১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পৌর কাউন্সিলরসহ আলমডাঙ্গা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হত্যা মামলার আসামী ৬ জন : মাসুদ রানা আটক

প্রতিনিধি :
শরিফুল ইসলাম রোকন
আপডেট :
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২
33
বার খবরটি পড়া হয়েছে
শেয়ার :
| ছবি : 


আলমডাঙ্গা পৌর কাউন্সিলর বাবুসহ ৬ জনকে আসামী করে আলমডাঙ্গা পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার প্রধান আসামী মাসুদ রানা নিজেকে হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত করে আদালতে স্বীকারুক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।


হত্যাকান্ডের এক দিনের মধ্যে প্রধান আসামীকে পলাতক অবস্থায় কুষ্টিয়া শহর থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হওয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ।


জানা যায়, আলমডাঙ্গা পৌর কাউন্সিলর বাবুসহ ৬ জনকে আসামী করে আলমডাঙ্গা পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত ইমরানের পিতা আব্দুল জলিল বাদী হয়ে গতকাল দুপুরে এ মামলা দায়ের করেন।


আসামীরা হলেন আলমডাঙ্গা উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে হারদী কলেজে অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র মাসুদ রানা, নওদা বন্ডবিলের মজিবর রহমানের ছেলে সাকিব, ডাউকী গ্রামের ঠান্টুর ছেলে সাকিব, গোবিন্দপুর ঈদগাপাড়ার মৃত মঈনুদ্দীনের ছেলে আলমডাঙ্গা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশরাফুল হোসেন বাবু, নওদা বন্ডবিলের আনার আলীর ছেলে তারেক মনোয়ার হৃদয় ও এক্সচেঞ্জপাড়ার ফিরোজ।


হত্যাকান্ডের ২৬/২৭ ঘন্টার মধ্যেই পলাতক অবস্থায় কুষ্টিয়া শহরের ঈদগাপাড়ার একটি ছাত্রবাস থেকে গতকাল দুপুরে প্রধান আসামী মাসুদ রানাকে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি টিম গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতে মাসুদ রানা নিজেকে হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত করে স্বীকারুক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই হাদীউজ্জামান জানিয়েছেন।


এ হত্যাকান্ডের কারণঃ


গ্রেফতার প্রধান আসামী মাসুদ রানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন যে, নিহত আল ইমরানের সাথে তার বিরোধ চলছিল। প্রায় ৪ মাস পূর্বে আল ইমরান তার পিঠে বলপেনের নিব দিয়ে খুচিয়েছিল ও চাপাতির উলটো পিঠ দিয়ে আঘাত করেছিল। সেই কারণে তাকে মাসুদ রানা কুপিয়ে হত্যা করেছেন। কলেজে র‌্যাগ ডে নিয়ে ওই দ্বন্দ্বর সৃষ্টি হয়েছিল।
কিন্তু, প্রধান আসামীর এ কথা অনেকেই মেনে নিচ্ছেন না। তাদের দাবি সে দ্ব›দ্ব ৪ মাস পূর্বেই থানায় বসে মীমাংসা করা হয়েছিল। তাহলে হত্যাকান্ডের প্রকৃত কারণ কী?
অনেকের ধারণা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ দ্ব›েদ্ব সৃষ্টি। আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার ৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শরিফুল ইসলাম রিফাত। বর্তমান কাউন্সিলর আশরাফুল হোসেন বাবু। রিফাত উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি। তিনি জিপু চৌধুরীর অনুসারী বলে পরিচিত। নিহত আল ইমরান পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক জিপু চৌধুরীর অনুসারী।


অন্যদিকে, বাবু কাউন্সিলর স্বেচ্ছাসেবকলীগের কোন পদে নেই। তিনি জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খোকনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আসামীরা সকলেই বাবু কাউন্সিলরের লোক হিসেবে পরিচিত। যার ফলে অনেকের ধারণা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হত্যাকান্ড হতে পারে।
অবশ্য, আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, কলেজের র‌্যাগ ডে পালন নিয়ে তাদের দ্ব›দ্ব ছিল। সে কারণে ৪/৫ মাস পূর্বে একবার তাদের মধ্যে মারামারি হয়েছিল। সে ঘটনা থানা পর্যন্ত গড়িয়েছিল। এই দ্বন্দ্ব ইমরানকে হত্যা করা হয়েছে।


প্রসঙ্গত, গত ১৬ সেপ্টেম্বর আলমডাঙ্গা পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক আল ইমরান (২৫) কে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে দূর্বত্তরা। দু'জন দূর্বৃত্ত আল ইমরানকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে । অ্যাপস ব্যবহার করে ইন্টারনেটে রিং দিয়ে ডেকে নিয়ে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মর্মান্তিক এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটানো হয়। স্থানীয়রা ইমরানকে উদ্ধার করে দ্রæত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। আল ইমরান পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান।


গোবিন্দপুর মাঠপাড়া বাইপাস সড়কে নির্মানাধীন ব্যাংকার ফখরুল ইসলামের বাড়ির সামনে আল ইমরান ও তার সহযোগী আব্দুস সাত্তার পুটের ছেলে আহাদ আলীর সাথে বসে ছিল। এসময় পূর্ব শত্রæ মাসুদ ও সাকিবকে একটি মোটরসাইকেল যোগে ওই স্থানে নামিয়ে দিয়ে যায়। এরপর মাসুদ ও সাবিক তাদের নিকট থাকা রামদা দিয়ে আল ইমরানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। ইমরানকে রামদা দিয়ে কুপাতে দেখে আহাদ আলী দৌড়ে আলমডাঙ্গা থানায় সংবাদ দেন। ইমরান পিটে ও পেটের নিচে কোপ খেয়ে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় দৌড়ে পালাতে গিয়ে পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়। পরে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত জখম আল ইমরানকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় ফাতেমা টাওয়ারে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। সেখান থেকে ইমরানকে দ্রæত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে হয়।

শ‌নিবার বিকেলে হত্যার সাথে জড়িত সকল আসামীদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আলমডাঙ্গা শহরে প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও গোবিন্দপুর গ্রামবাসী যৌথভাবে ওই কর্মসূচী পালন করে। বিক্ষোভ সমাবেশে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম রিফাতের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশাদুল হক বিশ^াস। সম্মানিত অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা পৌর সভার সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম সবেদ আলী। প্রধান বক্তা ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড. আব্দুল মালেক।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহবায়ক মতিয়ার রহমান মতি, সদর উপজেলা কৃষকলীগের আহবায়ক আব্দুল মতিন দুদু, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মফিজুর রহমান মাফি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক তরিকুল ইসলাম টুকুল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মিলন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হোসেন প্রমুখ। বক্তরা অতি দ্রæত সকল আসামিকে গ্রেফতারের দাবি ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


অন্যদিকে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় লাশ কুষ্টিয়া থেকে আলমডাঙ্গা পৌছলে লাশ নিয়ে স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মিরা শহরের ইন্ধনদাতাসহ হত্যাকারিদের গ্রেফতারপূর্বক বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

সর্বশেষ খবর
menu-circlecross-circle linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram