পিপিএমের দীপ্তির পর এবার ‘এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ’।। আলমডাঙ্গার সাহসী অধ্যায়ের স্বীকৃতি পেলেন সাতক্ষীরার ওসি মাসুদুর রহমান
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
পিপিএমের দীপ্তির পর এবার ‘এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ’।। আলমডাঙ্গার সাহসী অধ্যায়ের স্বীকৃতি পেলেন সাতক্ষীরার ওসি মাসুদুর রহমান
এক সময় আলমডাঙ্গার রাত মানেই ছিল আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা আর চাঞ্চল্যকর অপরাধের শঙ্কা। সেই অস্থির সময়ের ভেতর দাঁড়িয়ে যিনি সাহস, কৌশল আর নিরলস দায়িত্ববোধ দিয়ে আইনশৃঙ্খলার মানচিত্রে ফিরিয়েছিলেন স্বস্তির আলো— সেই পুলিশ কর্মকর্তা মুহা. মাসুদুর রহমান (পিপিএম) এবার অর্জন করলেন বাংলাদেশ পুলিশের আরেক মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি ‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ-২০২৫’।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ এর সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতোপূর্বে আলমডাঙ্গা থানায় কর্মরত থাকাকালীন দৃষ্টান্তমূলক সাহসিকতা, চৌকস নেতৃত্ব ও অপরাধ দমনে অসাধারণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
গত ১০ মে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস প্যারেড গ্রাউন্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সার্টিফিকেট ও মেডেল তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর তিনি আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বদলে যেতে শুরু করে থানার কার্যক্রমের গতি ও দৃশ্যপট। ধারাবাহিকভাবে একের পর এক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, আন্তঃজেলা ডাকাত চক্র দমন, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, দস্যুতা ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং শতাধিক আসামি গ্রেফতারের ঘটনায় আলোচনায় আসে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ।
বিশেষ করে ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তার নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত প্রশংসিত। অনেক ঘটনায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আসামি শনাক্ত ও গ্রেফতার করে পুলিশ। অপরাধ দমনে তার সাহসিকতাপূর্ণ ভূমিকা স্থানীয় মানুষের মনে তৈরি করে আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অসামান্য অবদানের কারণে তিনি মানবাধিকার পুরস্কারের জন্যও মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
তার এই অনন্য কর্মদক্ষতার ধারাবাহিক স্বীকৃতি হিসেবে এর আগেই তিনি অর্জন করেন প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম)। সেবা, সাহসিকতা, সততা ও জননিরাপত্তায় বিশেষ অবদানের জন্য পুলিশ সপ্তাহ-২০২৫ এ তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। সে সময় সারাদেশে থানার অফিসার ইনচার্জদের মধ্যে একমাত্র তিনিই এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছিল।
পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় একাধিকবার তিনি বলেছেন, “এ অর্জন শুধু আমার একার নয়, এটি থানার প্রতিটি পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত শ্রম ও মানুষের ভালোবাসার ফল।” দায়িত্বকে তিনি সবসময় মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন বলেও সহকর্মীরা জানান।
২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি সাতক্ষীরা সদর থানায় যোগদান করেন। তবে আলমডাঙ্গার মানুষের স্মৃতিতে এখনো রয়ে গেছে তার সাহসী অভিযানের গল্প, গভীর রাতে অপরাধীদের ধরতে ছুটে চলা পুলিশি তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার মানবিক আচরণ।
সহকর্মীদের ভাষ্য, কঠোর প্রশাসনিক মনোভাবের পাশাপাশি কোমল মানবিকতা— এই দুইয়ের মিশেলে ওসি মাসুদুর রহমান হয়ে উঠেছিলেন এক ব্যতিক্রমী পুলিশ কর্মকর্তা। অপরাধের বিরুদ্ধে যেমন ছিলেন কঠোর, তেমনি সাধারণ মানুষের বিপদে ছিলেন সহজপ্রাপ্য একজন অভিভাবকের মতো।
১৯৮২ সালের ১৫ অক্টোবর মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার ঘাসিয়ারা গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মু. মাসুদুর রহমান। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেন। ২০০৭ সালে আউটসাইড ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনে চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ এ সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আলমডাঙ্গার অনেক মানুষের চোখে তিনি কেবল একজন পুলিশ কর্মকর্তা নন, বরং অস্থির সময়ের এক নির্ভরতার নাম। আর তাই পিপিএমের গৌরব ছুঁয়ে এবার ‘এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ’ অর্জনের সংবাদে আলমডাঙ্গাজুড়ে আবারও উচ্চারিত হচ্ছে এক পরিচিত নাম— মাসুদুর রহমান।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় কুমারী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহিদুল ইসলামের পক্ষে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
৮ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় মাদক মামলার পলাতক আসামি লিজা এবং ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেফতার
৮ ঘন্টা আগে
অটিজম ও বিশেষ শিশুদের কল্যাণে আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত ইয়াশা সোবহান
৮ ঘন্টা আগে