সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নূর | সহজ বাংলা অনুবাদ ও নির্দেশিকা
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
১. এটি একটি বিশেষ সূরা, যা আমি নাজিল করেছি এবং এর বিধানসমূহকে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছি। এতে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ অবতীর্ণ করা হয়েছে, যাতে তোমরা শিক্ষা লাভ করতে পার।
২. ব্যভিচারী নারী ও পুরুষ—উভয়কেই ১০০টি করে বেত্রাঘাত কর। তোমরা যদি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক, তবে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে তাদের প্রতি দয়া বা সহানুভূতি যেন তোমাদের নিরুত্সাহিত না করে। আর মুমিনদের একটি দল যেন এই শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।
৩. ব্যভিচারী পুরুষ কেবল ব্যভিচারিণী অথবা অংশীবাদী (মুশরিকা) নারীকে ছাড়া বিয়ে করে না; অনুরূপভাবে ব্যভিচারিণী নারী কেবল ব্যভিচারী বা অংশীবাদী পুরুষকেই বিয়ে করে। আর মুমিনদের জন্য এসব আচরণ হারাম করা হয়েছে।
৪. যারা চরিত্রবান নারীর প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করে এবং চারজন সাক্ষী উপস্থিত করতে ব্যর্থ হয়, তাদের ৮০টি বেত্রাঘাত কর এবং ভবিষ্যতে কখনও তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না। তারা সত্যই অবাধ্য।
৫. তবে যারা এরপর তওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে নেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
৬-৯. যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ তোলে কিন্তু সে নিজে ছাড়া অন্য কোনো সাক্ষী নেই, সে চারবার আল্লাহর নামে শপথ করে সাক্ষ্য দেবে যে সে সত্যবাদী। আর পঞ্চমবার বলবে যে সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তবে তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক। অপরদিকে, স্ত্রী যদি চারবার আল্লাহর নামে শপথ করে বলে যে তার স্বামী মিথ্যাবাদী এবং পঞ্চমবার বলে যে তার স্বামী সত্যবাদী হলে তার ওপর আল্লাহর গজব নামুক, তবে স্ত্রী শাস্তি থেকে রক্ষা পাবে।
১০. তোমাদের ওপর যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত এবং আল্লাহ তওবা কবুলকারী ও প্রজ্ঞাময় না হতেন, তবে পরিণাম হতো অত্যন্ত ভয়াবহ।
১১-২০. যারা এই অপবাদ রটনা করেছে, তারা তো তোমাদেরই একটি দল। এটিকে তোমরা নিজেদের জন্য ক্ষতিকর মনে করো না, বরং এতে তোমাদের কল্যাণ রয়েছে। যে যতটুকু অপরাধ করেছে, সে তার শাস্তি পাবে। আর যে এতে মূল ভূমিকা পালন করেছে, তার জন্য রয়েছে মহাশাস্তি। মিথ্যা অপবাদ শুনে মুমিনদের উচিত ছিল নিজেদের লোক সম্পর্কে উত্তম ধারণা করা এবং এটিকে স্পষ্ট মিথ্যা বলা। শয়তান অনৈতিকতার দিকে আহ্বান জানায়, তাই শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ থেকে বিরত থেকো।
২১-২৬. নিজেদের আভিজাত্য বা আর্থিক প্রাচুর্যের দোহাই দিয়ে অভাবগ্রস্ত ও আত্মীয়দের সাহায্য করা থেকে বিরত থাকার কসম খাওয়া অনুচিত। ক্ষমা ও উদারতা প্রদর্শন করাই উত্তম। যারা সতী-সাধ্বী নারীদের ওপর অপবাদ দেয়, তারা ইহকাল ও পরকালে অভিশপ্ত। বিচার দিবসে মানুষের জিহ্বা, হাত ও পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে। চরিত্রহীন নারী চরিত্রহীন পুরুষের জন্য এবং চরিত্রবান নারী চরিত্রবান পুরুষের জন্য নির্ধারিত।
২৭-২৯. অনুমতি গ্রহণ ও সালাম জ্ঞাপন না করে অন্যের গৃহে প্রবেশ করো না। যদি সেখানে কেউ না থাকে তবে প্রবেশ কোরো না, আর যদি ফিরে যেতে বলা হয় তবে ফিরে যাও। এটিই তোমাদের জন্য অধিকতর পবিত্র পদ্ধতি।
৩০-৩১. মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের আদেশ দেওয়া হচ্ছে, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। নারীরা যেন নিজেদের সৌন্দর্য সাধারণ দৃশ্যমান অংশ ব্যতীত প্রকাশ না করে এবং বক্ষদেশ ওড়না দিয়ে আবৃত রাখে।
৩২-৩৪. সমাজে যারা বিবাহহীন এবং সচ্চরিত্র দাস-দাসী, তাদের বিয়ের ব্যবস্থা কর। দরিদ্র হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছলতা দান করবেন। আর যারা বিয়েতে অক্ষম, আল্লাহ সচ্ছল না করা পর্যন্ত তারা যেন আত্মসংযম বজায় রাখে।
৩৫. আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর জ্যোতি। তাঁর জ্যোতির উপমা যেন একটি কুলঙ্গি, যেখানে রয়েছে একটি প্রদীপ। প্রদীপটি কাঁচের পাত্রে সংরক্ষিত, যা উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো আলো ছড়ায়।
৩৬-৪৮. আল্লাহর স্মরণ, নামাজ কায়েম ও জাকাত আদায়ে যেসব ঈমানদার ব্যস্ত থাকে, তারা ব্যবসাবাণিজ্যের মোহ থেকে মুক্ত থাকে। তারা হাশরের সেই দিনকে ভয় করে যেদিন অন্তর ও দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। পক্ষান্তরে কাফেরদের কাজ মরুভূমির মরীচিকার মতো, যার কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই। আকাশ ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব কেবল আল্লাহরই।
৪৯-৬৪. সত্যের সামনে ঈমানদারদের একমাত্র বক্তব্য হলো 'আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম'। রসূলের (সা.) আদেশ পালন ও আনুগত্যের মাধ্যমেই হেদায়েত নিশ্চিত হয়। ঘরে প্রবেশের শিষ্টাচার, পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন নিয়ম ও সামাজিক শৃঙ্গলা রক্ষার বিষয়ে সূরা আন-নূরে বিস্তারিত নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।