আলমডাঙ্গার পাইকপাড়া জনকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ : নিউজ করতে যাওয়ায় সাংবাদিকদের হুমকি দিলেন জামায়াত নেতা
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গার পাইকপাড়া জনকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ : নিউজ না করার জন্য হুমকি দিলেন জামায়াত নেতা
আলমডাঙ্গা পাইকপাড়া জনকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। কোচিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়ার দাবি করেছে শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় পরীক্ষা বাতিল করে নতুন প্রশ্নপত্রে অন্যদিন পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত আবেদন করেছে তারা। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়েও স্মারকলিপি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের হুমকি দেন ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি পরিচয় দেওয়া রুজন আলী। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, এলাকায় প্রবেশ করতে হলে তাঁর অনুমতি নিতে হবে তার।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিদ্যালয়ে ইংরেজি প্রথম পত্রের টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর তারা দেখতে পায়, গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার পাইকপাড়া ওয়েলফেয়ার একাডেমি কেয়ারে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল রয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে অধিকাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষা না দিয়ে হল থেকে বেরিয়ে আসে।
পরে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কোচিং সেন্টারের সামনে মানববন্ধন করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং কোচিং সেন্টারটি বন্ধের দাবি জানায়। তাদের আরও অভিযোগ, পূজার ছুটির আগে অনুষ্ঠিত গণিত পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গেও কোচিং সেন্টারে নেওয়া পরীক্ষার প্রশ্নের অনেক মিল ছিল। এ ঘটনায় প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও এর গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা।
পাইকপাড়া জনকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন তৈরি করেছিলেন বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষিকা আক্তার জাহান। তিনি পূজার ছুটির আগেই প্রশ্ন তৈরি করে জমা দেন। পরে অন্য একজন শিক্ষককে দিয়ে প্রশ্নটি কম্পোজ করিয়ে চূড়ান্ত করা হয়। বাইরে থেকে কারও কাছ থেকে প্রশ্ন তৈরি বা সংগ্রহ করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
প্রধান শিক্ষক বলেন, “কোচিং সেন্টারের প্রশ্নের সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রশ্ন হুবহু কীভাবে মিলে গেছে, তা বুঝতে পারছি না। সকালে পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্নপত্র দেওয়ার পর অধিকাংশ শিক্ষার্থী হল থেকে বের হয়ে আসে। তারা আবেদন করেছে, ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা বাতিল করে নতুন প্রশ্ন তৈরি করে অন্যদিন নেওয়া হোক।”
বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষিকা আক্তার জাহান বলেন, “ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন তৈরির দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছিল। আমি পূজার ছুটির আগেই প্রশ্নপত্র তৈরি করে প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দিয়েছি। প্রশ্ন কীভাবে ফাঁস হলো, সে বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। আমার দায়িত্ব ছিল প্রশ্ন তৈরি করে প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়া, আমি তা করেছি।”
পাইকপাড়া ওয়েলফেয়ার একাডেমি কেয়ারের পরিচালক নীলচাঁদ হোসেন বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্ন তিনি নিজেই তৈরি করেছেন। অন্য কারও কাছ থেকে প্রশ্ন নেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রশ্ন তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নীলচাঁদ হোসেন জানান, গুগল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহযোগিতায় তিনি প্রশ্ন তৈরি করেছেন। তবে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নপত্র বা তৈরির প্রক্রিয়া দেখাতে বলা হলে তিনি তা দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে কথা বলার একপর্যায়ে কোচিং পরিচালক নীলচাঁদ হোসেন তাঁর মুঠোফোন থেকে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁকে নিজের ভাই হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। ওই ব্যক্তি রুজন আলী, যিনি ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি বলে পরিচয় দেন। ফোনে কথা বলার সময় রুজন আলী সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “এলাকায় ঢুকেছেন কার অনুমতিতে, ওই প্রতিষ্ঠান আমার। আপনাদের এত সাহস হয় কীভাবে আমার প্রতিষ্ঠানে আসার, এরপর থেকে এলাকায় ঢুকলে আমার অনুমতি নিয়ে ঢুকবেন।”
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর পাইকপাড়া জনকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৭৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন পাইকপাড়া ওয়েলফেয়ার একাডেমি কেয়ারে কোচিং করে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই এবং এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার বলেন, “এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমরা একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এলাকার সচেতন সহল ও অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয় ও কোচিং সেন্টার নিজেরা প্রশ্ন তৈরী করেছেন দাবী করছেন। তাহলে দুইটি প্রশ্নে হুবহু মিল হল কিভাবে। প্রশ্নপত্রের সঙ্গে কোচিং সেন্টারের প্রশ্নের মিল থাকার অভিযোগের সত্যতা, প্রশ্নপত্র কীভাবে তৈরি ও সংরক্ষণ করা হয়েছিল এবং এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ প্রশ্ন ফাঁসের জন্য দায়ী কে ?
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় কুমারী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহিদুল ইসলামের পক্ষে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
১২ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় মাদক মামলার পলাতক আসামি লিজা এবং ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেফতার
১২ ঘন্টা আগে
দামুড়হুদায় সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা আদিল গ্রেফতার
১৩ ঘন্টা আগে