১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অন্ত:সত্ত্বা প্রতিবন্ধীকে বি‌য়ে কর‌তে রা‌জি নয় ধর্ষক চাচা‌তো ভাই

প্রতিনিধি :
শরিফুল ইসলাম রোকন
আপডেট :
অক্টোবর ২২, ২০২৩
50
বার খবরটি পড়া হয়েছে
শেয়ার :
| ছবি : 

আলমডাঙ্গায় চাচাতো ভাইয়ের লালসার শিকার হয়ে তিন মাসের অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়েছে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণী। শারীরিক পরিবর্তনে বিষয়টা জানাজানি হলে টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করে গর্ভপাত করানোর অপচেষ্টা চালায় গ্রামের কিছু । ধর্ষিত প্রতিবন্ধী তরুণীর পিতা গর্ভপাতের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মাতুব্বররা রাতদিন দৌড়ঝাঁপ করছেন। এ ঘটনায় গ্রামজুড়ে তোলপাড় চলছে।

ঘটনাটি ঘটেছে আলমডাঙ্গা উপজেলার পোলতাডাঙ্গা গ্রামের নদী পাড়ায়। অভিযুক্ত ৩ সন্তানের জনক মুক্তার আলী পোলতাডাঙ্গা গ্রামের নিয়ামত আলীর ছেলে। ধর্ষক মোক্তার আলী ধর্ষিতা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুনীর আপন চাচাতো ভাই।

ধর্ষিতা প্রতিবন্ধীর পিতা জানান, তার মেয়ে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী ভাতা পায়। প্রায় তিন মাস আগে বাড়ির পাশে ধান মাড়াই শেষে ধান দেখা-শোনা করার জন্য আমার মেয়ে সেখানে বসে ছিল। মুক্তার আলী তাকে একা পেয়ে পাশের মাঠে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। হুমকি-ধামকির ভয়ে বিষয়টি প্রথমে আমাদের জানায়নি। এক প্রতিবেশিকে জানায় মুক্তার ভাই তার সাথে খারাপ কাজ করেছে।

তিনি আরও জানান, এটি আমার বড় মেয়ে। ছোট দুইটা মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। বড় মেয়েটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় বিয়ে দিতে পারিনি। আমার ভাইয়ের ছেলে মুক্তার আলী তাকে ইতোপূর্বে মাঠে পানি দেওয়ার নাম করে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। গত ৩ মাস আগে সন্ধ্যার পর তাকে আবারও জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আমার মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন হলে বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। এরপর গ্রামে ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যায়। বিষয়টির সত্যতা যাচাই করার জন্য আমি ও আমার স্ত্রী প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গার সদর হাসপাতাল গেইটে সেবা প্যাথলোজিতে নিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করায়। আল্ট্রাসনোরগ্রাফি রিপোর্ট দেখে ডাক্তার জানান মেয়ে ৭ সপ্তাহ'র অন্ত:সত্ত্বা।

এদিকে,অভিযুক্ত মুক্তার গ্রামের কয়েকজনকে সাথে নিয়ে টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করার চেষ্টা করছেন। একের পর এক বৈঠকে বসছেন। যেকোনভাবে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্ত ধর্ষিতার পিতা রাজি না হওয়ায় ধামাচাপা দিতে পারছেন না তারা। গত পরশু রাতেও দীর্ঘ সময় নিয়ে একাধিকবার বৈঠকে বসেন মাতুব্বররা। কিন্ত কোন সুরাহা না হওয়ায় মাতুব্বররা হতাশ হয়ে পড়েন। তারা হালও ছাড়ছে না।

গ্রামের একাধিকসূত্র জানিয়েছে, ধর্ষক মুক্তার হোসেন বিপদ যাতে না হয় এজন্য গ্রামের কয়েকজনকে আগে থেকে টাকা দিয়ে রেখেছে। তারা আপোষ মীমাংসা করতে বিরামহীন চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্ত ধর্ষিতার পিতা ধর্ষকের সাথে বিয়ে দেয়ার অনড় অবস্থানের কারণে মীমাংসায় যেতে পারছেন না।

প্রতিবন্ধীর পিতা আরও জানান, ধর্ষিতাকে বিয়ে না করলে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন। থানায় মামলা করবেন।

এবিষয়ে মুক্তার আলীর বাড়িতে যোগাযোগ করতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ খবর
menu-circlecross-circle linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram