সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
মেহেরপুরে কাঁচাবাজারে আগুন | টমেটোর কেজি ২৫০ টাকা, চড়া দাম মাছ ও অন্যান্য সবজির
মেহেরপুরের স্থানীয় খুচরা বাজারে টমেটোর কেজিপ্রতি দাম বেড়ে ২৫০ টাকায় ঠেকেছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় টমেটোর পাশাপাশি অন্যান্য বেশ কয়েকটি সবজির দামও উর্ধ্বমুখী। অন্যদিকে, মাছের বাজারেও একই চিত্র বিরাজ করছে। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে বাড়তি দামে মাছ কিনতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় মেহেরপুর শহরের প্রধান প্রধান বাজারে ঘুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দরদামে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। গাজর, আদা, শিম ও ফুলকপির মতো পণ্যের উচ্চমূল্য ক্রেতাদের পকেটে টান ফেলছে, যদিও অল্প কিছু সবজির দাম কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে।
বর্তমান খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকা, রসুন ১০০ টাকা, কচু ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৯০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, লাউ ৪০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, গাজর ১৫০ টাকা, লালশাক ৪০ টাকা, পটল ৪৫ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৬০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, শিম ১২০ টাকা, ফুলকপি ১২০ টাকা এবং মুলা ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি বাজারের চিত্রে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ টাকা, রসুন ৮৫ টাকা, কচু ৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ৭৫ টাকা, বেগুন ৬৫ টাকা, আদা ১৪০ টাকা, আলু ১৯ টাকা, পেঁপে ১০-১২ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, গাজর ১২৫ টাকা, শিম ৯০ টাকা এবং ফুলকপি ৯০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে।
বাজারের সবজি বিক্রেতা জাব্বার মিয়া জানান, মোকামে কিছু সবজির আমাদানি কম থাকায় বাজারে দাম চড়েছে। বিশেষ করে টমেটোর যোগান একেবারেই সীমিত। নতুন সবজি পুরোদমে বাজারে না আসা পর্যন্ত এই দাম কমার আশা কম।
কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা সবুজ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "একটি জরুরি সবজি টমেটোর দাম আড়াইশ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। বাকি অধিকাংশ সবজির দামও চড়া। সাধারণ আয়ের মানুষ হিসেবে এত বাড়তি দামে সবজি কেনা আমাদের জন্য মারাত্মক কঠিন হয়ে পড়েছে।"
মেহেরপুর তহ-বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান জানান, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। এছাড়া বিশ্ববাজারের প্রভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ বেশ বেড়ে গেছে। এতে পণ্য পরিবহনে বাড়তি ব্যয় হওয়ায় অনেকে কম পরিমাণে মালামাল আনছেন। পাশাপাশি গ্রাম থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরাসরি ক্ষেত থেকে সবজি কিনে খুচরা বিক্রি করায় মূল বাজারে যোগান কিছুটা কমেছে। অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়ার চাপ যাতে ভোক্তার ওপর না পড়ে, সে জন্য জ্বালানি তেলের সাপেক্ষে ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানান তিনি।
মাছের বাজারেও উত্তাপ
সবজির পাশাপাশি স্থানীয় মাছের বাজারেও উত্তাপ কমেনি। বিক্রেতাদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী বাজারে মাছের সরবরাহ কম। খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি বড় রুই ৫০০ টাকা, সিলভার কার্প ২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, পাঙ্গাস ১৯০ টাকা, গ্লাস কার্প ৪০০ টাকা, মাঝারি আকারের ইলিশ ৮৫০ টাকা, বড় কাতলা ৪০০ টাকা, দেশি চিংড়ি ১ হাজার টাকা, কই ২০০ টাকা ও বাটা মাছ ২০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মাছ বিক্রেতা বকুল হালদার বলেন, আগের সপ্তাহের মতোই মাছের বাজার চড়া। সরবরাহ না বাড়লে দর কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। ছুটির দিনে বেচাকেনা কিছুটা বেশি হলেও অন্যান্য দিন ক্রেতা উপস্থিতি একেবারেই কম থাকে।
বাজার করতে আসা শিক্ষার্থী মাফুজুর রহমান জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরেই মাছের বাজারে অতিরিক্ত দাম দেখা যাচ্ছে। সীমিত আয়ের পরিবার ও শিক্ষার্থীদের পক্ষে এই চড়া দামে মাছ কিনে খাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাংস ও মুদি পণ্যের বাজার পরিস্থিতি
মাংসের বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকা এবং ছাগির মাংস ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা এবং হাঁস ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে।
চাল ও মুদি পণ্যের মধ্যে খুচরা বাজারে আটাশ চাল ৫৫ টাকা, লাল স্বর্ণা চাল ৫০ টাকা, আটা ৫০ টাকা, মসুর ডাল ১২০ টাকা, কলাই ডাল ২০০ টাকা ও চিনি ১১৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজার মনিটরিং জোরদার করে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রেতারা।