১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যে কারণে দেশের সবচেয়ে বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে ঝিনাইদহ জেলায়

প্রতিনিধি :
সাম্প্রতিকী ডেক্স
আপডেট :
সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০
69
বার খবরটি পড়া হয়েছে
শেয়ার :
| ছবি : 

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ বাংলাদেশের সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশের সবচেয়ে বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেন দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা ঝিনাইদহে। যারা আত্মহত্যা করেন তাদের বেশিরভাগ অল্প বয়সী এবং নারী। ঝিনাইদহে এখন সরকারি ও বেসরকারিভাবে আত্মহত্যার প্রবণতা ঠেকাতে নানা রকম উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ঝিনাইদহে স্থানীয় কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী ও বেসরকারি সংস্থা আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করে, যাদের মধ্যে সোসাইটি ফর ভলান্টারি অ্যাকটিভিটিজ সোভা অন্যতম। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলছেন, ঝিনাইদহে প্রতি বছর গড়ে প্রায় চারশোর মত মানুষ আত্মহত্যা করেন। জেলাটিতে ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩১৫২ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন।

এই সময়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ২২ হাজার ৬৭৫ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন এই ছয় মাসে ঝিনাইদহে মোট ১২০ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। “গত অন্তত এক দশক ধরে গড়ে দিনে একজন করে মানুষ আত্মহত্যা করেন এই জেলায়,” বলছেন জাহিদুল ইসলাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর বিশ্বে আট লাখ লোক আত্মহত্যায় মারা যায়। মৃত্যুর হার প্রতি লাখে ১৬ জন। স্থানীয় গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে আত্মহত্যার হার প্রতি লাখে ৬ থেকে ১০ জন, যা উন্নত দেশের কাছাকাছি। সোভার প্রধান নির্বাহী মি. ইসলাম জানিয়েছেন ঝিনাইদহে এই হার এক লাখে প্রায় ২১ জন। তিনি জানিয়েছেন, “অধিকাংশ আত্মহত্যার ঘটনায় দেখা যায়, হয় কীটনাশক পান করে অথবা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।”

কেন বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঝিনাইদহে? এই জেলায় কেন আত্মহত্যার হার বেশি সে নিয়ে সরকারি বা ব্যক্তিগত কোন গবেষণার কথা জানা যায়নি। তবে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম বিবিসিকে জানিয়েছেন, জেলায় আত্মহত্যা করা মানুষের বড় অংশটি নারী এবং অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা। ঝিনাইদহের শৈলক‚পা উপজেলায় আত্মহত্যার ঘটনা বেশি ঘটে তিনি বলেছেন, ঝিনাইদহের মধ্যে শৈলক‚পা উপজেলায় আত্মহত্যার ঘটনা বেশি ঘটে। কিন্তু কেন এত বেশি মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নেন, সে বিষয়ে সরকারি কোন গবেষণা নেই জানিয়ে ডা. সেলিনা বেগম বলেছেন, “কোন সার্ভে তো নাই আমাদের, কিন্তু কাজ করার অভিজ্ঞতায় যা বুঝি তা হলো পারিবারিক কলহের ঘটনা এখানে অনেক বেশি। তাছাড়া পারিবারিক পর্যায়ে ছোটখাটো মান-অভিমানের কারণেও আত্মহত্যা করে বসে অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা।” তবে, এই জেলায় আত্মহত্যার উচ্চ হারের কারণ প্রসঙ্গে সোভার প্রধান নির্বাহী মি. ইসলাম ভিন্ন কিছু কারণের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলছেন, “দক্ষিণ অঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে ঝিনাইদহে প্রাকৃতিক দুর্যোগ অনেক কম, এমনকি সিডর বা আইলাতেও তেমন ক্ষতি হয়নি এই জেলার। এর মানে হচ্ছে এখানে জীবনের জটিলতা কম। যে কারণে মানুষ অনেক বেশি আবেগপ্রবণ এবং আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ কম।” তিনি মনে করেন এ কারণে এ ধরণের ঘটনা বেশি ঘটতে দেখা যায়। বাংলাদেশের সরকারি হিসাব বলছে, দেশব্যাপী বছরে ১১ হাজারের মত মানুষ আত্মহত্যা করেন। কিন্তু এটি মূলত পুলিশ এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের হিসাবের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা। দেশে প্রতি বছর ঠিক কত মানুষ আত্মহত্যা করেন, তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান এখনো নেই। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথমবারের মত মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট এ সংক্রান্ত একটি জরিপ করেছে, কিন্তু তার ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সর্বশেষ খবর
menu-circlecross-circle linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram