সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
গাজার ধ্বংসযজ্ঞ এবার পশ্চিম তীরেও চান ইসরায়েলের কট্টরপন্থি মন্ত্রী
অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামগুলোতে গাজার বেইত হানুনের আদলে সামরিক অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তার এই উস্কানিমূলক মন্তব্য পশ্চিম তীরে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে বেন-গভির বলেছেন, পশ্চিম তীরে যেসব ফিলিস্তিনি ইসরায়েলিদের ওপর হামলা চালায়, তাদের শহর ও গ্রামকে ‘গাজার বেইত হানুনের মতো’ আচরণের মুখোমুখি করা উচিত। তিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রতি হামলায় জড়িত ফিলিস্তিনি এবং তাদের সমর্থকদের বাড়িঘর ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়ার দাবিও জানান। তার ভাষায়, “প্রত্যেক নিহত ইহুদির বিনিময়ে শত্রুপক্ষকে জমি ও বাড়িঘরের ক্ষতি বহন করতে হবে।”
ইসরায়েলি মন্ত্রীর এই বক্তব্য এসেছে পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে তেল শহরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের এক যৌথ অভিযানে চার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনার পর। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, অবৈধ হাভাত গিলাদ বসতির কাছে এক বন্দুক হামলায় একজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২১ জন নিহত হয়েছেন বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযান, গ্রেপ্তার ও সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১,১৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ২৪ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।