সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকটে উত্তাল রাজপথ | লাখো মানুষের প্রতিবাদ
প্যারিস, ফ্রান্স: জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় চরম অব্যবস্থার প্রতিবাদে ফ্রান্সের রাজপথে আবারও নেমে এসেছেন লাখো মানুষ। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) দেশজুড়ে এই বিক্ষোভে অংশ নেন বিপুল সংখ্যক নাগরিক, যারা সরকারের উদাসীনতার বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে হাল ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়, রাজপথে ফেরাটা ছিল অপরিহার্য।
এমিলি গ্রঁদ্রি নামে এক ফরাসি মা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে এই মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গত সপ্তাহে একটি বিক্ষোভে কাঁদানে গ্যাসের মুখে পড়লেও, তার সন্তানকে আগলে রাখতে শনিবার তিনি আবারও মিছিলে যোগ দেন। এমিলির ১৫ বছর বয়সী ছেলে অ্যারন বলেন, "আমাদের স্কুল ভবনগুলো জরাজীর্ণ। শিক্ষকের তীব্র সংকট চলছে। অথচ সরকার এসব বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন।" মিছিলে পুলিশের বাধা দেওয়ার ঘটনাকে সে নিছক ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে বর্ণনা করে।
২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ক্লারা লেব্বাদি রয়টার্সকে জানান, যখন মানুষ ভাঙচুর হওয়া দোকানের জন্য শোক প্রকাশ করে, তখন তাদের চোখ এড়িয়ে যায় সেইসব মানুষের দুর্দশা যারা সারা বছর ধরে আরও দরিদ্র হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা একটি প্ল্যাকার্ডেও এই ক্ষোভের চিত্র ফুটে ওঠে, যেখানে লেখা ছিল, "জিনিসপত্র ভাঙলে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু মানুষকে যাঁরা আঘাত করেন, তাঁদের কী হবে?"

ফরাসি শিক্ষার্থী লাওয়ের মতে, "ভয়ের মুখে আন্দোলন থামিয়ে দিলে দাবি আদায় সম্ভব নয়।" ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যোগাযোগকর্মী নাদেজ বলেন, "সবাই ভীত, তবে নিজেদের অধিকার রক্ষা করতেই হবে।" শিক্ষক বেনেদিক্ত পিত্তিওঁ বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, তরুণ প্রজন্মের দাবি সরকারের কানে না পৌঁছানোয় তিনি তার ১৬ বছরের মেয়েকে নিয়ে মিছিলে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, আট বছর বয়সী নাতনির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের প্রত্যাশা নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকিং পরামর্শক পিয়েরও বিক্ষোভে অংশ নেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে ৪ লক্ষ ১০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের কথা জানালেও, বিভিন্ন ইউনিয়ন দাবি করছে এই সংখ্যা প্রায় ৮ লক্ষ। এই বিশাল জনবিক্ষোভের কারণে বিশ্বখ্যাত ল্যুভর জাদুঘর বন্ধ রাখা হয়, ফলে দর্শনার্থীরা ঐতিহাসিক মোনালিসা দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। মুসে দর্সে এবং প্যারিস অপেরাও বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। শনিবার রাতে প্যারিস ও মার্সেই শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
১৪৪ ফ্লাইট ব্যাহত, চরম ভোগান্তিতে ২২ হাজারের বেশি যাত্রী
৯ ঘন্টা আগে
ইরানে পুনরায় সামরিক হামলার ইঙ্গিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের, সর্বাত্মক জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের
১ দিন আগে
ভ্যানিটি ফেয়ারের অনুসন্ধানে নতুন মোড়
১ দিন আগে