বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটিতে আলমডাঙ্গার দুই কৃতি ক্রীড়াবিদ কাফি ও লিন্টু
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটিতে আলমডাঙ্গার দুই কৃতি ক্রীড়াবিদ কাফি ও লিন্টু
রহমান মুকুল: বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ঘোষিত বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের ২৯ সদস্যবিশিষ্ট নবগঠিত অ্যাডহক কমিটিতে স্থান পেয়েছেন আলমডাঙ্গার দুই কৃতি ক্রীড়াবিদ—সাবেক দ্রুততম মানব আব্দুল্লাহ-হেল কাফি এবং সাবেক জাতীয় অ্যাথলেট ও ক্রীড়া সংগঠক শেখ আমিনুল ইসলাম লিন্টু। এ খবরে আলমডাঙ্গাজুড়ে বইছে আনন্দের হিল্লোল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ক্রীড়াঙ্গনে অভিনন্দনের জোয়ার নেমেছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখের প্রজ্ঞাপনে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। বর্তমান সরকারের ক্রীড়াঙ্গনের পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে আগের অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ফেডারেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে নবগঠিত কমিটিকে।
আলমডাঙ্গা পৌর শহরের এরশাদপুর গ্রামের সন্তান আব্দুল্লাহ-হেল কাফি এক সময় ছিলেন বাংলাদেশের ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের উজ্জ্বল নক্ষত্র। দেশের দ্রুততম মানব হিসেবে অসংখ্য সাফল্যের পর তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন আন্তর্জাতিক মানের কোচ হিসেবে। ভারতের পাতিয়ালা, জার্মানির লিপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর ও গ্রিসের এথেন্সে কোচিং শিক্ষা গ্রহণ করেছেন তিনি।
২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে কোচ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৭ সাল থেকে একাধিকবার জাতীয় দলের কোচ হিসেবে এসএ গেমসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিকে বাংলাদেশের অ্যাথলেটিক্স দলের কোচের দায়িত্বও পালন করেন। বর্তমানে তিনি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত।
অন্যদিকে, আলমডাঙ্গা শহরের মিয়াপাড়ার কৃতি সন্তান শেখ আমিনুল ইসলাম লিন্টু ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারের উত্তরসূরি। তার এক সহোদর শেখ শরিফুল ইসলাম জাতীয় ফুটবল দলের পরিচিত মুখ ছিলেন। অপর সহোদর শেখ আব্দুল জব্বার দীর্ঘদিন আলমডাঙ্গা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শেখ আমিনুল ইসলাম লিন্টু চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, খুলনা, রাজশাহী ও ঢাকায় নিয়মিত ফুটবল খেলেছেন। জাতীয় পর্যায়ে অ্যাথলেটিক্সেও অংশগ্রহণ করেছেন। চীন থেকে ফুটবল কোচিং ডিপ্লোমা, ভারতের পাতিয়ালা থেকে স্পোর্টস সায়েন্স ডিপ্লোমা এবং ইংল্যান্ডের লন্ডন থেকে স্পোর্টস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কোর্স সম্পন্ন করেছেন। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা থেকে লেভেল-২, ৩ ও ৪ কোচিং সম্পন্ন করেন। দক্ষিণ এশীয় গেমস, গথিয়া কাপসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টেকনিক্যাল অফিসিয়াল ও দল ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ইন ফিজিক্যাল এডুকেশন সম্পন্ন করেছেন। ২০২৩ সালের পর টানা চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের কমিটিতে জায়গা পেলেন তিনি।
নবগঠিত কমিটির নেতৃত্বে যারা২৯ সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হয়েছেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জাবের। সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন ইঞ্জি. মো. সাবির মোস্তফা, ড. ফায়সাল মোসেস, ওমর গণি চৌধুরী, মো. ইকবাল হোসেন ও শাহ আলম। সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন, যুগ্ম সম্পাদক মামুনুর রশীদ ও মাহবুবুল আলম, কোষাধ্যক্ষ মো. নাসিরুল হক। সদস্য হিসেবে রয়েছেন মো. আনিসুর হক, বিল্লাল হোসেন, মো. আবুল গনি, বজলুর রহমান সানিক, মো. ইকবাল হোসেন, ফারুক খান চৌধুরী, মো. মতিউর আলম, আব্দুল্লাহ-হেল কাফি, মো. হেলাল ফরিদ, এস এম সাইফুর রহমান, কোহিনুর খান চুন্নু, শেখ আমিনুল ইসলাম, মহিউদ্দিন আহমেদ মোশাররফ, আহমেদুল হক, নাজিয়া সুলতান রুমী, মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, এস.এম. জহিরুল হক ও আজম-আলী।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রথম ধাপে একযোগে ২৭টি ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নিষ্ঠা, মেধা ও অভিজ্ঞতার স্বাক্ষর রাখা আলমডাঙ্গার দুই কৃতী সন্তান জাতীয় পর্যায়ে একসঙ্গে দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় ক্রীড়ামোদী মানুষ এটিকে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আলমডাঙ্গার ক্রীড়া ইতিহাসের একটি গৌরবময় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। তাদের হাত ধরে জাতীয় অ্যাথলেটিক্স আরও গতিশীল হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন আলমডাঙ্গাবাসীর।