অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল
আলমডাঙ্গার জনপদে নতুন ভোরের হাতছানি তিন দশক পর ঘরের ছেলেকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত উপজেলাবাসী
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ ৩৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। ১৯৯১ সালে বড় গাংনী গ্রামের মিয়া মোহাম্মদ মনসুর আলী নির্বাচিত হওয়ার পর এই আসনের নেতৃত্ব মূলত চুয়াডাঙ্গা সদর কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছিল। ২০২৬ সালের ১৩শ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলমডাঙ্গার সন্তান অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর এখন কুমার নদ ও মাথাভাঙ্গা অববাহিকার এই প্রাচীন জনপদে বইছে উৎসবের আমেজ।
আলমডাঙ্গাবাসীর এই উচ্ছ্বাস কেবল রাজনৈতিক বিজয়ের নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বঞ্চনা থেকে মুক্তির এক নতুন আকাঙ্ক্ষা।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনটি আলমডাঙ্গা উপজেলা এবং সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হলেও গত প্রায় দুই দশকে এই অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণীত হয়েছে সদরকে কেন্দ্র করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আলমডাঙ্গার অনেক মৌলিক সমস্যা জাতীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জোরালোভাবে উপস্থাপিত হয়নি।
আলমডাঙ্গা বাজারের একজন প্রবীণ ব্যবসায়ী বলেন-
আমরা দীর্ঘদিন ধরে চুয়াডাঙ্গা সদরের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। এবার আলমডাঙ্গার সন্তানকে এমপি হিসেবে পেয়ে আমরা আশাবাদী যে, আমাদের ঘরের সমস্যাগুলো এখন সংসদ অধিবেশনে প্রতিধ্বনিত হবে।
আলমডাঙ্গাবাসীর প্রধান ও দীর্ঘদিনের দাবি হলো ১৮৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্যশৈলী মণ্ডিত দেশের প্রথম দ্বিতল রেলওয়ে স্টেশনটির আধুনিকায়ন। বর্তমানে জরাজীর্ণ ভবন, ভাঙা সিঁড়ি এবং মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়া এই স্টেশনটি নিয়ে ক্ষোভের শেষ নেই। প্ল্যাটফর্ম বর্ধিতকরণ এবং আধুনিক আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা। নতুন নির্বাচিত এমপির কাছে এটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশার জায়গা।
আলমডাঙ্গা পৌরসভা ও গ্রামীণ জনপদে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে জলাবদ্ধতা এক অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পৌর শহরের প্রায় প্রতিটি রাস্তায় সামান্য বৃষ্টি হলেই হাটুপানি জমে। এছাড়াও রাস্তাগুলোর অবস্থাও জড়াজির্ণ। স্থানীয়দের প্রধান প্রত্যাশাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার স্থাপন, একটি সরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও যুব কর্মসংস্থান কেন্দ্র, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন ও জরাজীর্ণ কালভার্ট সংস্কার, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন।
অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিয়েছেন। আলমডাঙ্গার বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ মনে করছেন, ব্যক্তিগত ইমেজ এবং আঞ্চলিক নেতৃত্বের টানেই ভোটাররা দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন।
তবে এই বিজয় যেমন আনন্দের, তেমনি তা দায়িত্বের দিক থেকে পাহাড়সম। আলমডাঙ্গা একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল হলেও এখানে পানের বরজ বা ভুট্টার চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। নতুন নেতৃত্ব যদি একটি হিমাগার ও আধুনিক বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেন, তবে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
আলমডাঙ্গার সাধারণ মানুষ এখন কেবল ভোটার নয়, তারা উন্নয়নের সরাসরি অংশীদার হতে চায়। ২০২৬-এর এই নির্বাচনোত্তর প্রেক্ষাপটে আলমডাঙ্গাবাসীর আকাশচুম্বী আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এই আসনটিকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়তে পারবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতত কুমার পাড়ের এই জনপদে বইছে পরিবর্তনের সুবাতাস।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন মহিলা দলের সভাপতি জলির বাড়িতে জামায়াতের মিছিল থেকে হামলার অভিযোগ
৮ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় নির্বাচনী সহিংসতা: জামায়াত কর্মী মিনারুলের হাতের রগ ও আঙুলের নার্ভ কর্তন
১১ ঘন্টা আগে
উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে নির্বাচন
১ দিন আগে