২৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

লকডাউন; কালীগঞ্জে ফুল খাচ্ছে এখন গরু ছাগলে

প্রতিনিধি :
শরিফুল ইসলাম রোকন
আপডেট :
এপ্রিল ২১, ২০২১
7
বার খবরটি পড়া হয়েছে
শেয়ার :
| ছবি : 


স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলায় এবার ও করোনার কারণে ফুল চাষিদের মাথায় হাত উঠেছে। যে কারণে ফুল চাষিরা এবার ফুল খাওয়াচ্ছে গরু ছাগল দিয়ে। ঝিনাইদহ ৬ উপজেলায় ১৭৩ হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ হয়েছিল। এরমধ্যে গাঁদা ১১৩ ও রজনী ২৪ হেক্টর বাকি জমিতে অন্যান্য ফুলের চাষ হয়েছে। গেল বছর এ জেলায় চাষ হয়েছিল ২৪৫ হেক্টর। প্রতি বছর সব থেকে বেশি ফুলের চাষ হয় উপজেলার গান্না ও কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে। ২০২০ সালের মার্চে দেশের করোনার সংক্রমন ধরা পড়ার পর দেশে অঘোষিত লকডাউন শুরু হয়। ফলে ফুল বিক্রিতে ধ্বস নামায় জেলার ফুলচাষিদের ব্যপক লোকসান হয়েছিল। ফুল বিক্রি করতে না পারায় ফুলক্ষেত গরু ছাগল দিয়ে খাওয়ে দিয়েছিল। করোনার প্রভাব কিছুটা কমে আসার পর আবারো চাষীরা নতুন করে ফুলের চাষ শুরু করে।

সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠার স্বপ্ন নিয়ে সবেমাত্র ফুল বিক্রি শুরু করেছিল। কিন্তু এবারো করোনার কারণে সরকার লকডাউন ঘোষনা করায় সে স্বপ্ন দু:স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। কালীগঞ্জ ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের শাহপুর ঘিঘাটি গ্রামের, হোসেন আলী চলমান লকডাউনে ফুল বিক্রি করতে না পেরে দুই বিঘা গাঁদা ও এক বিঘা জমির রজনীগন্ধা ফুলের জমিতে চাষ করে দিয়েছেন। করোনার এ আবহাওয়া কবে স্বাভাবিক হবে তা অনিশ্চিত জেনেই অধিকাংশ জমির ফুল তুলে দিয়েছেন। দুই বিঘা জমিতে গাঁদা ফুলের চাষ করেছিলেন কৃষক আনোয়ার হোসেন। এক সপ্তাহ হলো ফুল বেচাকেনা বন্ধ। ফলে জমিতেই ফুল নষ্ট হচ্ছে। এদিকে ফুল তুলে ফেলে না দিলে গাছ মরে যাচ্ছে। গাছ থেকে একবার ফুল তুলে ফেলে দিতে প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ হয়। এক সপ্তাহে একবার ক্ষেত থেকে ফুল তুলে ফেলে দিয়েছেন। এদিকে কবে ফুলের বাজার শুরু হবে তাও অনিশ্চিত। পকেটের টাকা খরচ করে এভাবে ফুলগাছ বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব না। তাই বাধ্য হয়ে এখন ফুল গাছ তুলে ফেলে দিতে হচ্ছে। ১৪ এপ্রিল থেকে সারাদেশে চলছে সর্বাত্বক লকডাউন। ফলে দেশের সব ফুলের বাজার বন্ধ হয়ে গেছে। কালীগঞ্জ উপজেলা ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের শাহপুর ঘিঘাটি গ্রামের ফুলচাষি আনোয়ার হোসেন আরো জানান, এ বছর প্রায় ৭০ হাজার টাক খরচ করে এই চাষ করেছিলাম। করোনার কারণে সবই মাটি হয়ে গেল। ফুল চাষী শফিকুল ইসলাম বলেন, দুই বিঘা জমিতে গরম জাতের গাদা ফুল ছিল।

লকডাউনে পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় ক্ষেতের ফুল তুলে একেবারেই বাজারে বিক্রি করতে পারছিলাম না। যার কারণে সব গাছ কেটে ফেলি। এতে আমার লোকসান হয় দেড় লক্ষ টাকার মত। এবার আবার সে ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে গাঁদা ফুল চাষ করেছিলাম কিন্তু আবারো করোনা আমাদের সব স্বপ্ন ধুলিষ্যৎ করে দিয়েছে। সব থেকে বেশি ফুলচাষ হওয়া এলাকা বালিয়াডাঙ্গা ও গান্না ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা পকেটের টাকা খরচ করে ক্ষেত থেকে ফুল তুলে ফেলে দিচ্ছে। অনেকে ফুল গবাদি পশুর খাবার হিসাবে ব্যবহার করছেন। কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর গ্রামের ফুলচাষি লিটন হোসেন জানান, এবছর আমার দুই বিঘা জমিতে লাল ও হলুদ গোলাপের চাষ ছিল। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে রয়েছে বিদেশী ফুল জারবেরা। এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার গোলাপ ও দুই হাজার জারবেরা ফুল তুলতাম।

প্রতিটি ফুল গড় ৫ টাকা করে বিক্রি হত। কিন্তু করোনার কারণে কোন বেচা বিক্রি নেই। গান্না বাজার ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দাউদ হোসেন জানালেন, ফুলের ভরা মৌসুমে করোনার হানায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কবে নাগাদ ফুলের বেচাকেনা হবে তাও অনিশ্চিত। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে ফুল গরু ছাগল দিয়ে খাওয়াচ্ছে। ঝিনাইদহ কৃষি সস্প্রসারন অধিপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আজগর আলী জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে ফুলচাষিরা চরম বিপদে পড়েছে। তারা ফুল বিক্রি করতে পারছেন না। আবার ক্ষেতে ফুল রাখতেও পারছেন না। বাধ্য হয়ে গরু ছাগল দিয়ে খাওয়াচ্ছে। অনেকে ফুল তুলে দিচ্ছে। ফুলচাষ দেশের অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখলেও দ্রæত পঁচনশীল হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছে এ অঞ্চলের কৃষকরা। তবে কি পরিমান ক্ষতি হবে তা বলতে পারেননি এই জেলা কৃষি কর্মকর্তা।

সর্বশেষ খবর
menu-circlecross-circle linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram