২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

টিলু -মহি-সেলিমের নেতৃত্বে বহু ভাগে বিভক্ত আলমডাঙ্গায় ঐক্যের স্বপ্ন দেখছেন তৃণমূলের বিএনপি

প্রতিনিধি :
শরিফুল ইসলাম রোকন
আপডেট :
এপ্রিল ২৯, ২০২৩
14
বার খবরটি পড়া হয়েছে
শেয়ার :
| ছবি : 

অচলায়তন ভেঙ্গে আলমডাঙ্গা উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি নতুন করে উজ্জীবিত হতে শুরু করেছে। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলু নতুন প্রজন্মের সেন্সসেশন আসিরুল ইসলাম সেলিম ও শেখ সাইফুল ইসলামকে কেন্দ্র করে বিএনপির এই নব জাগরণ চোখে পড়ছে। পর্দার আড়ালে থেকে দলকে ঢেলে সাজাতে নেতৃবৃন্দকে উজ্জীবিত করছেন বিএনপির আরেক প্রভাবশালী নেতা মীর মহিউদ্দীন। তাদের আহ্বানে বিএনপির দীর্ঘদিনের উপেক্ষিত ও অবহেলিত নেতাকর্মীরা নতুন আশায় বুক বেঁধেছেন। রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠছেন তারা। তার সবচে বড় প্রমাণ দৃশ্যমান হয় ঈদের আগে টকিজ সিনেমা হলের ইফতার মাহফিল। যেখানে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মী ছুটে এসেছিলেন। তৃণম্যুলের এসকল নেতাকর্মী মনে করেন, বিএনপির চির পরিচিত ও সার্বজনীন গ্রহণযোগ্য নেতাদের বাইরে রেখে বিএনপিকে দ্বিধাবিভক্ত করে রাখা হয়েছে। নিজেদের ক্ষুদ্র ব্যক্তি স্বার্থে দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। দলকে চরম ক্ষতির সম্মুখিন করা হয়েছে। আলমডাঙ্গা বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা হলেও আজ দলীয় কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়েছে।


মূলত, আলমডাঙ্গায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মোটা দাগে তিনভাগে বিভক্ত ছিল। কিছুকাল আগেও আলমডাঙ্গায় টিলু গ্রুপ, মীর মহি গ্রুপ ও মজিবর গ্রুপ ছিল। গত ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের টিকেট পেয়ে সামনে আসেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি নির্বাচনে দলের বিভক্ত গ্রুপকে এক কাতারে আনতে চরমভাবে ব্যর্থ হন। এরপর থেকেই শরীফ গ্রুপের জন্ম হয়। এর পূর্বে শরিফ গ্রুপের অস্তিত্ব ছিল না। মজিবর গ্রুপ, মীর মহি গ্রুপ ও টিলু গ্রুপ ছিল। মজিবর গ্রুপের জেলার নেতৃত্বে ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সাবেক জনপ্রিয় সাংসদ সহিদুল ইসলাম বিশ্বাসের সহোদর অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এ গ্রুপ টি বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠে। পরবর্তিতে তিনি রাজনীতিতে ইন অ্যাক্টিভ হলে এ গ্রুপটি অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। অস্তিত্ব সংকট আরও ঘনিভূত হয় গ্রুপটির আলমডাঙ্গার নেতৃত্বদানকারী মজিবর রহমানের দীর্ঘ অসুস্থতায়। এরই এক পর্যায়ে ২০২২ সালে শরিফের নেতৃত্বে আলমডাঙ্গা উপজেলাব্যাপী বিএনপির নতুন কমিটি গঠণের কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় মজিবর গ্রুপের কিছু ব্যক্তিদের মধ্যে আজিজুর রহমান পিন্টু, ওল্টু, আনিছুর রহমানসহ অনেকে তার সাথে যোগ দেন।

এ গ্রুপের উপজেলা সভাপতি ( সদ্য প্রয়াত আব্দুল জব্বার) টিলু গ্রুপ থেকে যোগদেন শরিফ গ্রুপে। আক্তার জোয়ার্দ্দার যোগ দেন মীর মহি গ্রুপ থেকে। তবে শরিফ গ্রুপ এ দুটি গ্রুপকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারেনি। আলমডাঙ্গার বিভিন্ন গ্রæপে বিভক্ত বিএনপিকে শরিফ ঐক্যবদ্ধ করতে পারেননি। বরং বিভেদের সলতে বাড়িয়ে দিয়ে তিনি প্রয়াত আব্দুল জব্বারের নেতৃত্বে দায়সারাগোচের আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি গঠণ করেন। গঠণ করা হয়েছে ইউনিয়ন কমিটিও। ইউনিয়ন কমিটি গঠণ নিয়েও এন্তার অভিযোগ রয়েছে। টিলুর প্রবল প্রতাপ ও জনপ্রিয়তার দরুণ সব ইউনিয়নে বসে স্ব স্ব ইউনিয়ন কমিটি গঠণ করতে পারেনি শরিফ গ্রæপ । এক ইউনিয়নে বসে একাধিক কমিটি এমনকি ওল্টুর বাগানে বসেও ইউনিয়ন কমিটি তৈরির অভিযোগ তুলেছেন প্রতিপক্ষরা।
এতদিন পর শরিফের নেতৃত্বে বিএনপির কমিটি হলেও এভাবে বিএনপিকে বিভক্ত রেখে কমিটি করাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেননি তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের মাঝে হতাশা বেড়েছে। বিএনপিতে গ্রæপিং আরও দানা বেধেছে। দলীয় সকল কর্মসূচীতে অনীহা দেখা গেছে। শরীফের নেতৃত্বে গ্রæপ জাতীয় দিবসেও কর্মসূচী দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হন। এতে দলের নেতাকর্মীরা হতাস হয়ে পড়েন।

বিএনপির সাড়া জাগানো খুলনা বিভাগীয় সম্মেলনে শরীফ গ্রুপের উল্লেখযোগ্য কাউকে অংশ নেওয়ার কথাও শোনা যায়নি। এরই মাঝে গত ২৫ ফেব্রæয়ারি চুয়াডাঙ্গায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালনের সময় আকস্মিক স্ট্রোক করে মারা যান এ গ্রæপের উপজেলা সভাপতি আব্দুল জব্বার। ফলে কার্যত নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে আলমডাঙ্গার শরিফ গ্রুপ ।


অন্যদিকে,বেশ কিছু বছর পূর্বে টিলু-মীর মহি গ্রুপ একত্রিত হয়েছে। গত দুবার পৌর ইলেকশনে টিলু গ্রæপের অধিকাংশ নেতাকর্মী মীর মহির পক্ষে মাঠে ছিলেন। মজিবর গ্রুপের নেতা মজিবর রহমান অসুস্থ। তবে এ গ্রুপের বর্তমান লিডিং নেতা মজিবর রহমানের সহোদর সাবেক কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন ও আনিচুর রহমান যোগ দিয়েছেন টিলু গ্রুপের সাথে।
উপজেলা বিএনপির অন্দরমহলে বিভক্ত হওয়া নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার জোর প্রচেষ্টা চলছে। ঐক্য প্রক্রিয়ার এ খবরটি এখন নেতাকর্মীদের মুখে মুখে। জানা গেল শহিদুল কাউনাইন টিলু, আসিরুল ইসলাম সেলিম, শেখ সাইফুল ইসলাম কিছু সিনিয়র নেতার পরামর্শে ঐক্য প্রক্রিয়ার এ গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। তাদের অব্যাহত এই প্রচেষ্টা বেশ সফলও হচ্ছে বলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি।


এই ঐক্যে প্রক্রিয়াকে তারা সাধুবাদও জানাচ্ছেন। দীর্ঘদিন থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভেদাভেদ ছিল দৃশ্যমান ও দৃষ্টিকটুও। পৃথকভাবে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন ছাড়াও স্থানীয় কর্মসূচিও পালিত হতো আলাদাভাবে। এমনকি আলমডাঙ্গা পৌরসভা ইলেকশনে দলীয় প্রার্থি মীর মহি উদ্দিনের বিপক্ষে আওয়ামীলীগ প্রার্থির পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট করেছেন শরীফ গ্রুপের একাধিক নেতা। এ নিয়ে দলের কর্মী-সমর্থকদের ক্ষোভের অন্ত নেই। গ্রুপিং-দ্ব›দ্ব চলমান থাকায় পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালনের কারণে রাজপথের আন্দোলন তেমন দৃশ্যমান হয়নি কোন গ্রুপেরই। শরীফ গ্রুপ দীর্ঘদিন জাতীয় দিবসে কর্মসূচিও পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নেতাকর্মীদের মনে।


অবশেষে টিলু-সেলিম ও সাইফুলের উদ্যোগের পর থেকে বরফ গলতে শুরু করে মান-অভিমানে থাকা তৃণমূলের অধিকাংশ নেতাকর্মীর। এমনটা জানালেন আলমডাঙ্গা উপজেলার ভোদুয়া গ্রামের পান্না চৌধুরী।


আলমডাঙ্গা উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রামের নাজমুল করিমের বয়স এখন ৪৫ বছর। ছাত্রদলের মাধ্যেমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি তার। তিনি বলেন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় বিএনপির সমার্থক নাম টিলু উস্তাদ। মীর মহি উচ্চ শিক্ষিত, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও একাধিক বারের পৌর মেয়র। আলমডাঙ্গা -চুয়াডাঙ্গা বিএনপির রাজনীতিতে তিনি এক বটবৃক্ষ। এ দুজনকে বাদ রেখে বিএনপিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না। এটা এখন আরও স্পস্ট। তাদেরকে বাইরে রেখে বিএনপির কমিটি করা আসলে বিএনপির বিরুদ্ধেই চক্রান্ত করার সামিল।


হাটবোয়ালিয়ার সোহেল হুদা বলেন, টিলু উস্তাদ- সেলিমের মাঠে নামার পর থেকে ধীরে ধীরে মাঠে আন্দোলনে পরিচিত দৃশ্যপটে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। দাবি উঠেছে দলের দুর্দিনে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের। দাবি উঠেছে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।

সর্বশেষ খবর
menu-circlecross-circle linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram