২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আলমডাঙ্গায় এক ঘন্টার ব্যবধানে একই গ্রামে দাবদহে দুই নারীর মৃত্যু

প্রতিনিধি :
শরিফুল ইসলাম রোকন
আপডেট :
এপ্রিল ২৩, ২০২৪
48
বার খবরটি পড়া হয়েছে
শেয়ার :
| ছবি : 

আলমডাঙ্গায় তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে (হিট স্ট্রোক) এক ঘন্টার ব্যবধানে দুইজন মারা গেছেন। সোমবার (২২এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯ টায় স্বামীর জন্য মাঠে ভাত নিয়ে যাওয়ার সময় আশুরা খাতুন(২৫) ও সকাল সাড়ে ১০ টায় আয়েশা বেগম(৭০) নামের দুই মহিলা মারা যান। তারা দু'জনই আলমডাঙ্গা উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের বেগুয়ারখাল গ্রামের বাসিন্দা।


গ্রামেরসূত্রে জানা যায়, বেগুয়ারখাল গ্রামের আনোয়ার হোসেন খুব সকালে না খেয়েই মাঠে ক্ষেতে কাজ করতে যান। সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে স্ত্রী আশুরা খাতুন স্বামীর জন্য মাঠে ভাত নিয়ে যাচ্ছিলেন। স্বামীর ক্ষেত পর্যন্ত পৌঁছনোর আগেই জমির আইলে আশুরা খাতুন মাটিতে পড়ে যান। মাঠের কৃষকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশুরাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে তোড়জোড় করার সময়ই তিনি মারা যান। আশুরা-আনোয়ার দম্পত্তির একটি সাত বছরের মেয়ে সন্তান রয়েছে।


এর এক ঘন্টা পর সকাল সাড়ে ১০ টায় একই গ্রামের আক্কাস আলীর স্ত্রী আয়েশা বেগম মারা যান। ক'দিনের তীব্র অনলবর্ষী গরমে তিনি হাঁসফাঁস করছিলেন।


ঘটনাস্থলে উপস্থিত গ্রাম্য চিকিৎসক রাশেদুল ইসলাম বলেন, কয়দিনের তীব্র গরমে আয়েশা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুজনই হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে তিনি জানান।


প্রসঙ্গত, চুয়াডাঙ্গায় টানা ৫ দিন ধরে প্রচÐ দাবদাহ বইছে। বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় জেলা জুড়ে অনুভূত হচ্ছে ‘মরুর উষ্ণতা’। অনলপ্রবাহ। সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পারদ উঠেছে ৪২.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতাও উল্লেখযোগ্য।


এদিকে, বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমে জনজীবনে অস্বস্তি নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক-শ্রমিকসহ খেটে খাওয়া প্রান্তিক মানুষ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রীষ্মকালীন ছুটির আগেই অতিরিক্ত গরমে ১ সপ্তার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছ।


প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে। গত মঙ্গলবার থেকে জেলায় একাধারে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে।
গত বছরের ১৯ ও ২০ এপ্রিল মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা অতি তীব্র দাবদাহ। কাছাকাছি সময়ে বৃষ্টি না হলে গত বছরের রেকর্ড এবার ভেঙে যেতে পারে বলেই অভিজ্ঞমহলের আশঙ্কা প্রচÐ গরমে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ।


প্রচÐ গরমে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। বাড়িতে পোষা প্রাণি, বন্য প্রাণিদেরও নাভিশ্বাস অবস্থা। প্রচÐ দাবদাহে কৃষি শ্রমিকেরা কাজের সময় পরিবর্তন করেছেন। ভোরে আজানের সময় কাজে যোগ দিয়ে রোদের তেজ বাড়ার আগেই বাড়িতে যাচ্ছেন। বোরো ক্ষেতে সেচ দেওয়ার গজন্টা খানেকের ভেতর মাঠ পানিশূন্য হয়ে যাচ্ছে।


জিকে ক্যানেল পানিশূন্য থাকায় এ বছর বোরো ক্ষেতে থৈ থৈ পানি নেই। ফলে মাঠে গরম অত্যধিক। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ধান চাষে বেশি খরচ হবে। আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ডিপ টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। মাটির নীচে পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিম্নে চলে গেছে।


ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলায় হিট অ্যালাট জারি করা হয়েছে।
প্রচÐ দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমের কারণে গায়ে ঘাম বসে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এই জেলার মানুষ । সরকারি- বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জ্বর, শ্বাসকষ্ট,গলা ব্যথা, ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া অ্যাজমা, হাঁপানিসহ শ্বাসকষ্টের রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে।


চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগ ছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলি ও ব্যক্তিগত চেম্বারে গরমজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের চাপ বাড়ছে। রোগীদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে যতœশীল হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দাবদাহ চলাকালে ভাজা পোড়া, চা-কফি ও কোমল পানীয় এড়িয়ে বেশি বেশি পানি, খাওয়ার স্যালাইনসহ তরল খাবার খেতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর
menu-circlecross-circle linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram