১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলীপ কুমার আগরওয়ালার জনসভায় হাজার হাজার নারী-পুরুষের উপচেপড়া স্রোত

প্রতিনিধি :
শরিফুল ইসলাম রোকন
আপডেট :
জানুয়ারি ১, ২০২৪
80
বার খবরটি পড়া হয়েছে
শেয়ার :
| ছবি : 

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বছরের প্রথম দিনে নির্বাচনী প্রচারনার উড়ন্ত ছক্কা হাঁকিয়ে দিয়েছেন। হাজার হাজার নারী-পুরুষের উপচেপড়া স্রোত আলমডাঙ্গার এটিম মাঠ টইটম্বুর করে তা আশপাশের সড়কে ছড়িয়ে দিয়ে নিজের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছেন তিনি। ক'দিন আগে শুধু পৌরসভার ভোটারদের নিয়ে অভূতপূর্ব সাড়াজাগানো একটি পথসভার পর গতকাল সোমবার বিকেলে ছিল উপজেলা ব্যাপী বিরাট জনশক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন। দীর্ঘদিনের বঞ্চিত, অবহেলিত ও অপমানিত আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা এই বিশাল নির্বাচনী প্রচারনার আয়োজন করেন।


আলমডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র হাসান কাদির গনু মিয়ার সভাপতিত্বে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঈগল প্রতিকের প্রার্থী দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। এটিম মাঠভর্তি জনগনের গগনবিদারী ঈগল ঈগল শ্লোগানের মধ্যে দিলীপ কুমার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে প্রথমেই বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আমরা স্বাধীন এ দেশ পেতাম না। বঙ্গবন্ধুর শক্তি ছিল দেশের জনগণ।


এসময় তিনি মাঠভর্তি জনগনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, চুয়াডাঙ্গাবাসী আজ পরিবর্তন চায়। তারা আর কোন নির্দিষ্ট পরিবারের গন্ডিতে আটকে থাকতে চায় না। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারাদেশে উন্নয়ন হলেও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে তার সুফল আসেনি। তাই আমি বিজয়ী হলে এই জেলাকে স্মার্ট চুয়াডাঙ্গায় রূপ দেব।


দিলীপ আগরওয়ালা আরো বলেন, আলমডাঙ্গা-চুয়াডাঙ্গার ধুলো-মাটি আমার গায়ে লেগে আছে। আমি এই জনপথের মাটি ও মানুষের টানে বার বার ছুটে আসি। এই টানই আমাকে নামিয়েছে ভোটের মাঠে। এই টানই আমাকে নামিয়েছে ঈগল প্রতীক নিয়ে। এই জনপদের পরিবর্তনের জন্য। ইনশাআল্লাহ সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় আপনাদের চেষ্টায় পরিবর্তন আসবেই।পরিবর্তন না হলে এই জনপদের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমাদের শ্লোগান হবে, “উন্নয়নের জন্য পরিবর্তন চাই।“ আমি নির্বাচিত হলে এখানে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলবো, আলমডাঙ্গায় হাসপাতাল হবে, সদরে ৫০০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরিত করবো। এখানে যুব সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। অবকাঠামোগত উন্নয়ন করবো।


সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বন্ধের আহবান জানিয়ে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক। তাই নির্বাচনের মাঠে হিন্দু-মুসলমান বিভেদ সৃষ্টি করবেন না। এসময় তিনি প্রত্যেক নির্বাচনী আসনের প্রত্যেক ইউনিয়নে একটি করে মডেল মসজিদ, মাদরাসা, গোরস্তান, শ্মশান, মন্দির গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।


পরিবারের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে দিলীপ আগরওয়ালা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আমার পরিবারের অবদান রয়েছে। আমার মাতামহ ও আপন দুই মামা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর বিহারীদের নারকীয় হামলায় ইতিহাসের কুখ্যাত “অপারেশন খরচাখাতায় আমার পরিবারের অনেকেই প্রাণ দেন। আমার মায়ের নামে করা স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, “তারা দেবী ফাউন্ডেশনের” কথা আপনারা সবাই জানেন। ব্যক্তি উদ্যোগে আপনাদের পাশে আছি। সব সময় থাকব।


দিলীপ আগরওয়ালা আরও বলেন, বৃহৎ পরিসরে উন্নয়নের জন্য এমপির ডিও লেটার ছাড়া অনেক কিছুই সম্ভব নয়। একটা স্বাক্ষর অনেক গুরুত্বপূর্ণ। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য আমি এমপি হতে চাই। চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গার মানুষকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করার জন্য আমি এমপি হতে চাই। আমি আপনাদের কথা চিন্তা করে এখানে এসেছি। আমাকে সৃষ্টিকর্তা যতটুকু দিয়েছে তা দিয়ে আমার পরবর্তী তিন প্রজন্ম সুখে-শান্তিতে জীবন কাটাতে পারে। কিন্তু সবকিছু ছেড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমি আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছি।


তিনি বলেন, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এই সরকারই দিয়েছে। কিন্তু চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গায় বন্টন সমানভাবে হচ্ছে না। আমি নির্বাচিত হলে এসব অনিয়ম, বৈষম্য থাকবে না। আমি এমপি হলে প্রত্যেক ইউনিয়নে একটি মডেল মসজিস , একটি মডেল মাদ্রাসা ও একটি মডেল পাবলিক কবরস্থান করবো। এছাড়াও প্রতিটা ইউনিয়নে একট মডেল শ্মশান ও মডেল মন্দির করবো। কর্মমুখী শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য আমি প্রতিজ্ঞবদ্ধ। কর্মসংস্থান নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখি; বেকার মুক্ত হবে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা। সৃষ্টিকর্তা যদি সুযোগ দেয়, ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা আমি উপহার দেবো।


আলমডাঙ্গাবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ৫২ বছরের ইজারা শেষ করতে হলে ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। আর এইবার যদি ভোটকেন্দ্রে না যান, তবে ওই পরিবার ১০০ বছরের চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গার ইজারা নিবেন। কী করবেন? সিদ্ধান্ত আপনাদের।


গতকাল বিকেলে নির্বাচনী জনসভা শুরুর আগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা ঈগল প্রতিকের শ্লোগান দিয়ে এটিম মাঠে আসতে থাকেন। সাড়ে ৩টার দিকে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। নির্বাচনী মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে ঢুকতে না পেরে মিছিল পাশের সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। আশেপাশের বাড়ির ছাদেও বহু মানুষকে অবস্থান করতে দেখা যায়। জনগনের এমন স্রোত আন্দাজ করেই আয়োজকরা শহরের প্রধান প্রধান সড়কে মাইক বেঁধে দেন।


জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল মালেক, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক অ্যাড. শফিকুল ইসলাম শফি, আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক কাজী রবিউল হক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আতিয়ার রহমান, সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক ও সাবেক বিআরডিবি চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মহিদ, আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অ্যাড. সালমুন আহমেদ ডন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, উপজেলা জাসদের সভাপতি মোল্লা গোলাম সরোয়ার, সাধারন সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস, পৌর জাসদের সাধারন সম্পাদক কাউন্সিলর ডালিম হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম মন্টু, নুরুল ইসলাম, সাখাওয়ান হোসেন টাইগার, আব্দুল হালিম।

জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান কাওছার আহমেদ বাবলু ও পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মতিয়ার রহমান ফারুকের উপস্থাপনায় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ৭০“র অগ্নিসেনা মঈন উদ্দিন পারভেজ, পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক রেজাউল হক তবা, ডাউকি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম দিপু মাস্টার, জেলা কৃষকলীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হোসাইন দিপক, কালিদাসপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোল্লা কামরুজ্জামান শামিম, গাংনী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক রকিবুল ইসলাম, খাসকররা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ার মাস্টার, জেলা যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী আফরোজা পারভীন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সাজ্জাদুল ইসলাম খান স্বপন, যুবলীগ নেতা কাউন্সিলর আশরাফুল হোসেন বাবু, হাসিবুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান রুবেল, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি নয়ন সরকার, কলেজছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক সেলিম রেজা তপন, ছাত্রলীগ নেতা টিটন, সজীব, এসকে শাকিলসহ বিভিন্ ইউনিয়ন থেকে আগত হাজার হাজার সাধারন নারী-পুরুষ ভোটারবৃন্দ।

সর্বশেষ খবর
menu-circlecross-circle linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram