২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চীনে সেরা শিক্ষার্থির অ্যাওয়ার্ড পেলেন আলমডাঙ্গার পাইকপাড়ার সন্তান রিশাদ

প্রতিনিধি :
সাম্প্রতিকী ডেক্স
আপডেট :
জুলাই ১৫, ২০২০
69
বার খবরটি পড়া হয়েছে
শেয়ার :
| ছবি : 

সাম্প্রতিকী ডেস্কঃ চীনের জিনান ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটারবিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে স্নাতকোত্তর কোর্সে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রিশাদ আহমেদ শাহিন অর্জন করেছেন ইউনিভার্সিটির সেরা শিক্ষার্থি অ্যাওয়ার্ড -২০২০ (Excellent Students Award-2020)। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার ঘোলদাড়ি পাইকপাড়া গ্রামের ছেলে।

জানা যায়, বিগত শিক্ষাবর্ষে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, একাডেমিক গবেষণাপত্র প্রকাশ ও গবেষণাপত্রের সঙ্গে চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব প্রচারে অবদানের ভিত্তিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। ইউনিভার্সিটির সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মধ্যে বিভিন্ন স্কেলে মূল্যায়ন শেষে সেরা শিক্ষার্থি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

রিশাদ আহমেদ শাহিন ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে চীন সরকারের স্কলারশিপ (CSC) নিয়ে তিন বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) কোর্সে ভর্তি হতে চীনে আসেন। তাঁর গবেষণাপত্রের মূল শিরোনাম ছিল, ‘fMRI Brain Function Classification of ASD Patients Using Deep Learning Approaches’। যেখানে তিনি fMRI ডেটা এবং ডিপ লার্নিং ব্যবহার করে অটিজম রোগীদের শ্রেণিবিন্যাস করেন। গবেষণাপত্রের ওপর ভিত্তি করে তিনি প্রথম লেখক হিসেবে ২টি IEEE জার্নাল (১টি SCI, IF-4.217, ও ১টি EI), এবং ১টি EI IEEE-কনফারেন্স গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন।

 ডিগ্রির জন্য একটি গবেষণা প্রবন্ধ আবশ্যক থাকলেও অতিরিক্ত আরও ২টি হাই ইন্ডেক্স প্রবন্ধ প্রকাশ করায় রিশাদ আহমেদশাহিন এই অ্যাওয়ার্ড পেলেন। তাছাড়া  তিনি বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি অব জিয়ানের কান্ট্রি প্রেজেন্টেটিভ হিসেবে ১ বছর ধরে কাজ করেছেন।

রিশাদ আহমেদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে যথাক্রমে স্নাতক সম্মান এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। স্নাতকোত্তর শেষে তিনি চুয়াডাঙ্গার ফাস্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটিতে ইইই বিভাগে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অ্যাওয়ার্ড লাভের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি নিজের ফেসবুক ওয়ালে নিম্নোক্ত স্ট্যাটাস দেনঃ

"২০০৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। সেই সময়ে A+ না পেয়েও মুন্সিগঞ্জ সেন্টারে প্রথম হয়েছিলাম কিন্তু সংবাদপত্রে নাম আসে নাই। অল্পের জন্য A+ হয়নাই, হলেই সংবাদপত্রে নাম আসতো, অনুভূতিটা হয়তো একটু অন্যরকম হতো। কারণ তখনো ফেসবুক নামক মিডিয়াটার এতো জনপ্রিয়তা ছিলনা। তারপর কলেজ জীবনেও একই কাণ্ড ঘটলো, অল্পের জন্য A+ হলনা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু, এ জীবনের অনুভূতিটাই অন্যরকম, সংবাদপত্রে নাম আসা লাগেনা।

তারপর, উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে পড়ালেখা শুরু। স্বপ্ন অন্যদেশের থাকলেও পেরে উঠছিলামনা। ইতোমধ্যে চীন থেকে সরকারী বৃত্তিসহ অফার পেলাম। চীনে আসবো কি আসবোনা, খারাপ হবে না ভালো হবে, কারোর কোন মতামত ছাড়াই নিজ সিধান্তে চীনে প্রবেশ করি দ্বিতীয় মাস্টার্স করার লক্ষ্যে। আসার পরে মনে হল ভুল করি নাই, চীনের বাইরের চেহেরা আর ভিতরের চেহেরার মধ্যে বড় ফারাক আছে, যা না আসলে বুঝতাম না। আমার পরিশ্রমের যতটুকু দেওয়া যায় দিয়ে চীনের ছাত্র জীবনও শেষ করলাম। মাঝের ওপেন ডিফেন্স এবং মিডটার্ম ডিফেন্সে একটা পেপার থাকা সত্তেও ফেল করলাম (এর সঠিক ব্যাখ্যা চেয়ে পিটিশন করেও কোন উত্তর পাইনি)। একই সাথে সুপারভাইজরের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করা। তবে ভাগ্যক্রমে ফাইনাল ডিফেন্সের ঠিক আগে আমার বেস্ট পেপারটা দুই রাউন্ড রিভিউয়ের পর পাবলিশ হয় একটা টপ জার্নালে (যেটা ৮ মাস আগে সাবমিট করা হয়েছিল)। সবমিলিয়ে অনেক তিক্ত/ব্যক্ত অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি শেষমেষ অপ্রত্যাশিত মূল্যায়নটা পেলাম। এবার সংবাদপত্রে নাম আসলো।

সংবাদপত্রে নাম আসা লাগবেই বিষয়টা এরকমনা। আবার নাম না আসলে কেও বিষয়টা জানতে পারতো না। এই জানানোর মধ্য দিয়ে হয়তো এখান থেকে অনেকেই উৎসাহ পাবে, পাবে নিজেকে গড়ার নতুন দিক। যদিও আমার এই অর্জন খুব সামান্য, তবুও যারা আমাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনাদের এই ভালোবাসাই আমার কাজের উৎসাহ হয়ে থাকবে।

পরিশেষে, আবারো ধন্যবাদ সবাইকে, দোয়া রাখবেন ভবিষ্যতে যেন ভালো কিছু করতে পারি। বিশেষ ধন্যবাদ BCYSA এর সভাপতি মুজাহিদ ভাইকে, এরকম একটা চমক দেবার জন্য।

বি.দ্র.: চলার পথে কিছু কাছের মানুষজন আছে তাদের গল্পটা আসতে ধীরে আসবে। " গবেষণার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন গবেষণাধর্মী লেখালেখি ও স্বেচ্ছাসেবী কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন।

সর্বশেষ খবর
menu-circlecross-circle linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram