সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
পূর্বাচলে চার অবৈধ আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিএলডিএর কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান
বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএলডিএ) পূর্বাচল ও এর আশপাশের এলাকায় অননুমোদিত আবাসন প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে যে, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে অবৈধভাবে জমি কেনাবেচা এবং প্লট বরাদ্দের ফলে সাধারণ ক্রেতারা আর্থিক ও আইনি জটিলতায় পড়ছেন। একই সাথে, দেশের পরিকল্পিত নগরায়ণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বিএলডিএর সচিব এ কে এম নওশেরুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে পূর্বাচল এবং এর সংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত চারটি আবাসন প্রকল্পকে অনুমোদনহীন ও বেআইনি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলো হলো—ওয়েল কেয়ার হাউজিং, লন্ডন হাউজিং, এলেস্ট টাউন এবং আনন্দ হাউজিং।
বিএলডিএ তার বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানায়, এসব এলাকায় কিছু আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠেছে যার জন্য যথাযথ অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ছাড়পত্র নেই। নিয়মবহির্ভূতভাবে জমি বেচাকেনা, প্লট বরাদ্দ এবং অপরিকল্পিত ভূমি উন্নয়নের কাজ এসব প্রকল্পে চলছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বিশাল আর্থিক ক্ষতি ও আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে।
সংগঠনটির মতে, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম সরকারের সুপরিকল্পিত নগরায়ণ প্রক্রিয়া, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পথে গুরুতর বাধা সৃষ্টি করছে। উপরন্তু, আইন মেনে পরিচালিত বৈধ আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো এক অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে এবং তাদের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা হ্রাস পাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিএলডিএ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং প্রশাসনের কাছে পাঁচ দফা দাবি পেশ করেছে।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্পগুলোকে দ্রুত চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ; অবৈধভাবে প্লট বিক্রি ও বরাদ্দ বন্ধ করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা; সাধারণ ক্রেতাদের স্বার্থ ও বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; বৈধ আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি সমান সুযোগ এবং সুষ্ঠু ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি; এবং পূর্বাচল ও এর আশপাশের এলাকায় পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তদারকি জোরদার করা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আবাসন খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে আইন মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং জনস্বার্থ রক্ষায় এই দুটি বিষয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিএলডিএ জানিয়েছে, একটি সুপরিকল্পিত, নিরাপদ ও আইনসম্মত আবাসন খাত গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানে সংগঠনটি প্রস্তুত রয়েছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ইসলামী ব্যাংকের ৩,৩০৩ কোটি টাকা নিট লোকসান
২ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ভেঙে দেওয়া হলো দুটি ভাটার স্থাপনা
২ দিন আগে
বছরের শেষ নাগাদ বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের
২ দিন আগে