আলমডাঙ্গায় পুলিশের অভিযানে অবৈধ তেল মজুতচক্রের ৪ গ্রেফতার, জব্দ ১১ হাজার লিটার তেলসহ লরি: প্রশংসিত পুলিশ
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গায় পুলিশের অভিযানে অবৈধ তেল মজুতচক্রের ৪ গ্রেফতার, জব্দ ১১ হাজার লিটার তেলসহ লরি: প্রশংসিত পুলিশ
আলমডাঙ্গায় অবৈধ জ্বালানি তেল মজুত ও কালোবাজারি চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের সফল অভিযানে চারজনকে গ্রেফতার এবং বিপুল পরিমাণ তেল জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের এ উল্লেখযোগ্য সাফল্যে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং অনেকেই এ উদ্যোগের প্রশংসা ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
পুলিশ জানায়, সোমবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে বড়গাংনী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের একটি টহল দল উপজেলার কয়রাডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালায়। এসআই পবিত্র মন্ডল ও এএসআই মো. ইব্রাহীম হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ভালাইপুর-হাটবোয়ালিয়া সড়কের পাশে একটি লরি থেকে ড্রামে জ্বালানি তেল নামানোর সময় চারজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলতদিয়ার গ্রামের মৃত বদর উদ্দিনের ছেলে লরি চালক আলী হোসেন (৫৩), মৃত আবু হোসেনের ছেলে হেলপার মোজাম হোসেন (৪৫), পীরপুর মাঝেরপাড়ার সানোয়ার হোসেনের ছেলে রাহেন আলী (২৮) এবং আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রাডাঙ্গা গ্রামের শামসুল ইসলামের ছেলে টিটন আলী (৩৭)।
অভিযানকালে জব্দ করা তেলবাহী লরি (রেজি: ঝিনাইদহ-ঢ-৪১-০০১১) ও বিভিন্ন ড্রাম থেকে মোট ২ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেল এবং ৮ হাজার ৭০০ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে তেলের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন—বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করা হচ্ছিল। তারা খুলনা যমুনা ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করে এই ব্যবসা পরিচালনা করতেন বলেও জানিয়েছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা গেছে, জব্দকৃত তেলের মালিক চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলতদিয়াড়ের মৃত বিশাল আলীর ছেলে মোহাম্মদ বাপ্পী। পাশাপাশি এই চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় তেল সরবরাহ করা হতো বলে পুলিশ দাবি করেছে। এর মধ্যে রয়েছেন—কয়রাডাঙ্গার টিটন, ভাংবাড়িয়া এলাকার মিনারুল স্টোরের মালিক মিনারুল, হাট বোয়ালিয়ার পলাশ অটোমোবাইলসের মালিক আশিকুর রহমান পান্না এবং হারদি বাজারের বিশ্বাস স্টোরের মালিক সুমন। তবে এদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় আরও অন্তত দুইজন জড়িত থাকলেও তারা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, অবৈধ জ্বালানি তেল মজুত ও কালোবাজারি রোধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে এবং পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা পুলিশের এ সফল অভিযানের প্রশংসা করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের কার্যকর অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হলে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
স্থানীয়সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র জ্বালানি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আসছিল। এতে পরিবহন খাতসহ সাধারণ ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। হঠাৎ করে তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহে ঘাটতির পেছনে এ ধরনের অবৈধ মজুত বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের চক্র নির্মূলে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে তেল উত্তোলন, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা না গেলে অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ জ্বালানি তেল মজুত ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
দামুড়হুদার জুড়ানপুরে আল মাসুম বাবুর বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, জনজোয়ারে মুগ্ধ প্রার্থী
১৩ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে মাদক ও চুরি মামলা এবং গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ৮ জন গ্রেফতার
১৭ ঘন্টা আগে
দামুড়হুদায় সাড়ে ১৮ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক
১৮ ঘন্টা আগে