সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
উপার্জন ও রিজিকে বরকত আনার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ নববি আমল
পার্থিব জীবনে প্রতিটি মানুষই সচ্ছলতা অর্জন ও জীবিকার সন্ধানে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যান। তবে শুধু প্রচুর অর্থ উপার্জন করলেই জীবনে শান্তি বা ‘বরকত’ নিশ্চিত হয় না। ইসলামে বরকত বলতে অল্প সম্পদেও প্রচুর কল্যাণ, স্থায়িত্ব ও মানসিক প্রশান্তি বোঝানো হয়, যা কেবল মহান আল্লাহর রহমতেই লাভ করা সম্ভব।
রসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল শিখিয়েছেন, যা দৈনন্দিন জীবনে চর্চা করলে উপার্জনে যেমন প্রাচুর্য আসে, তেমনি আয়ে নেমে আসে বিশেষ বরকত। নিচে এমনই ৫টি পরীক্ষিত আমল তুলে ধরা হলো:
১. আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা (সিলাতুর রাহিম)
রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের সাথে সুন্দর আচরণ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখা রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম বড় মাধ্যম। ব্যস্ততা কিংবা সামান্য মনোমালিন্যের কারণে আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে জীবনে বরকত কমে যায়। রসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত হোক এবং আয়ু বৃদ্ধি পাক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০৬৭)
২. কর্মক্ষেত্র ও ব্যবসায় সততা অবলম্বন
ব্যবসা-বাণিজ্য ও কাজের ক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা এবং পণ্যের প্রকৃত অবস্থা ক্রেতার কাছে সততার সাথে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। মিথ্যা বলা বা প্রতারণা সাময়িক লাভ আনলেও তা উপার্জনের আসল বরকত নষ্ট করে দেয়। মহানবী (সা.) বলেন, ‘ক্রয়-বিক্রয়কারী যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের চুক্তি বাতিলের সুযোগ থাকে। তারা যদি সত্য বলে এবং পণ্যের গুণ বা দোষ স্পষ্ট করে, তবে তাদের কেনাকাটায় বরকত দেওয়া হয়। আর তথ্য গোপন ও মিথ্যা বললে বরকত মুছে যায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০৭৯)
৩. বেশি বেশি ইস্তিগফার বা ক্ষমাপ্রার্থনা করা
মানুষের পাপকর্মের দরুন অনেক সময় রিজিক সংকুচিত হয়ে পড়ে। পক্ষান্তরে, আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা ও ইস্তিগফার করলে রিজিকের দুয়ার খুলে যায়। পবিত্র কোরআনে হজরত নুহ (আ.)-এর বক্তব্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি দিয়ে সমৃদ্ধ করবেন।’ (সুরা নুহ, আয়াত: ১০-১২)। হাদিসেও বর্ণিত আছে, ইস্তিগফারকে আঁকড়ে ধরলে আল্লাহ তাআলা ধারণাতীত উৎস থেকে রিজিক পৌঁছে দেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫১৮)
৪. নিয়মিত দান-সদকা করা
সাধারণ দৃষ্টিতে মনে হতে পারে দান করলে টাকা-পয়সা কমে যায়, কিন্তু শরিয়তের বিধান মতে দান-সদকায় সম্পদ বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং তাতে বরকত আসে। প্রিয় নবী (সা.) স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘দান করলে কারও সম্পদ কমে না...।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮৮)। হালাল আয় থেকে অভাবীদের সাহায্য করলে মহান আল্লাহ সেই সম্পদের সার্বিক হেফাজত করেন।
৫. সকালে দ্রুত কাজ শুরু করা
সকালের স্নিগ্ধ প্রহরে এবং দিনের শুরুর কাজে মহান আল্লাহ বিশেষ বরকত রেখে দিয়েছেন। অলসতা করে বেলা গড়িয়ে ঘুমিয়ে থাকলে সেই অফুরন্ত নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হতে হয়। রসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করেছিলেন, ‘হে আল্লাহ, আমার উম্মতের জন্য সকালের কাজে বরকত দিন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৬০৬)। এই হাদিসের বর্ণনাকারী সাহাবি সাখর আল-গামিদি (রা.) সকালে নিজের ব্যবসায়ের পণ্য পাঠাতেন, যার বরকতে তিনি বিপুল ধন-সম্পদের মালিক হয়েছিলেন।
বস্তুত, হালাল পন্থায় জীবিকা অন্বেষণ করাও একটি মহৎ ইবাদত। উপরোক্ত সুন্নাহভিত্তিক আমলগুলোর পাশাপাশি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখলে অল্প উপার্জনেও জীবনে কাঙ্ক্ষিত শান্তি লাভ করা সম্ভব।