সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
ইউরোপে 'ভায়োলেন্স-অ্যাজ-এ-সার্ভিস' | কিশোরদের ব্যবহার করে ভাড়াটে খুনের ভয়ংকর চক্র
ইউরোপজুড়ে এখন 'ভায়োলেন্স-অ্যাজ-এ-সার্ভিস' (VaaS) নামক এক ভয়ংকর অপরাধী চক্রের বিস্তৃতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংঘবদ্ধ অপরাধীরা মোটা অঙ্কের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোর-কিশোরীদের ভাড়াটে খুনি হিসেবে ব্যবহার করছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিসি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোর শীর্ষে রয়েছে 'ফক্সট্রট নেটওয়ার্ক'। এটি সুইডেন থেকে পরিচালিত হলেও বর্তমানে এর মূল নেটওয়ার্ক ইরানের সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে। ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম এবং পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্র মেসেজিং অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে কম্পিউটার গেমের ছদ্মবেশে কিশোরদের বিভ্রান্ত করে এবং খুনের মিশন দেয়। এরপর অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তাদের কাছে অস্ত্র ও নগদ অর্থের ভৌগোলিক অবস্থান পাঠিয়ে থাকে গ্যাংয়ের সমন্বয়কারীরা।
ধারণা করা হচ্ছে, ২০২২ সাল থেকে এই 'ফক্সট্রট নেটওয়ার্ক' ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩৫টি হত্যাকাণ্ড এবং ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক বিস্ফোরক ও গ্রেনেড হামলায় জড়িত ছিল। সম্প্রতি লন্ডনের ওল্ড বেইলির একটি জুরি আদালত নরওয়ের ১৮ বছর বয়সী যুবক জোহানেস নাটল্যান্ডকে যুক্তরাজ্যে ভাড়াটে খুনের পরিকল্পনার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তদন্তে প্রকাশ পায়, মাত্র ২১ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে তাকে যুক্তরাজ্যে এক ব্যক্তিকে হত্যার জন্য পাঠানো হয়েছিল। 'এজেন্ট ৪৭' এবং 'জেনারালেন' ছদ্মনামের 'ফক্সট্রট নেটওয়ার্কের' একাধিক গ্যাং লিডার নাটল্যান্ডকে পুরো প্রক্রিয়ায় কম্পিউটার গেমের চরিত্রের মতো করে পরিচালনা করেছিল। তবে যুক্তরাজ্যের কাউন্টার টেররিজম পুলিশ তাকে সময়মতো গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
'ফক্সট্রট' গ্যাংয়ের প্রধান রাওয়া মজিদ বর্তমানে সুইডেন ও তুরস্ক থেকে পালিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থান করছেন। সুইডিশ সম্প্রচার মাধ্যম এসভিটির অনুসন্ধানী সাংবাদিক ডায়াম্যান্ট সালিহু জানিয়েছেন, তেহরানে মুক্তভাবে বসবাসের বিনিময়ে রাওয়া মজিদ এবং তার নেটওয়ার্ক ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শত্রুদের ওপর আঘাত হানার চুক্তি করেছে। তাদের লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে ভিন্নমতাবলম্বী, সাংবাদিক ও ইসরায়েলি স্থাপনা। যুক্তরাজ্য সরকার ২০২৫ সালের এপ্রিলে মজিদ ও তার 'ফক্সট্রট নেটওয়ার্কের' ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউরোপোল এই ধরনের ভাড়াটে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে ১১টি দেশের একটি যৌথ টাস্কফোর্স 'ওটিএফ গ্রিম' গঠন করেছে। ইউরোপোলের কর্মকর্তা অ্যান্ডি ক্র্যাগ এই পরিস্থিতিকে কোমলমতি তরুণদের 'সস্তায় খুনের কাজে ব্যবহার' বলে আখ্যায়িত করেছেন। তদন্তে আরও জানা গেছে, এই অপরাধী চক্র তরুণদের বড় অঙ্কের অর্থের লোভ দেখালেও তারা ধরা পড়লে বা কাজ শেষ হলে কোনো অর্থই প্রদান করে না। সম্প্রতি ইরাকে 'ফক্সট্রটের' অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক আলী শেহাদ আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে, এই 'ভিএএএস' মডেল বর্তমানে অন্যান্য অপরাধী চক্রও গ্রহণ করায় ইউরোপজুড়ে তরুণদের এমন সহিংসতায় জড়ানোর আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
নওগাঁয় নিষিদ্ধ সংগঠনের ২ নেতা গ্রেপ্তার
১ দিন আগে
আলমডাঙ্গায় মাদক ব্যবসায়ী সুষম কাওনাইন ও তাঁর স্ত্রী এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামী আমিরুল ইসলাম কারপি গ্রেফতার
৩ দিন আগে
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালা গ্রেপ্তার
৫ দিন আগে