সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা, খসড়া আইনে জনমতের আহ্বান
প্রায় সাড়ে চার দশক পর তৃণমূল পর্যায়ে স্থানীয় শাসন শক্তিশালী করতে পুনরায় ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে প্রবর্তিত এই ব্যবস্থার আদলে নতুন করে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রস্তাবিত এ কাঠামোর অধীনে প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিষদ গঠন এবং গ্রামের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণের সুপারিশ করা হয়েছে। আইনটি চূড়ান্ত করার আগে জনগণের মতামত চেয়ে খসড়াটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৮০ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনিক উদ্যোগে ‘স্বনির্ভর গ্রাম সরকার’ গঠিত হয়েছিল। তবে পরবর্তীকালে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ২০০৫ সালে দেশের উচ্চ আদালত থেকে অসাংবিধানিক ঘোষিত হওয়ায় এ ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে নতুন তৈরি করা খসড়ায় গ্রামীণ অবকাঠামোগত বিকাশ, সামাজিক অপরাধ (যেমন মাদক, চুরি, জুয়া ও নারী-শিশু নির্যাতন) রোধ করা এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা ও কৃষি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওয়ার্ডের নিবন্ধিত মোট ভোটারের অন্তত ১০ শতাংশের উপস্থিতিতে হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে সদস্য নির্বাচনের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বর্তমান স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সঙ্গে প্রস্তাবিত কাঠামোর কাজের দ্বৈততা ও সংঘাত নিয়ে নানা মহলে কিছুটা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দেশে ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদসহ একাধিক স্থানীয় সরকারের স্তর কার্যকর থাকায় নতুন কোনো স্তর যুক্ত না করে বিদ্যমান ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে আর্থিক ও প্রশাসনিকভাবে আরও ক্ষমতাবান করা বেশি জরুরি বলে অনেকে অভিমত দিয়েছেন। তা ছাড়া এই ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও স্বজনপ্রীতির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে আইনটি যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় না আটকে গ্রামীণ জনমানুষের ক্ষমতায়ন ও আত্মনির্ভরশীলতার সত্যিকারের মাধ্যম হয়, সে বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।