আলমডাঙ্গায় নির্ধারিত জায়গা নয়, অন্যের জমিতে বীর নিবাস।। ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে তদন্তে
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গায় নির্ধারিত জায়গা নয়, অন্যের জমিতে বীর নিবাস।। ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে তদন্তে
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদী গ্রামে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা লস্কর আলীর নামে নির্মিত সরকারি ‘বীর নিবাস’ নির্ধারিত জায়গায় নির্মাণ না করে অন্যের জমিতে নির্মাণের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তবে বীর নিবাসটি বিক্রি করার অভিযোগের সরাসরি কোনো প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে আবেদনকারী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ইসমাঈল হোসেনকে স্বচ্ছল ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।
বীর নিবাস নির্মাণের স্থান পরিবর্তনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, বীর নিবাস বিক্রির অভিযোগের সত্যতা নিয়ে ধোয়াশা থাকলেও এর সাথে সংশ্লিষ্ট ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই টাকা ধার বা ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। টাকা পরিশোধে বিলম্বের বিষয়টি বীর নিবাস বিক্রির অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিলেও বিক্রয় চুক্তির সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি বীর নিবাস বিক্রির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনূর আক্তার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস. এম. মাহমুদুল হককে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার দে। কমিটি বাড়াদি গ্রামে সরেজমিনে তদন্ত করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
নির্ধারিত জায়গার বদলে অন্যের জমিতে ঘর নির্মাণের প্রমাণ মিলেছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসমাঈল হোসেন নির্ধারিত জায়গায় বীর নিবাস নির্মাণ না করে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সায়েরা খাতুনের জমিতে সরকারি অর্থে নির্মিত বীর নিবাসটি নির্মাণ করেন।
ইসমাঈল হোসেন তদন্ত কমিটিকে জানান, বীর নিবাস বরাদ্দ পাওয়ার পর যে জমির দলিল জমা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে নির্মাণকাজ শুরু হলে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া আবাসন নির্মাণের নকশায় কিছুটা পরিবর্তন আসে। এতে নির্মাণকাজ স্থগিত হয়ে যায়। নিজের বসতবাড়িতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ জমি না থাকায় এক আত্মীয়ের মাধ্যমে সায়েরা খাতুনের জমিতে বীর নিবাস নির্মাণ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তবে নির্ধারিত জায়গা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নটি তদন্ত প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারি অর্থে নির্মিত বীর নিবাসটি ইসমাঈল হোসেন সায়েরা খাতুনের কাছে পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রির মৌখিক চুক্তি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এর অংশ হিসেবে সায়েরা খাতুন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছিলেন।
তবে তদন্তের সময় সায়েরা খাতুন বীর নিবাস কেনাবেচার কথা অস্বীকার করেন। তিনি তদন্ত কমিটিকে জানান, বীর নিবাস নির্মাণের জন্য প্রথমে নির্ধারিত জায়গা নিয়ে ইসমাঈল হোসেনকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছিলেন। পরে ইসমাঈল হোসেন বীর নিবাস নির্মাণের জন্য মৌখিকভাবে তাকে ১০ শতক আবাদি জমির বিনিময়ে তার বসতবাড়ির ২ শতক জমি দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
ইসমাঈল হোসেনও বীর নিবাস বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্ত কমিটিকে বলেন, নির্মাণের সময় তিনি সায়েরা খাতুনের কাছ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন।
ফলে বিক্রির অভিযোগের সরাসরি প্রমাণ না মিললেও সরকারি অর্থে নির্মিত বীর নিবাসকে ঘিরে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তদন্ত কমিটি প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে তথ্য সংগ্রহ করে ইসমাঈল হোসেনকে স্বচ্ছল ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে। অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারি অর্থে নির্মিত বীর নিবাস পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি তাই নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি কর্মকর্তা।
সচেতন মহলের মতে, শুধু বীর নিবাস বিক্রি হয়েছে কি না, সেটি দিয়ে বিষয়টি শেষ করা উচিত নয়। আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য, প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী নির্মাণস্থল, অন্যের জমিতে সরকারি অর্থে ঘর নির্মাণ, অনুমতি ছাড়া নির্মাণস্থল পরিবর্তন এবং সরকারি প্রকল্পের ঘর নির্মাণে ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়ার দাবির বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, এসব বিষয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা ও নথিপত্র যাচাই না হলে সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনূর আক্তার বলেন, “তদন্ত কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে । প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় ফুটপাত ও ব্রিজ দখলমুক্ত করতে অভিযান; আনন্দধামের ঝুঁকিপূর্ণ দোকান সরানোর নির্দেশ
১০ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গা ব্যায়ামাগার কর্তৃক নিউরো সার্জন অধ্যাপক ডা. মোখলেছুর রহমানকে সংবর্ধনা প্রদান
১২ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাব্বত আলীর দাফন সম্পন্ন
১৩ ঘন্টা আগে