরিফ জোয়ার্দ্দার ও অন্যপক্ষে বর্তমানে নেতৃত্বে আছেন ছত্রপাড়া গ্রামের লাল খাঁ। লাল খাঁ গ্রুপের মধু মেম্বার তার দখলে থাকা জমিতে কচুর আবাদ করেছিল। বর্তমানে ওই কচু মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার সময় হয়েছে। কচু তুলতে মধু মেম্বর কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। সে গত ৪ দিন আগে লাল খাঁ গ্রুপ থেকে শরিফ জোয়ার্দ্দার গ্রুপে যোগ দেয়। বিষয়টি লাল খাঁ গ্রুপ ভালভাবে নিতে পারে নি। তারা শর্ত দেয় যে, মধু মেম্বর নিজেরা ওই ক্ষেতের কচু তুলবে।

শরিফ জোয়ার্দ্দারের কোন লোক তারা ওই সম্পত্তিতে দেখতে চাই না। কিন্তু গতকাল মধু মেম্বর শরিফ জোয়ার্দ্দার পক্ষের ১২/১৩ জন নেতা নিয়ে কচু তুলতে যায়। সংবাদ পেয়ে প্রতিপক্ষ লাল খাঁ গ্রুপের গঞ্জের আলীর ছেলে ইলিয়াস, শমসের আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর, মনির উদ্দীনের ছেলে লাল্টু ও মিন্টুসহ বেশ কিছু ব্যক্তি তাদের উপর চড়াও হয়। এই বিবাদে শরিফ জোয়ার্দ্দারের পক্ষের ৫ জন রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। এরা হল – ছত্রপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে ইনাজ আলী (৪৫), মধু মেম্বরের ভাই সদু (৪৪), রফি উদ্দীনের ছেলে সমীর (৩২) ও নূর ইসলামের ছেলে সেলিম (৩৫)। তাদেরকে উদ্ধার করে হারদী হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শরিফ জোয়ার্দ্দার পক্ষ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে।

          অন্যদিকে, মোবাইলফোনে প্রতিপক্ষ লাল খাঁর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তারা কোন অভিযোগ করবেন না। তিনি বলেন, প্রায় ২০ বিঘা জমি মধুসহ তাদের পক্ষের লোকজন আবাদ করে। বাকী সব জমি শরিফুল জোয়ার্দ্দারের পক্ষ খলে রেখেছে। তাদের ২০ বিঘা জমিতে মধুসহ অন্যান্য কয়েকজন কচু আবাদ করেছে। হঠাত করে মধু আমাদের জব্দ করতে প্রতিপক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে তাদেরকে নিয়ে আমাদের পক্ষের সব জমির কচু তুলে নিতে গেলে আমাদের ক্ষেতচাষিরা বাঁধা দেয়। এ সময় মারামারি হয়েছে। আমাদেরত পক্ষের মানুষও আহত হয়েছে।    

প্রসঙ্গত, আলমডাঙ্গার ছত্রপাড়া গ্রামের ধনাঢ্য ক্ষিতীশ মজুমদার ’৪৭ সালের দেশ বিভাগের আগে বাড়িঘর-সহায় সম্পত্তি ছেড়ে ভারতে চলে যান। পরবর্তিতে তার রেখে যাওয়া ১৫২ বিঘা জমি শত্রু সম্পত্তি ও বাংলাদেশে পরবর্তিতে অর্পিত সম্পত্তিতে পরিণত হয়। এই বিরাট সম্পত্তির লোভে ছত্রপাড়া ও অভয়নগর দুগ্রামবাসি দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দখলের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়। সম্পত্তি দখলের জন্য পরষ্পর গ্রুপের রক্ত ঝরাতে তারা রক্তলোলুপ হয়ে ওঠেছে।

এ বিবাদে প্রতিপক্ষের হাতে প্রাণ গেছে কয়েকজন গ্রামবাসির। আহত-পক্ষু হয়েছেন অনেকে। যুগের পর যুগ ধরে চলমান এ দ্বন্দ্ব। ক্ষিতীশ মজুমদারের ১৫২ বিঘা জমির মধ্যে বেশ কিছু জমি অনেকে জাল দলিল তৈরি করে নিয়ে দখলের অপচেষ্টা করে আসছে। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকেন, তাদের পাতি নেতারা রাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করে, থানা পুলিশের উপর প্রভাব বিস্তার করে সমস্ত সম্পত্তি নিজেরা দখলের অপচেষ্টা করেন। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নানা অপবাদ ও দোষারোপ করে তাদের ঘরবাড়ি ছাড়া করে নেতা উপনেতারা নিজেদের মনস্কাম পূরণের অপচেষ্টা করেন। এই নিয়ে বিবাদ যুগ থেকে যুগান্তরব্যাপি বিস্তৃত হতে থাকে।

সর্বশেষ খবর
menu-circlecross-circle linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram