২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

হক কথার সম্পাদক আলমডাঙ্গার সন্তান মাওলানা আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলীর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী

প্রতিনিধি :
শরিফুল ইসলাম রোকন
আপডেট :
আগস্ট ১৪, ২০২০
17
বার খবরটি পড়া হয়েছে
শেয়ার :
| ছবি : 

ইমদাদুল হকঃ বিশিষ্ট আলেমে দীন, মুবাল্লিগ ও মুফাক্কিরে ইসলাম, শিক্ষক, লেখক, অনুবাদ, সম্পাদক, সংগঠক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ইত্যাদি বহুবিধ পরিচয়ে বরিত ছিলেন তিনি।
বাংলায় ইসলাম আসার সূচনাকাল থেকেই এ ভূখণ্ডের হাজার হাজার মনীষী-পুরুষ নিজেকে উজাড় করে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর সেবা করেছেন।

তবে তাদের জীবন ও অবদান নিয়ে ইসলামের মূল ভাষা আরবিতে কোনো গ্রন্থ রচিত হয় নি। সে কারণে এ ভূখণ্ডের সূর্য সন্তানেরা মুসলিম জাতির মূল অংশের কাছে সবসময় অপরিচিতই থেকে গিয়েছেন। তবে কিছুদিন আগে মাওলানা মিযান হারুন এ জাতীয় ১০৪ জন আলেমের জীবন-সমৃদ্ধ একটি গ্রন্থ 'রিজালুন সানাউত তারীখ' নামে আরবি ভাষায় রচনা করেছেন। গ্রন্থটিতে বৃহত্তম কুষ্টিয়ার একজন মাত্র আলেমের জীবনী অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি মাওলানা আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী রাহ.।

মাওলানা আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী আলমডাঙ্গা উপজেলার কাবিল নগর গ্রামে ১৯৪৫ সালের ১ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মুফাজ্জল হোসেন মণ্ডল, মাতার নাম নেকজান নেসা। তাঁর আনুষ্ঠানিক লেখাপড়া শুরু হয় নওলামারীর মাওলানা আর্শাদুল আলম রাহ. প্রতিষ্ঠিত কাবিল নগর মাদরাসায়। ১৯৬৫ সালে কুষ্টিয়া কুওয়াতুল ইসলাম মাদরাসা থেকে ফাযিল এবং ১৯৬৭ সালে পাবনা আলিয়া মাদরাসা থেকে হাদীস বিষয়ে কামিল পাশ করেন। এরপর কিছুকাল নিজ এলাকায় শিক্ষকতা করেন।


১৯৭১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন এবং অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে ১৯৭৫ সালে সেখান থেকে বের হয়ে ১৯৭৬ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে যোগদান করেন। তারপর কিছুকাল তিনি টাঙ্গাইলে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানি প্রতিষ্ঠিত সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। সেসময় ১৯৭৮ সালের দিকে তিনি কিছুদিন 'হককথা' প্রত্রিকার সম্পাদনার সাথেও যুক্ত ছিলেন। তারপর আবার রাজধানীতে ফিরে তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনে যোগ দেন।

তিনি ছিলেন বিগত শতাব্দীর মুসলিম উম্মাহর অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব ভারতের সাইয়িদ আবুল হাসান আলী নাদভী রাহ.র বাংলাদেশের সর্বজ্যেষ্ঠ খলীফা এবং নদভী রাহ.র অধিকাংশ বইয়ের তিনিই বঙ্গানুবাদ করেছেন। ইসলামি বইয়ের পাঠকদের নিকট তাই তিনি 'তরজুমানে নদভী' হিসাবে পরিচিত।

কিছু মৌলিক রচনা থাকলেও অনুবাদক হিসাবেই তাঁর সফলতা বেশি। এক্ষেত্রে তিনি বিস্ময়পুরুষ। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে ১. মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?, ২. ঈমান যখন জাগলো, ৩. নবীয়ে রহমত, ৪. সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস, ৫. ইসলামের রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক উত্তরাধিকার, ৬. মহানবীর (সা.) প্রতিরক্ষা কৌশল, ৭. খালিদ বিন ওয়ালিদ, ৮. মুহাম্মাদ বিন কাসিম, ৯. আমার আম্মা, ১০. সীরাতে আহমাদ শহীদ, ১১. সীরাতে রসূল আকরাম (সা.), ১২. প্রাচ্যের উপহার, ১৩. ইসলাম ধর্ম : সমাজ : সংস্কৃতি, ১৪. হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. জীবন ও সংগ্রাম ইত্যাদি।

তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হচ্ছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত ২৫ খণ্ডের ইসলামী বিশ্বকোষ, ১৪ খণ্ডের সীরাত বিশ্বকোষ এবং আলকুরআন বিশ্বকোষ। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই বিশ্বকোষ প্রকল্পের পরিচালক ও সম্পাদনা পরিষদের সদস্য সচিব ছিলেন।

তিনি বিগত ২০১০ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকায় ইন্তিকাল করেন। গ্রামের বাড়ি কাবিল নগরে তাঁর নিজহাতে প্রতিষ্ঠিত মসজিদের পাশে তাঁকে ১৫ আগস্ট দাফন করা হয়। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদা দান করুন।

সর্বশেষ খবর
menu-circlecross-circle linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram